আগামী দিনে মুক্তি পেতে চলেছে একাধিক বাংলা ছবি, তার মধ্যেই অন্যতম আলোচিত ছবি অঙ্কুশ হাজরার প্রযোজিত ও অভিনীত ‘নারী চরিত্র বেজায় জটিল’। নারীদের উদ্দেশে ডেডিকেটেড এই ছবি ইতিমধ্যেই দর্শকমহলে কৌতূহল তৈরি করেছে। ছবির একটি সংলাপ— “নবান্ন চল! দিদির মনের কথা শুনব”—নিয়েও শুরু হয়েছে আলোচনা। কিন্তু ছবি মুক্তির আগেই বড়সড় ধাক্কা খেলেন অভিনেতা-প্রযোজক অঙ্কুশ হাজরা।
ছবির প্রচারের অংশ হিসেবে কলকাতার নবীনা সিনেমা হলের সামনে বসানো হয়েছিল প্রায় ৩০ ফুট উঁচু একটি বিশাল কাটআউট। কিন্তু অভিযোগ, রাতের অন্ধকারে সেই কাটআউট সম্পূর্ণভাবে ভেঙে ও ছিঁড়ে ফেলা হয়। সকালে ঘটনাস্থলে সেই দৃশ্য দেখেই মন ভেঙে যায় অভিনেতার।
উল্লেখ্য, নবীনা সিনেমা হল এর আগেও উত্তেজনার সাক্ষী থেকেছে। কিছুদিন আগে ‘প্রজাপতি ২’ ছবি ঘিরে দেবের শো না থাকায় দর্শকদের একাংশ সেখানে ব্যাপক তাণ্ডব চালিয়েছিলেন। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই ফের অশান্তির ছবি সামনে এল।
এই ভাঙচুরের ভিডিও সমাজমাধ্যমে শেয়ার করে অঙ্কুশ লেখেন,
“মানুষ মানুষের ক্ষতি করে কি আনন্দ পায় কে জানে। নারী চরিত্র বেজায় জটিল-এর ৩০ ফুটের কাটআউট এইভাবে নষ্ট করে দেওয়া হলো নবীনা হলের সামনে। অবাক লাগে ভাবলে, কোন জগতে আমরা বসবাস করছি।”
এরপর লাইভে এসে আরও আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন অভিনেতা। তিনি বলেন,
“অনেক কষ্ট করে নবীনাতে ৩০ ফুটের কাটআউট লাগিয়েছিলাম। জানি না কারা রাতে এটা নষ্ট করেছে। আমরা খোঁজ নেওয়ার চেষ্টা করছি। এটা খুব হতাশাজনক। সবকিছুর পেছনে শুধু টাকা নয়, একটা স্বপ্ন থাকে। সেই স্বপ্ন ভেঙে গেলে কী কষ্ট হয়, আজ বুঝতে পারছি।”
অঙ্কুশ আরও জানান, নতুন প্রযোজক হিসেবে এটি তাঁর দ্বিতীয় ছবি। ভালো গল্প বলার চেষ্টা করেছেন তিনি। তাঁর অনুরোধ, দর্শক যেন পরিবার নিয়ে হলে গিয়ে ছবিটিকে একটি সুযোগ দেন। শেষে স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে অভিনেতা বলেন,
“আমি খুঁজে বের করব কে এই কাজ করেছে। এ ধরনের কাজ করবেন না।”
ছবি মুক্তির আগে এমন ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে—সৃজনশীল কাজ ও পরিশ্রমের প্রতি সম্মান কোথায়? এখন দেখার, এই ঘটনার পর কী ব্যবস্থা নেওয়া হয় এবং ছবির মুক্তি ঘিরে পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়।

Hello, I am BB. I have been working in blogging for more than four years.