কলকাতায় লিয়োনেল মেসির সফরকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্ক নতুন মোড় নিল। যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে আয়োজিত সেই বহুল আলোচিত অনুষ্ঠানে বিশৃঙ্খলার অভিযোগে এবার গ্রেফতারির আশঙ্কা প্রকাশ করে আগাম জামিনের আবেদন করেছেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। সোমবার বারাসত আদালতে তাঁর পক্ষ থেকে এই আবেদন জমা দেওয়া হয়েছে।
এর আগে মেসির সফরের মূল আয়োজকদের অন্যতম শতদ্রু দত্তের অভিযোগের ভিত্তিতে অরূপ বিশ্বাস-সহ কয়েক জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে বিধাননগর দক্ষিণ থানার পুলিশ। অভিযোগের ভিত্তিতে একাধিক ধারায় এফআইআর নথিভুক্ত হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মামলায় অভিন্ন উদ্দেশ্যে অপরাধ সংঘটনের অভিযোগ, তোলাবাজি, প্রতারণা, অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শন এবং অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের মতো ধারাগুলি যুক্ত করা হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত মেসির কলকাতা সফরকে কেন্দ্র করে আয়োজিত অনুষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা নিয়ে। আয়োজক শতদ্রু দত্ত দাবি করেছেন, অনুষ্ঠান উপলক্ষে বিপুল সংখ্যক কমপ্লিমেন্টারি টিকিট তাঁর কাছ থেকে দাবি করা হয়েছিল। অভিযোগ অনুযায়ী, নির্দিষ্ট সংখ্যক টিকিট না দিলে বা নির্দেশ না মানলে অনুষ্ঠান বাতিল করে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছিল। তাঁর আরও দাবি, হাজার হাজার বিনামূল্যের টিকিট সংগ্রহের পর সেগুলির একাংশ কালোবাজারে বিক্রি করা হয়।
শতদ্রুর অভিযোগ, অনুষ্ঠানের দিন মাঠে প্রবেশ নিয়ন্ত্রণে গুরুতর ত্রুটি ছিল। অনুমোদন ছাড়াই বহু মানুষ মাঠে ঢুকে পড়েন। ফলে যাঁরা অর্থের বিনিময়ে টিকিট কিনেছিলেন, তাঁদের অনেকেই মেসিকে কাছ থেকে দেখতে পারেননি। পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং চরম বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। অভিযোগ, সেই কারণে মেসি এবং তাঁর সফরসঙ্গীদের নির্ধারিত কর্মসূচি সম্পূর্ণ করা সম্ভব হয়নি।
মেসি সফর ঘিরে বিশৃঙ্খলার ঘটনায় অরূপ বিশ্বাসের ভূমিকা নিয়ে শুরু থেকেই নানা প্রশ্ন উঠেছিল। ঘটনার পর তাঁর বিরুদ্ধে সমালোচনার ঝড় ওঠে রাজনৈতিক মহল থেকে শুরু করে ক্রীড়াপ্রেমীদের একাংশের মধ্যেও। তদন্ত শুরু হওয়ার পর তিনি ক্রীড়ামন্ত্রীর দায়িত্ব থেকেও সরে দাঁড়িয়েছিলেন বলে জানা যায়।
তদন্ত চলাকালীন আদালতে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল যে, প্রায় ৩৫ হাজার দর্শক টিকিট কেটে অনুষ্ঠানে উপস্থিত হওয়ার কথা ছিল। টিকিট বিক্রি থেকে প্রায় ১৯ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছিল বলেও তদন্তকারী সংস্থার দাবি।
এদিকে রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর ঘটনাটি আবারও আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে। নতুন সরকারের আমলে মামলার অগ্রগতি এবং তদন্তের দিকনির্দেশনা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। আগাম জামিনের আবেদন নিয়ে আদালতের সিদ্ধান্ত এখন এই মামলার পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
আইনজীবী মহলের একাংশের মতে, মামলার গুরুত্ব এবং অভিযোগের প্রকৃতি বিবেচনা করে আদালত তদন্তের অগ্রগতি, অভিযোগের প্রাথমিক ভিত্তি এবং অভিযুক্তের অবস্থানসহ একাধিক বিষয় খতিয়ে দেখেই আগাম জামিনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।

Hello friends, Myself Biplab. I have been writing horoscopes since 2019. Since 2022, I have also been writing about entertainment, lifestyle, and trending news.