উত্তর সিকিমের দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে লাচেন-চুংথাং সড়ক হঠাৎই রূপ নেয় বিপজ্জনক মৃত্যুফাঁদে। প্রবল তুষারপাতের মধ্যে আচমকাই একাধিক ধস নামায় সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে ওই পথ। ফলে সেখানে আটকে পড়েন বহু পর্যটক এবং স্থানীয় বাসিন্দা।
পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ হয়ে ওঠে যে, স্বাভাবিক যোগাযোগ সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ে। রাস্তার চিহ্ন মুছে গিয়ে কার্যত অচল হয়ে যায় গোটা এলাকা।
শুরু হয় ‘অপারেশন হিম সেতু’
এই সংকটময় মুহূর্তে দ্রুত উদ্ধারকাজে নামে Indian Army। প্রতিকূল আবহাওয়া, হিমশীতল পরিবেশ এবং দুর্গম পাহাড়ি অবস্থান—সব বাধা অতিক্রম করে শুরু হয় বিশেষ উদ্ধার অভিযান, যার নাম দেওয়া হয় ‘অপারেশন হিম সেতু’।
যেখানে রাস্তা সম্পূর্ণ নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছিল, সেখানে সেনা জওয়ানরা অস্থায়ী পথ তৈরি করেন। কার্যত একটি সেতুর মতো রাস্তা বানিয়ে আটকে পড়া মানুষদের নিরাপদে পার করানো হয়।
৪৮ ঘণ্টার নিরলস লড়াই
টানা প্রায় ৪৮ ঘণ্টা ধরে চলে এই উদ্ধার অভিযান। কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও ধৈর্য ও দক্ষতার সঙ্গে কাজ চালিয়ে যান সেনা সদস্যরা।
এই অভিযানে মোট—
১,৩২১ জন পর্যটক
৮৪ জন স্থানীয় বাসিন্দা
—সহ প্রায় ১৪০০ জনকে নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়।
উদ্ধার পরবর্তী সেবাতেও নজির
শুধু উদ্ধার করেই থেমে থাকেনি সেনা। যাঁদের উদ্ধার করা হয়, তাঁদের শারীরিক ও মানসিক অবস্থা বিবেচনা করে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
খাবার ও পানীয় জলের ব্যবস্থা
প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা
অস্থায়ী আশ্রয়ের বন্দোবস্ত
সবকিছুই দ্রুত সংগঠিত করা হয় সেনার পক্ষ থেকে, যাতে ধাক্কা সামলে স্বাভাবিক হতে পারেন সবাই।
এখনও চলছে পুনরুদ্ধারের কাজ
উদ্ধার অভিযান শেষ হলেও কাজ থেমে নেই। বর্তমানে সেনা ওই রাস্তা পুনরায় যান চলাচলের উপযোগী করে তোলার চেষ্টা চালাচ্ছে। পাশাপাশি আটকে পড়া গাড়িগুলিকেও নিরাপদে সরিয়ে আনার কাজ চলছে।
এই পুরো অভিযানের সাফল্য সম্পর্কে জানান লেফটেন্যান্ট কর্নেল মহেন্দ্র রাওয়াত।
কৃতজ্ঞতায় ভরপুর মানুষ
মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এসে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দারা। ভয়াবহ পরিস্থিতি থেকে রক্ষা পাওয়ার পর সকলেই ভারতীয় সেনার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
প্রকৃতির বিরুদ্ধে লড়াই করে আবারও মানবিকতার নজির গড়ল ভারতীয় সেনা—এমনটাই মত সকলের।

Hello, I am BB. I have been working in blogging for more than four years.