অক্ষয় তৃতীয়া ২০২৬: কবে পালন হবে, সোনা-রূপো কেনার শুভ সময় ও ধর্মীয় তাৎপর্য

হিন্দু ধর্মীয় ক্যালেন্ডার অনুযায়ী অক্ষয় তৃতীয়া বছরের অন্যতম পবিত্র ও শুভ তিথি হিসেবে পরিচিত। বিশ্বাস করা হয়, এই দিনে করা সৎকর্ম, দান বা নতুন সূচনা দীর্ঘস্থায়ী সুফল এনে দেয়। “অক্ষয়” শব্দের অর্থই হল যা কখনও ক্ষয়প্রাপ্ত হয় না বা যার ফল স্থায়ী থাকে। সেই কারণেই এই দিনটিকে সৌভাগ্য, সমৃদ্ধি এবং নতুন সূচনার প্রতীক হিসেবে ধরা হয়।

২০২৬ সালে অক্ষয় তৃতীয়া পালিত হবে এপ্রিল মাসে। পঞ্জিকা অনুযায়ী বৈশাখ মাসের শুক্লপক্ষের তৃতীয়া তিথি শুরু হবে ১৯ এপ্রিল সকাল ১০টা ৪৮ মিনিটে এবং শেষ হবে ২০ এপ্রিল সকাল ৭টা ২৭ মিনিটে। তাই মূলত ১৯ এপ্রিল দিনটিকেই অক্ষয় তৃতীয়া হিসেবে উদযাপন করা হবে।

সোনা-রূপো কেনার শুভ সময়

অনেকেই এই দিনে সোনা বা রূপোর গয়না কেনাকে শুভ মনে করেন। কারণ ঐতিহ্যগতভাবে ধারণা রয়েছে যে, এই দিনে কেনা সম্পদ বা বিনিয়োগ ভবিষ্যতে সমৃদ্ধি ডেকে আনে।

২০২৬ সালে সোনা বা রূপো কেনার জন্য শুভ সময় ধরা হয়েছে—
১৯ এপ্রিল সকাল ১০টা ৪৯ মিনিট থেকে ২০ এপ্রিল ভোর ৫টা ৫১ মিনিট পর্যন্ত।
এই সময়ের মধ্যে কেনাকাটা করলে তা শুভ বলে মনে করা হয়।

ধর্মীয় ও পৌরাণিক গুরুত্ব

অক্ষয় তৃতীয়ার সঙ্গে বহু ধর্মীয় কাহিনি ও বিশ্বাস জড়িয়ে রয়েছে। পুরাণ মতে, এই দিনটি ভগবান বিষ্ণুর ষষ্ঠ অবতার Parashurama-এর আবির্ভাব দিবস হিসেবে পালিত হয়। তাই অনেক জায়গায় এই তিথিকে পরশুরাম জয়ন্তী হিসেবেও মানা হয়।

অন্যদিকে মহাভারতের একটি জনপ্রিয় কাহিনিতে বলা হয়, এই দিনেই ভগবান Krishna পাণ্ডবদের একটি অলৌকিক পাত্র উপহার দিয়েছিলেন, যা “অক্ষয় পাত্র” নামে পরিচিত। বিশ্বাস ছিল, এই পাত্রে কখনও খাবারের অভাব হতো না।

কেন এই দিন এত শুভ বলে ধরা হয়

ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, অক্ষয় তৃতীয়ার দিনটি এমন এক শুভ সময় যখন আলাদা করে বিশেষ মুহূর্ত খোঁজার প্রয়োজন হয় না। এই দিনকে স্বয়ংসম্পূর্ণ শুভ সময় হিসেবে ধরা হয়। তাই অনেকে এই দিনে—

বিয়ে
গৃহপ্রবেশ
নতুন ব্যবসা শুরু
জমি বা সম্পত্তি কেনা
বিনিয়োগ
দান-পুণ্য
ইত্যাদি কাজ শুরু করেন।

বিশেষ করে দেবী লক্ষ্মী ও ভগবান বিষ্ণুর পূজা এই দিনে অত্যন্ত ফলদায়ক বলে মনে করা হয়। অনেক পরিবারে এই তিথিতে পূজা, হোম, জপ বা দান করার প্রথা রয়েছে।

সামাজিক ও সাংস্কৃতিক দিক

বর্তমান সময়েও অক্ষয় তৃতীয়া কেবল ধর্মীয় উৎসবই নয়, বরং এটি অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সোনা-রূপোর দোকান, গয়নার ব্যবসা এবং বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও এই দিনটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। অনেকেই মনে করেন, এই দিনে করা সঞ্চয় ভবিষ্যতের আর্থিক নিরাপত্তার প্রতীক।

সব মিলিয়ে, অক্ষয় তৃতীয়া হল বিশ্বাস, ঐতিহ্য ও নতুন আশার এক অনন্য মিলনক্ষেত্র। এই দিন মানুষ নতুন পরিকল্পনা শুরু করতে উৎসাহিত হন এবং ভবিষ্যতের জন্য শুভ কামনা করেন।

শুধু হজম শক্তি বাড়িয়ে দেয় না, জোয়ান খেলে শরীরের অনেক সমস্যা নিবারণ হয় মুখরোচক বাদাম চিক্কি খেতে দারুন, বাড়িতেই তৈরী হবে, জানুন রেসিপি এইভাবে তেজপাতা পোড়ালে দুশ্চিন্তা কেটে যাবে 5 Best Night Creams ৪ মাসের শিশু ২৪০ কোটির মালিক