উত্তর–পূর্ব ভারতকে ভেঙে একটি আলাদা রাষ্ট্র গঠনের অভিযোগকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিতর্ক তীব্র হয়েছে। খলিস্তানি জঙ্গি গুরপতবন্ত সিং পান্নুন সম্প্রতি একটি মানচিত্র প্রকাশ করে দাবি করেছেন, অসম, মেঘালয়, মণিপুর, মিজোরাম, ত্রিপুরা ও নাগাল্যান্ড মিলিয়ে একটি নতুন দেশ গঠিত হবে, যার নাম তিনি দিয়েছেন ‘ট্রাম্পল্যান্ড’। ওই মানচিত্রে অরুণাচল প্রদেশকে চিনের অংশ হিসেবেও দেখানো হয়েছে বলে অভিযোগ।
এই ঘটনার সঙ্গে অতীতের কিছু বিতর্কিত দাবির যোগসূত্র খোঁজা হচ্ছে। এর আগে বাংলাদেশের কিছু কট্টরপন্থী নেতার পক্ষ থেকেও উত্তর–পূর্ব ভারত বিচ্ছিন্ন করার আহ্বান শোনা গিয়েছিল। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও একসময় অভিযোগ করেছিলেন, আমেরিকা সেন্ট মার্টিন্স দ্বীপে সামরিক ঘাঁটি গড়তে চায় এবং উত্তর–পূর্ব ভারতের খ্রিস্টান অধ্যুষিত অঞ্চল, পার্বত্য চট্টগ্রাম ও মায়ানমারের রাখাইন প্রদেশ মিলিয়ে একটি পৃথক রাষ্ট্র গঠনের ছক রয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে মুহাম্মদ ইউনুস সরকারের প্রস্তাবিত মানবিক করিডোর নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। কক্সবাজার থেকে মায়ানমারের রাখাইন প্রদেশ পর্যন্ত এই করিডোর ব্যবহার করে অশান্তি ছড়ানোর আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা। যদিও সরকারিভাবে তা মানবিক উদ্যোগ বলেই ব্যাখ্যা করা হয়।
এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্ত এলাকায় একাধিক উদ্বেগজনক ঘটনা ঘটেছে। কক্সবাজারে সামরিক সরঞ্জাম বহনের অভিযোগে তিন যুবক গ্রেপ্তার হয়েছেন। এর আগে আরাকান আর্মির পোশাক উদ্ধার হওয়া এবং রোহিঙ্গা জঙ্গিদের প্রশিক্ষণের খবরও সামনে আসে। অভিযোগ, মায়ানমার–বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী জঙ্গলে রোহিঙ্গা জঙ্গিদের আনাগোনা বেড়েছে এবং তারা ছদ্মবেশে নাফ নদী এলাকায় অবস্থান করছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সব ঘটনাকে একসূত্রে বাঁধা যায় কি না, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা কঠিন। তবে উত্তর–পূর্ব ভারতের নিরাপত্তা, সীমান্ত পরিস্থিতি এবং আঞ্চলিক ভূরাজনীতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে ভারত ও প্রতিবেশী দেশগুলির কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা মহলে সতর্ক নজরদারি চলছে।

Hello, I am BB. I have been working in blogging for more than four years.