পঞ্চম প্রজন্মের অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান তৈরির ক্ষেত্রে আরও একধাপ এগোল ভারত। ভারতের রিলায়েন্স গোষ্ঠী এবং ব্রিটিশ বিমান ইঞ্জিন নির্মাতা সংস্থা রোলস রয়েস যৌথভাবে ভারতে অ্যারোস্পেস গ্যাস টারবাইন কমপ্লেক্স তৈরির সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে। এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে ভবিষ্যতে ভারতের মাটিতেই যুদ্ধবিমানের ইঞ্জিনের নকশা, উৎপাদন, পরীক্ষা ও রক্ষণাবেক্ষণের পরিকাঠামো গড়ে উঠতে পারে। এই প্রকল্পের সঙ্গে ভারতের অ্যাডভান্সড মিডিয়াম কমব্যাট এয়ারক্রাফ্ট (AMCA) কর্মসূচির সম্ভাব্য যোগসূত্র রয়েছে। পঞ্চম প্রজন্মের এই যুদ্ধবিমান তৈরির ক্ষেত্রে দেশীয় প্রযুক্তি ও উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোই ভারতের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
ভারত দীর্ঘদিন ধরেই সামরিক সরঞ্জামের ক্ষেত্রে বিদেশি নির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় সক্ষমতা বৃদ্ধির চেষ্টা চালাচ্ছে। বিশেষ করে যুদ্ধবিমানের ইঞ্জিনের মতো জটিল প্রযুক্তিতে ভারতের নির্ভরতা এখনও উল্লেখযোগ্য। রিলায়েন্সের উৎপাদন ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতার সঙ্গে রোলস রয়েসের দীর্ঘদিনের এরো-ইঞ্জিন প্রযুক্তির অভিজ্ঞতা যুক্ত হলে ভারতে একটি শক্তিশালী অ্যারোস্পেস ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার পথ আরও প্রশস্ত হতে পারে।
দুই সংস্থার যৌথ বিবৃতি অনুযায়ী, ভারতে এমন একটি পরিকাঠামো গড়ে তোলার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে, যেখানে ইঞ্জিনের নকশা, উৎপাদন, পরীক্ষা এবং রক্ষণাবেক্ষণ—সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজের ব্যবস্থা থাকবে। যুদ্ধবিমানের ইঞ্জিন প্রযুক্তি অত্যন্ত জটিল এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। ফলে দেশেই এই প্রযুক্তির উৎপাদন ও রক্ষণাবেক্ষণের সক্ষমতা তৈরি হলে ভারতের প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে তার সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়তে পারে।
দেশের মাটিতে ইঞ্জিন তৈরি ও রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থা গড়ে উঠলে বিদেশ থেকে ইঞ্জিন আমদানির উপর নির্ভরতা কমানোর পাশাপাশি প্রযুক্তিগত দক্ষতা, উৎপাদন ক্ষমতা এবং প্রতিরক্ষা শিল্পে কর্মসংস্থানের সুযোগও বাড়তে পারে। রোলস রয়েসের সিইও তুফান এরগিনবিলগিক সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে জানিয়েছেন, ভারতে একটি শক্তিশালী ও আত্মনির্ভর অ্যারোস্পেস ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার পথে এই উদ্যোগ একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।
ভারতের পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান AMCA দেশের প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প। অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান তৈরির পাশাপাশি এর জন্য প্রয়োজনীয় ইঞ্জিন প্রযুক্তিতেও দেশীয় সক্ষমতা তৈরি করা ভারতের দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য। স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে রিলায়েন্স ও রোলস রয়েসের এই ঘোষণা সেই লক্ষ্যকে আরও জোরদার করল। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ভারতের প্রতিরক্ষা উৎপাদন ব্যবস্থায় দেশীয় প্রযুক্তি ও বেসরকারি শিল্পের অংশগ্রহণ আরও বাড়তে পারে।
তবে উল্লেখ্য, বর্তমানে দুই সংস্থা ভারতে অ্যারোস্পেস গ্যাস টারবাইন কমপ্লেক্স স্থাপনের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে। অর্থাৎ প্রকল্পটির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন এখনও ভবিষ্যতের বিষয়। সফল হলে অবশ্য যুদ্ধবিমান ইঞ্জিন প্রযুক্তিতে ভারতের আত্মনির্ভরতার পথে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হয়ে উঠতে পারে।

Hello friends, Myself Biplab. I have been writing horoscopes since 2019. Since 2022, I have also been writing about entertainment, lifestyle, and trending news.