পশ্চিমবঙ্গের নতুন মন্ত্রিসভার শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে অন্যতম আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠলেন আউশগ্রামের বিধায়ক কলিতা মাজি। দীর্ঘদিন সাধারণ মানুষের বাড়িতে পরিচারিকার কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করা এই নারী আজ রাজ্যের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে নতুন দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। তাঁর জীবনের এই উত্থান অনেকের কাছেই সংগ্রাম ও অধ্যবসায়ের এক অনন্য উদাহরণ।
পূর্ব বর্ধমান জেলার গুসকরা শহরের মাঝপুকুর পাড় এলাকার বাসিন্দা কলিতা মাজি তপশিলি জাতিভুক্ত পরিবারের সদস্য। রাজনৈতিক জীবনে প্রবেশের আগে তিনি স্থানীয় বিভিন্ন বাড়িতে বাসন মাজা, কাপড় কাচা এবং ঘর পরিষ্কারের মতো কাজ করতেন। আর্থিক সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও সমাজের সঙ্গে তাঁর নিবিড় যোগাযোগই তাঁকে সাধারণ মানুষের সমস্যার কাছাকাছি নিয়ে আসে।
পরবর্তীকালে তিনি আউশগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্র থেকে নির্বাচিত হয়ে বিধায়ক হন। তবে তাঁর নিজের কথাতেই স্পষ্ট, বিধায়ক হওয়ার স্বপ্নও তিনি কোনওদিন দেখেননি। মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, জীবনে এত বড় দায়িত্ব পাওয়ার কথা কখনও কল্পনাও করেননি।
নতুন মন্ত্রী হিসেবে তাঁর দায়িত্ব কী হবে, তা এখনও নির্ধারিত হয়নি। তবুও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে বলতে গিয়ে কলিতা মাজি জানান, এতদিন তিনি মূলত আউশগ্রামের মানুষের কথা ভেবে কাজ করেছেন। এখন মন্ত্রী হওয়ার ফলে তাঁর দায়িত্বের পরিধি অনেক বেড়ে গেছে। এবার তাঁকে গোটা পশ্চিমবঙ্গের মানুষের কথা মাথায় রেখে কাজ করতে হবে।
রাজ্যের নতুন মন্ত্রিসভায় প্রতিমন্ত্রী হিসেবে তাঁর অন্তর্ভুক্তি রাজনৈতিক মহলেও বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। কারণ, সমাজের একেবারে প্রান্তিক স্তর থেকে উঠে এসে প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে পৌঁছনো খুব কম মানুষের পক্ষেই সম্ভব হয়। কলিতা মাজির এই সাফল্য তাই শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং সমাজের পিছিয়ে পড়া অংশের মানুষের কাছেও এক অনুপ্রেরণার গল্প।
এদিকে নতুন মন্ত্রিসভায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে একাধিক পূর্ণমন্ত্রী, স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী এবং প্রতিমন্ত্রী শপথ গ্রহণ করেছেন। পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে অগ্নিমিত্রা পল, দিলীপ ঘোষ, নিশীথ প্রামাণিক, অর্জুন সিং, স্বপন দাশগুপ্ত-সহ একাধিক নেতা দায়িত্ব পেয়েছেন। পাশাপাশি মালতী রাভা রায়, ইন্দ্রনীল খাঁ ও রাজেশ মাহাতা স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন।
প্রতিমন্ত্রীদের তালিকায় কলিতা মাজির পাশাপাশি জুয়েল মুর্মু, হরেকৃষ্ণ বেরা, অশোক দিন্দা, শান্তনু প্রামাণিক, মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্র, পূর্ণিমা চক্রবর্তী, কৌশিক চৌধুরী, গার্গী দাস ঘোষসহ আরও বহু নাম রয়েছে।
এক সময় যাঁর দিন শুরু হতো অন্যের বাড়ির কাজ দিয়ে, আজ তাঁর কাঁধে রাজ্যের প্রশাসনিক দায়িত্ব। কলিতা মাজির এই যাত্রাপথ দেখিয়ে দিল, কঠোর পরিশ্রম, মানুষের সঙ্গে সংযোগ এবং সুযোগের সদ্ব্যবহার একজন মানুষের জীবনকে কতটা বদলে দিতে পারে।

Hello, I am BB. I have been working in blogging for more than five years.