বাংলা চলচ্চিত্র জগতে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। বর্ষীয়ান পরিচালক অনীক দত্তের আকস্মিক মৃত্যুর খবরে স্তব্ধ টলিউড। বুধবার দুপুরে আচমকাই সামনে আসে এই দুঃসংবাদ। জানা যায়, আবাসনের ছাদ থেকে পড়ে গুরুতর জখম হন তিনি। দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও চিকিৎসকদের আর কিছু করার সুযোগ মেলেনি।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, পরিচালকের কাছ থেকে একটি সুইসাইড নোটও উদ্ধার হয়েছে। সেখানে লেখা ছিল, তাঁর মৃত্যুর জন্য কাউকে দায়ী করা যাবে না। তবে ঘটনাটি আত্মহত্যা নাকি অন্য কোনও দুর্ঘটনা, তা নিয়ে এখনও স্পষ্ট কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছতে পারেনি তদন্তকারী সংস্থা। পুরো বিষয়টি ঘিরে তৈরি হয়েছে একাধিক প্রশ্ন।
হাসপাতাল সূত্রে খবর, অনীক দত্তকে যখন নিয়ে আসা হয়, তখন তাঁর মাথায় মারাত্মক আঘাত ছিল। শরীরের ভিতরে ব্যাপক রক্তক্ষরণ হচ্ছিল। চিকিৎসকেরা জানান, মাথার চোটের পাশাপাশি ইন্টারনাল হ্যামারেজও হয়েছিল। পরীক্ষা করার পর তাঁরা জানান, হাসপাতালে পৌঁছনোর আগেই মৃত্যু হয়েছিল পরিচালকের।
পরিবারের তরফে জানা গিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরেই শারীরিক এবং মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন অনীক দত্ত। অবসাদজনিত সমস্যার চিকিৎসাও চলছিল। যে চিকিৎসক প্রথম তাঁকে পরীক্ষা করেন, তদন্তকারীরা ইতিমধ্যেই তাঁর বয়ান নথিবদ্ধ করেছেন।
বেসরকারি হাসপাতালে প্রাথমিক পরীক্ষার পর পরিচালকের মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় এসএসকেএম হাসপাতালে। সেখানে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। পরিবারের তরফে জানানো হয়েছে, পরিচালকের কন্যা শহরে পৌঁছনোর পরই শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হবে।
বিজ্ঞাপনের জগৎ থেকে নিজের কর্মজীবন শুরু করেছিলেন অনীক দত্ত। পরে চলচ্চিত্র পরিচালনায় এসে তৈরি করেন নিজস্ব পরিচিতি। ২০১২ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘ভূতের ভবিষ্যৎ’ তাঁকে ব্যাপক জনপ্রিয়তা এনে দেয়। প্রথম ছবিতেই তিনি দর্শকদের নজর কেড়েছিলেন।
সত্যজিৎ রায়ের কাজ থেকে অনুপ্রাণিত হলেও সময়ের সঙ্গে নিজের আলাদা চলচ্চিত্রভাষা গড়ে তুলেছিলেন তিনি। ‘আশ্চর্য প্রদীপ’, ‘অপরাজিত’, ‘বরুণবাবুর বন্ধু’-র মতো ছবিও প্রশংসিত হয়েছিল দর্শক ও সমালোচকদের কাছে। তাঁর ছবিতে সামাজিক ও রাজনৈতিক বক্তব্যের স্পষ্ট উপস্থিতি দেখা যেত। ব্যক্তিগত মতাদর্শ নিয়েও কখনও রাখঢাক করেননি তিনি।
২০২৫ সালের পুজোয় মুক্তি পেয়েছিল তাঁর শেষ ছবি ‘যত কাণ্ড কলকাতাতেই’। তখন কেউ ভাবতেও পারেননি, সেটাই শেষ হয়ে থাকবে পরিচালকের চলচ্চিত্রযাত্রার অধ্যায়।
অনীক দত্তের মৃত্যু শুধু একটি ব্যক্তিগত ক্ষতি নয়, বাংলা সিনেমার জগতেও এক বড় শূন্যতা তৈরি করল। তাঁর কাজ, ভাবনা এবং স্বতন্ত্র সিনেমার ভাষা দীর্ঘদিন মনে রাখবে দর্শক।

Hello, I am BB. I have been working in blogging for more than five years.