আরজি কর হাসপাতালে তরুণী চিকিৎসকের মৃত্যুকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ ও অভিনেত্রী রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়। নির্যাতিতার নাম প্রকাশ সংক্রান্ত অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়েরের প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর অবশেষে বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন তিনি।
একটি শুটিং সেটে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, আরজি করের ঘটনাটি তাঁকে গভীরভাবে নাড়িয়ে দিয়েছিল। সেই সময় গোটা রাজ্যের মানুষের মতো তিনিও অত্যন্ত মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন। ঘটনার প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে আবেগের বশে তিনি এমন একটি ভুল করেছিলেন, যা তাঁর করা উচিত হয়নি বলেই এখন মনে করছেন।
অভিনেত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, প্রতিবাদমূলক একটি ভিডিওতে কথা বলার সময় তিনি অত্যন্ত আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছিলেন। একজন তরুণ চিকিৎসকের মর্মান্তিক পরিণতি তাঁকে ব্যক্তিগতভাবে আঘাত করেছিল। সেই আবেগঘন পরিস্থিতিতেই অসাবধানতাবশত নির্যাতিতার নাম তাঁর মুখ থেকে বেরিয়ে যায়। তবে আইন ভঙ্গ করার কোনও উদ্দেশ্য তাঁর ছিল না বলেও তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন।
সম্প্রতি এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দক্ষিণ কলকাতার চারু মার্কেট থানায় অভিযোগ দায়ের হওয়ার পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। অভিযোগকারীর দাবি, নির্যাতিতার পরিচয় প্রকাশ করা আইনত দণ্ডনীয় এবং সেই কারণে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের পর এই পুরনো ঘটনা ফের সামনে আসায় রাজনৈতিক মহলেও নানা জল্পনা শুরু হয়েছে। অনেকের মতে, দীর্ঘদিন আগের ঘটনাকে কেন্দ্র করে বর্তমান সময়ে আইনি পদক্ষেপ শুরু হওয়ার পেছনে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। যদিও এ বিষয়ে কোনও সরকারি মন্তব্য সামনে আসেনি।
অন্যদিকে, রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে জানিয়েছেন যে ঘটনাটি সম্পূর্ণ অনিচ্ছাকৃত ছিল। তিনি মনে করেন, প্রতিবাদের ভাষা প্রকাশ করতে গিয়ে আবেগ তাঁকে নিয়ন্ত্রণহীন করে তুলেছিল। সেই কারণেই ভুলটি হয়েছিল এবং এ জন্য তিনি অনুশোচনা প্রকাশ করেছেন।
এদিকে অভিনেত্রীর ঘনিষ্ঠ মহলের দাবি, তিনি নিয়মিত নিজের পেশাগত কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন এবং চলমান আইনি প্রক্রিয়ার মোকাবিলার জন্য তাঁর আইনজীবীরা প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ভবিষ্যতে এই মামলার আইনি অগ্রগতি কোন দিকে যায়, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক মহলের।

Hello, I am BB. I have been working in blogging for more than five years.