সঙ্গীতচর্চা শুধু সুর বা তাল শেখার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; একজন শিল্পীর শারীরিক ও মানসিক সুস্থতাও তাঁর পারফরম্যান্সের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। এই বিষয়টিকেই বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন বিশিষ্ট সঙ্গীতশিল্পী ইমন চক্রবর্তী। তাঁর মতে, কণ্ঠকে শক্তিশালী ও দীর্ঘসময় কার্যকর রাখতে নিয়মিত যোগব্যায়াম, প্রাণায়াম এবং ধ্যানের অভ্যাস অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।
সম্প্রতি নিজের সঙ্গীত শিক্ষাকেন্দ্রে ছাত্রছাত্রীদের প্রশিক্ষণের সময় ইমন কণ্ঠচর্চার পাশাপাশি শারীরিক ফিটনেসের ওপরও জোর দিচ্ছেন। গানের রেওয়াজের সঙ্গে যোগাসনের বিভিন্ন অনুশীলন যুক্ত করে তিনি শিক্ষার্থীদের বোঝানোর চেষ্টা করছেন যে, ভালো গানের জন্য শুধু সুরের অনুশীলন যথেষ্ট নয়; শরীরকেও সমানভাবে প্রস্তুত রাখতে হয়।
ইমনের মতে, শরীরের ‘কোর’ বা কেন্দ্রীয় পেশিগুলি শক্তিশালী না হলে তার প্রভাব কণ্ঠস্বরের ওপর পড়তে পারে। বিশেষ করে পেট ও কোমরের আশপাশের পেশি শ্বাস নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। একজন গায়ক বা গায়িকার জন্য দীর্ঘসময় ধরে একই মানের কণ্ঠ বজায় রাখতে এই পেশিগুলির সক্ষমতা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। তাই তিনি নিয়মিত কোর-স্ট্রেন্থ বাড়ানোর ব্যায়াম করার পরামর্শ দেন।
তিনি আরও মনে করেন, ভারতীয় সঙ্গীতের প্রাচীন শিক্ষাপদ্ধতিতেও শ্বাস এবং কণ্ঠের সম্পর্ককে অত্যন্ত গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতায় তিনি উপলব্ধি করেছেন যে, শরীর যত শক্তিশালী ও নিয়ন্ত্রিত হবে, ততই কণ্ঠস্বর দৃঢ় ও স্থিতিশীল হবে। সেই কারণেই তিনি সহশিল্পী এবং শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন কিছুটা সময় যোগব্যায়াম, প্রাণায়াম ও ধ্যানের জন্য বরাদ্দ রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।
শৈশব থেকে ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীত এবং রবীন্দ্রসঙ্গীতের প্রশিক্ষণ নেওয়া ইমন সাম্প্রতিক সময়ে পাশ্চাত্য সঙ্গীতের পাঠও গ্রহণ করছেন। তাঁর বক্তব্য, এই নতুন শিক্ষার মাধ্যমে তিনি কণ্ঠের যত্ন, শ্বাস নিয়ন্ত্রণ এবং পারফরম্যান্সের প্রস্তুতি সম্পর্কে অনেক নতুন বিষয় জানতে পেরেছেন। সেই অভিজ্ঞতাগুলিই তিনি নিজের ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে ভাগ করে নিচ্ছেন।
একজন শিল্পীকে মঞ্চে অনেক সময় একটানা কয়েক ঘণ্টা গান পরিবেশন করতে হয়। ফলে কেবল সুরে দক্ষ হওয়াই যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন দীর্ঘক্ষণ শ্বাস নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা এবং শারীরিক সহনশীলতা। ইমন মনে করেন, নিয়মিত অনুশীলনের মাধ্যমে এই দক্ষতা অর্জন করা সম্ভব। তাই তিনি শিক্ষার্থীদের শুধু গান শেখান না, বরং কীভাবে নিজেদের শারীরিকভাবে প্রস্তুত রাখতে হবে, সে বিষয়েও সচেতন করেন।
তাঁর অভিজ্ঞতায়, ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের রেওয়াজ সুরের শুদ্ধতা ও স্বরনিয়ন্ত্রণ গড়ে তুলতে অত্যন্ত কার্যকর। তবে দীর্ঘ শ্বাস ধরে রেখে গান গাওয়ার যে বিশেষ কৌশল, তা পাশ্চাত্য সঙ্গীতের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আরও গভীরভাবে আয়ত্ত করা যায়। এই দুই ধারার শিক্ষার সমন্বয় একজন শিল্পীর কণ্ঠকে আরও পরিণত ও দক্ষ করে তুলতে সাহায্য করতে পারে।
সব মিলিয়ে, ইমন চক্রবর্তীর বার্তা স্পষ্ট—সঙ্গীতচর্চার পাশাপাশি শরীর ও মনের পরিচর্যাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত যোগব্যায়াম, প্রাণায়াম, ধ্যান এবং সঠিক কণ্ঠসাধনা একজন শিল্পীর পারফরম্যান্সকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিতে পারে।

Hello, I am BB. I have been working in blogging for more than five years.