আরজি কর আন্দোলনের অন্যতম পরিচিত মুখ আসফাকুল্লা নাইয়া ফের রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসকে নিশানা করলেন। এবার তাঁর কটাক্ষের কেন্দ্রে রয়েছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং দলের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়।
সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের শারীরিক অবস্থা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়নি, বরং বাড়িতেই চিকিৎসা চলছে। একইসঙ্গে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ও শারীরিকভাবে আক্রান্ত হওয়ার অভিযোগ তুলেছেন। এই প্রেক্ষাপটে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে ব্যঙ্গাত্মক সুরে মন্তব্য করেন আসফাকুল্লা।
তিনি বলেন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বা কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের চিকিৎসার প্রয়োজন হলে তাঁরা তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন। বিনামূল্যে চিকিৎসা শিবির পরিচালনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি দাবি করেন, বহু রোগীকে বিনা খরচে পরিষেবা দেওয়ার অভিজ্ঞতা তাঁর রয়েছে। পাশাপাশি অতীতে তাঁর বিরুদ্ধে যে প্রশাসনিক পদক্ষেপ হয়েছিল, সেই প্রসঙ্গও উত্থাপন করেন তিনি। তাঁর বক্তব্যে ইঙ্গিত ছিল, যাঁরা একসময় তাঁর চিকিৎসা সংক্রান্ত নথিপত্র ও যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন, তাঁরা চাইলে এখন সেই বিষয়গুলিও একসঙ্গে দেখে নিতে পারেন।
উল্লেখ্য, আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের তরুণী চিকিৎসকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে যে ব্যাপক আন্দোলন গড়ে উঠেছিল, সেখানে অন্যতম সক্রিয় মুখ ছিলেন আসফাকুল্লা নাইয়া। সেই আন্দোলন রাজ্য রাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলেছিল এবং সরকারকে অস্বস্তির মুখে ফেলেছিল বলে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মত।
আন্দোলনের সময় এবং পরবর্তী পর্যায়ে আন্দোলনকারী জুনিয়র চিকিৎসকদের একাংশ প্রশাসনের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলেছিলেন। তাঁদের দাবি ছিল, বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে এবং পেশাগত ক্ষেত্রেও অসুবিধার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। যদিও সরকারিভাবে সেই অভিযোগগুলির ভিন্ন ব্যাখ্যাও দেওয়া হয়েছিল।
এদিকে, গত বছর আসফাকুল্লা নাইয়ার বাড়িতে পুলিশি তল্লাশি এবং তাঁর চিকিৎসা-সংক্রান্ত কার্যকলাপ নিয়ে প্রশাসনিক তদন্তও রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছিল। অভিযোগ উঠেছিল, তিনি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না হয়েও সেই পরিচয়ে চিকিৎসা পরিষেবা দিচ্ছেন। এই বিষয়ে তাঁকে নোটিশ পাঠানো হয়েছিল বলে জানা যায়। পরে বিষয়টি আইনি পর্যায়েও পৌঁছায় এবং আদালতের দ্বারস্থ হন আসফাকুল্লা।
বর্তমান পরিস্থিতিতে অভিষেক ও কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে লক্ষ্য করে আসফাকুল্লার এই মন্তব্য নতুন করে রাজনৈতিক তরজা উসকে দিয়েছে। শাসকদল ও আন্দোলনের মুখদের মধ্যে পুরনো দ্বন্দ্ব যে এখনও শেষ হয়নি, তাঁরই আরেকটি প্রতিফলন হিসেবে এই ঘটনাকে দেখছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ।

Hello, I am BB. I have been working in blogging for more than five years.