মগরার তরুণ নেটপ্রভাবী সায়নী চক্রবর্তীর অস্বাভাবিক মৃত্যুকে ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সমাজমাধ্যমে জনপ্রিয় এই তরুণীর মৃত্যু নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। এরই মধ্যে সায়নীর মা মলি চক্রবর্তী মেয়ের মৃত্যুকে ঘিরে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অভিযোগ সামনে এনেছেন।
মলির দাবি, পরিবারের কেউই বুঝতে পারেননি যে সায়নী এত বড় মানসিক চাপে ছিলেন। তিনি জানান, সায়নী স্বভাবতই প্রাণবন্ত ও হাসিখুশি মেয়ে ছিলেন। পশুপাখির প্রতি তাঁর বিশেষ টান ছিল এবং সমাজমাধ্যমে সেই বিষয়ক ভিডিওর মাধ্যমে তিনি পরিচিতি পেয়েছিলেন। সম্প্রতি আইন বিষয়ে স্নাতকও সম্পন্ন করেছিলেন তিনি।
পরিবারের অভিযোগ, মৃত্যুর আগে সায়নী তাঁর প্রেমিকের বাড়িতে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে ফিরে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন বলে জানা গেছে। মলির বক্তব্য, পরে সায়নীর বন্ধুদের কাছ থেকে তিনি জানতে পারেন যে মেয়েকে অপমান ও হেনস্থার মুখোমুখি হতে হয়েছিল। যদিও জীবদ্দশায় সায়নী এসব বিষয়ে পরিবারের কাউকে কিছু জানাননি।
মায়ের কথায়, মেয়ের মোবাইল ফোনের বিভিন্ন বার্তা ও তথ্য খতিয়ে দেখে এমন কিছু বিষয় সামনে এসেছে, যা তাঁদের উদ্বিগ্ন করেছে। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। পরিবারের আশা, তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা সামনে আসবে এবং প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সায়নীর পরিবারের দাবি, প্রায় চার বছর ধরে একটি সম্পর্কের মধ্যে ছিলেন তিনি। দুই পরিবারই সেই সম্পর্ক সম্পর্কে অবগত ছিল। তবে পরবর্তীকালে সম্পর্ক নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছিল বলে জানা গেছে। সায়নীর বন্ধুদের কাছ থেকে পরিবার জানতে পেরেছে যে সম্পর্কের ক্ষেত্রে নানা ধরনের সমস্যা দেখা দিয়েছিল এবং সায়নী মানসিকভাবে চাপে ছিলেন।
মলির আরও অভিযোগ, মেয়ের উপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয়েছিল। তিনি দাবি করেন, এসব ঘটনা পরিবারের অজানাই ছিল। মেয়ের ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে অনেক পরিশ্রম করেছিলেন তাঁরা, কিন্তু হঠাৎ এই মৃত্যুর ঘটনায় পরিবার সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে।
সায়নী শুধু পরিবারের সদস্যদের কাছেই নয়, তাঁর পোষ্য প্রাণীদের কাছেও অত্যন্ত প্রিয় ছিলেন বলে জানিয়েছেন তাঁর মা। মেয়ের অনুপস্থিতি এখনও মেনে নিতে পারছেন না তিনি। একই সঙ্গে তিনি প্রশাসন ও পুলিশের উপর আস্থা রেখে নিরপেক্ষ তদন্ত এবং ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন।
অন্যদিকে, তদন্তকারী সংস্থার পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত ঘটনার কারণ বা তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। ফলে সায়নীর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং এর পিছনের সম্ভাব্য ঘটনাপ্রবাহ জানতে তদন্তের ফলাফলের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে পরিবার ও সাধারণ মানুষ।

Hello friends, Myself Biplab. I have been writing horoscopes since 2019. Since 2022, I have also been writing about entertainment, lifestyle, and trending news.