বৈদিক জ্যোতিষশাস্ত্রে শনিকে কর্মফল, শৃঙ্খলা এবং ন্যায়ের প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। শনির অবস্থান বা গতি পরিবর্তনকে তাই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জ্যোতিষীয় ঘটনা বলে মনে করা হয়। ২০২৬ সালে এমনই একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন ঘটতে চলেছে, যখন শনি ২৭ জুলাই থেকে বক্রী বা বিপরীত গতিতে চলা শুরু করবে। এই অবস্থা চলবে ১১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত, অর্থাৎ প্রায় ১৩৮ দিন।
জ্যোতিষ মতে, বর্তমানে মেষ, কুম্ভ এবং মীন রাশির জাতকদের ওপর শনির সাড়েসাতির প্রভাব সক্রিয় রয়েছে। সাধারণভাবে শনির বক্রী অবস্থাকে চ্যালেঞ্জপূর্ণ সময় হিসেবে দেখা হলেও, কিছু রাশির ক্ষেত্রে এটি ইতিবাচক ফলও বয়ে আনতে পারে। বিশেষ করে কুম্ভ ও মীন রাশির জাতকদের জন্য এই সময়টি তুলনামূলকভাবে স্বস্তিদায়ক হতে পারে বলে মনে করছেন জ্যোতিষীরা।
কুম্ভ রাশি: চাপ কমে মিলতে পারে নতুন সুযোগ

কুম্ভ রাশির জাতকদের ক্ষেত্রে বর্তমানে সাড়েসাতির শেষ পর্যায় চলছে। দীর্ঘদিন ধরে মানসিক উদ্বেগ, কর্মক্ষেত্রে বাধা কিংবা অকারণ দুশ্চিন্তার মতো সমস্যা যাঁদের ভোগাচ্ছে, তাঁদের জন্য পরিস্থিতি ধীরে ধীরে অনুকূলে আসতে পারে।
এই সময় আটকে থাকা অর্থ ফেরত পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। ব্যবসায়ীরা নতুন আর্থিক সুযোগ বা লাভজনক সিদ্ধান্তের মুখোমুখি হতে পারেন। চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রেও কর্মক্ষেত্রের অস্বস্তিকর পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসতে পারে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কাজের স্বীকৃতি পাওয়ার সম্ভাবনাও বৃদ্ধি পেতে পারে।
মীন রাশি: থমকে থাকা কাজে আসতে পারে গতি

মীন রাশির জাতকদের জন্য সাড়েসাতির মধ্যবর্তী পর্যায় সাধারণত সবচেয়ে কঠিন বলে বিবেচিত হয়। তবে শনির বক্রী গতি এই সময় কিছু ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিতে পারে।
গত কয়েক মাস ধরে যেসব কাজ বারবার বিলম্বিত হচ্ছিল বা সম্পূর্ণভাবে আটকে ছিল, সেগুলো আবার এগোতে শুরু করতে পারে। ব্যবসা, যোগাযোগ, গণমাধ্যম বা সৃজনশীল পেশার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা নতুন দায়িত্ব, গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প বা বড় চুক্তির সুযোগ পেতে পারেন।
আর্থিক ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার সুযোগও তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি দীর্ঘদিনের শারীরিক সমস্যা বা স্বাস্থ্যগত অস্বস্তি থেকে কিছুটা স্বস্তি মিলতে পারে। এর ফলে আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি পাবে এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে নতুন উদ্যম পাওয়া যেতে পারে।
কী বলছে জ্যোতিষশাস্ত্র?
জ্যোতিষীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, শনির বক্রী গতি অনেক সময় মানুষকে নিজের কাজ, সিদ্ধান্ত এবং অতীতের অভিজ্ঞতা পুনর্মূল্যায়নের সুযোগ দেয়। তাই এই সময়কে শুধুমাত্র নেতিবাচক হিসেবে না দেখে আত্মসমীক্ষা ও পরিকল্পনার সময় হিসেবেও দেখা হয়।
তবে মনে রাখা প্রয়োজন, জ্যোতিষশাস্ত্রের পূর্বাভাস বিশ্বাস ও প্রাচীন গণনার ওপর ভিত্তি করে তৈরি। ব্যক্তিগত জীবনে এর প্রভাব ব্যক্তি বিশেষে ভিন্ন হতে পারে।

Hello friends, Myself Biplab. I have been writing horoscopes since 2019. Since 2022, I have also been writing about entertainment, lifestyle, and trending news.