Amitabh Bachchan: দিনগুলো যেন অস্বাভাবিকভাবে দীর্ঘ হয়ে উঠছে। জীবনটা যেন এক ভেজা, জনহীন প্রান্তর—যেখানে একা ধীর পায়ে হেঁটে চলেছেন তিনি। ক্লান্ত পা দুটোকে টেনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন, তবু থামছে না একাকীত্বের অনুভূতি। এমনই এক গভীর আক্ষেপের সুর শোনা গেল অমিতাভ বচ্চনের কণ্ঠে। প্রশ্ন উঠছে—কী এমন যন্ত্রণা তাঁকে এতটা বিচলিত করছে?
এর উত্তর লুকিয়ে আছে তাঁর কাজের সঙ্গে অটুট বন্ধনে। অমিতাভ বচ্চনের অত্যন্ত জনপ্রিয় টেলিভিশন শো ‘কৌন বনেগা ক্রোড়পতি’-র বর্তমান সিজন শেষের পথে। এই অনুষ্ঠান শেষ হলেই তাঁর দৈনন্দিন কর্মব্যস্ততায় তৈরি হবে শূন্যতা। আর সেই কাজহীন সময়টাই তাঁকে সবচেয়ে বেশি কষ্ট দিচ্ছে। তাই কাজ না থাকাকে তিনি তুলনা করেছেন জনহীন প্রান্তর ধরে একা হেঁটে চলার সঙ্গে।
২০০০ সালে যাত্রা শুরু করা ‘কৌন বনেগা ক্রোড়পতি’ শুধুমাত্র একটি টিভি শো নয়, বরং অমিতাভ বচ্চনের নামের সঙ্গেই যেন অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িয়ে গেছে। বছরের পর বছর ধরে এই অনুষ্ঠান দর্শকের ঘরে ঘরে পৌঁছে দিয়েছে জ্ঞান, আশা আর স্বপ্ন। ঠিক তেমনই, এই শো-র সঙ্গে বিগ বচ্চন নিজেও গভীরভাবে জড়িয়ে পড়েছেন। বলা যায়, কেবিসি এবং অমিতাভ বচ্চন একে অপরের পরিপূরক।
৮০-এর গণ্ডি পার করেও অমিতাভ বচ্চনের কাজের প্রতি আকর্ষণ একটুও কমেনি। বরং কাজই তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় প্রেরণা। তাই কাজ না থাকলে দিনগুলো তাঁর কাছে ভারী, দীর্ঘ এবং ক্লান্তিকর মনে হয়। যেখানে এই বয়সে অধিকাংশ মানুষ অবসর জীবন বেছে নেন, সেখানে অমিতাভ বচ্চন প্রতিদিন নতুন করে কাজে ডুবে থাকতে চান।
তাঁর এই অমোঘ কর্মস্পৃহা শুধু অনুপ্রেরণাই নয়, বরং আত্মোৎসর্গের এক অনন্য প্রতীক। যুব সমাজের কাছেও তিনি প্রমাণ করে দিচ্ছেন—কাজের প্রতি ভালোবাসা থাকলে বয়স কখনওই বাধা হতে পারে না। কাজই তাঁর শক্তি, কাজই তাঁর জীবনের অর্থ। আর সেই কাজ থেকে সাময়িক বিচ্ছেদই আজ তাঁর কণ্ঠে এনে দিয়েছে জনশূন্য প্রান্তরের আক্ষেপ।