টলিউডে শোকের আবহ এখনও কাটেনি। সম্প্রতি অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়-এর আকস্মিক প্রয়াণে গভীরভাবে আঘাত পেয়েছিলেন অভিনেত্রী সুদীপ্তা চক্রবর্তী এবং তাঁর বোন বিদীপ্তা চক্রবর্তী। ‘ভ্রাতৃসম’ সহকর্মীকে হারানোর শোক সামলাতে না সামলাতেই তাঁদের জীবনে নেমে এল আরও বড় দুঃসংবাদ।
জানা গিয়েছে, সুদীপ্তা ও বিদীপ্তার মা দীপালি চক্রবর্তী গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হওয়ায় তাঁকে দ্রুত দক্ষিণ কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ চেষ্টার পরও শেষরক্ষা হয়নি। বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।
মায়ের মৃত্যু সংবাদ নিজেই সমাজমাধ্যমে ভাগ করে নেন সুদীপ্তা চক্রবর্তী। কোনও দীর্ঘ বার্তা নয়, কেবল একটি ছবি এবং এক শব্দ—‘মা’। এই এক শব্দেই যেন তাঁর গভীর শোক, শূন্যতা ও অসহায়তার প্রতিফলন ধরা পড়ে। পোস্টটি প্রকাশ্যে আসতেই সহকর্মী, অনুরাগী এবং ইন্ডাস্ট্রির বহু মানুষ শোকপ্রকাশ করেন। পরিচালক রাম কমল মুখোপাধ্যায়-সহ অনেকেই সমবেদনা জানান।
এক অনুরাগীর কথায়, “এত বড় শোকের কোনও সান্ত্বনা হয় না। পরপর এমন আঘাত সামলানো সত্যিই কঠিন।” এই মন্তব্যই যেন বর্তমান পরিস্থিতির সারমর্ম তুলে ধরে।
প্রসঙ্গত, রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুর পর সুদীপ্তা চক্রবর্তী তাঁর ব্যক্তিগত ক্ষতির কথা স্পষ্টভাবে জানিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ইন্ডাস্ট্রির ক্ষতি কতটা হয়েছে তা নিয়ে তিনি নিশ্চিত নন, তবে তাঁর নিজের জীবনে এই ক্ষতি অপূরণীয়। এমনকি সহশিল্পীর শেষকৃত্যে যোগ দিতে না পারার প্রসঙ্গেও ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন তিনি। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে, কাজের চাপ ও সম্প্রচারজনিত উদ্বেগের কারণে মানবিক দিকটি অনেক সময় উপেক্ষিত হয়—যা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন অভিনেত্রী।

একদিকে প্রিয় সহকর্মীর মৃত্যু, অন্যদিকে মায়ের প্রয়াণ—এই দ্বিগুণ শোকে ভেঙে পড়েছে সুদীপ্তা ও তাঁর পরিবার। কঠিন এই সময়ে তাঁদের পাশে দাঁড়িয়েছেন সহকর্মী ও ভক্তরা। তবে এই শূন্যতা যে সহজে পূরণ হওয়ার নয়, তা বলাই বাহুল্য।

Hello, I am BB. I have been working in blogging for more than four years.