কয়েক দিন আগে আচমকাই অরিজিৎ সিংহ ঘোষণা করেছিলেন, তিনি ছবির জন্য আর গান গাইবেন না। এই ঘোষণায় দেশজুড়ে তোলপাড় শুরু হলেও পরে স্পষ্ট হয়—সংগীতজগত থেকে সরে যাচ্ছেন না গায়ক। তবে গান ছাড়াও যে একেবারে অন্যরকম এক জগতে পা রেখেছেন অরিজিৎ, সেই খবর অনেকেরই অজানা।
পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদের জিয়াগঞ্জে রয়েছে অরিজিৎ সিংহের রেস্তরাঁ—নাম ‘হেঁশেল’। কিন্তু এই রেস্তরাঁ কোনও ঝাঁ-চকচকে তারকা-রেস্তরাঁ নয়। এখানে নেই আড়ম্বর, নেই বিলাসিতা। বরং সাধারণ মানুষের সাধ্যের মধ্যেই ভাল, পেটভরা খাবার দেওয়াই ‘হেঁশেল’-এর মূল দর্শন।
সবচেয়ে বড় আকর্ষণ, এখানে মাত্র ৪০ টাকায় ভেজ থালি পাওয়া যায়। আজকের দিনে যেখানে একটি সাধারণ খাবারের দামই আকাশছোঁয়া, সেখানে এমন উদ্যোগ সত্যিই নজর কাড়ে। কয়েক বছর ধরেই অরিজিতের বাবা সুরিন্দর সিংহ এই রেস্তরাঁ সামলাচ্ছেন। তবে গত বছর থেকে ব্যবসার কাজে বাবার পাশে দাঁড়িয়েছেন অরিজিৎ নিজেও।
‘হেঁশেল’-এর মেনুতে রয়েছে বাঙালি ও পঞ্জাবি খাবারের সুন্দর মেলবন্ধন। ভেজ মেনুতে পাওয়া যায় মিক্স ভেজ (১৫০ টাকা), ভেজ হান্ডি (১৭০ টাকা), নবরত্ন কোর্মা (১৮০ টাকা), আলু জিরা (১০০ টাকা) ও শাহি পনির (১৯০ টাকা)।
আমিষপ্রেমীদের জন্যও রয়েছে ভরপুর আয়োজন। চিকেন কোর্মা (১৮০ টাকা), চিকেন চাঁপ (২০০ টাকা), চিকেন রেজ়ালা (১৮০ টাকা), পাটিয়ালা চিকেন (২০০ টাকা) ও চিকেন টিক্কা মশলা (৩৭০ টাকা) মেনুর উল্লেখযোগ্য পদ। সঙ্গে রয়েছে চিকেন বিরিয়ানি (২০০ টাকা) ও মটন বিরিয়ানি (২৫০ টাকা), পাশাপাশি কবাবের নানা আইটেম।
রেস্তরাঁর অন্দরসজ্জাও অরিজিতের ব্যক্তিত্বের মতোই সাদামাঠা ও ছিমছাম। কোথাও অতিরিক্ত জাঁকজমক নেই। বরং এখানে এসে খাবার খেলে মনে হবে, যেন বাড়িতেই রান্না করা খাবার খাচ্ছেন। ভাত, ডাল, ডুমুরের তরকারি বা চিকেন কষার স্বাদে স্পষ্ট ঘরোয়া ছোঁয়া।
বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে অরিজিৎ নিজেও বলেছেন, তিনি ঘরে তৈরি খাবার খেতেই বেশি পছন্দ করেন। সেই ভাবনাই যেন প্রতিফলিত হয়েছে ‘হেঁশেল’-এর প্রতিটি পদে। তারকা পরিচয়ের আড়ালে না লুকিয়ে, সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এই উদ্যোগই অরিজিৎ সিংহের ‘হেঁশেল’-কে করে তুলেছে একেবারে আলাদা।

Hello, I am BB. I have been working in blogging for more than four years.