সদ্য সূর্যগ্রহণের পর সামনে চন্দ্রগ্রহণ। তার মধ্যেই কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকায় ভূমিকম্পের কম্পন অনুভূত হয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই আতঙ্ক ছড়িয়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। অনেকেই ঘর ছেড়ে রাস্তায় নেমে আসেন। এই পরিস্থিতিতে ফের চর্চায় উঠে এসেছে রহস্যময় ভবিষ্যদ্বক্তা Baba Vanga–র ২০২৬ সালের ভবিষ্যদ্বাণী।
প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ইঙ্গিত
বাবা ভাঙ্গার কথিত ভবিষ্যদ্বাণী অনুযায়ী, ২০২৬ সালে পৃথিবীর ভূপৃষ্ঠের ৭ থেকে ৮ শতাংশ অংশ ভয়াবহ প্রাকৃতিক কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ভূমিকম্প, পরিবেশগত বিপর্যয়, বন্যা ও তাপপ্রবাহ—সব মিলিয়ে একটি অস্থির সময়ের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
তবে কোন অঞ্চল সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে, সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনও উল্লেখ নেই। পরিবেশবিদদের একাংশ বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের জেরে বিশ্বজুড়ে প্রাকৃতিক দুর্যোগের মাত্রা বাড়ছে—যা এই ধরনের ভবিষ্যদ্বাণীকে আরও আলোচনায় এনে দিচ্ছে।
তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের আশঙ্কা?
বিশ্ব রাজনীতির অস্থির পরিস্থিতিও এই জল্পনাকে উসকে দিচ্ছে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ চলছেই। মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা অব্যাহত। বিভিন্ন সীমান্ত ইস্যুতে একাধিক দেশ মুখোমুখি অবস্থানে। এই প্রেক্ষাপটে বাবা ভাঙ্গার ভবিষ্যদ্বাণীতে ২০২৬ সালে বহু দেশের মধ্যে বড় সংঘাতের ইঙ্গিত থাকার দাবি করা হয়। কেউ কেউ একে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের সম্ভাবনা হিসেবেও ব্যাখ্যা করছেন।
যদিও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের মতে, ভূ-রাজনৈতিক টানাপোড়েন নতুন নয়, তবে তা সরাসরি বিশ্বযুদ্ধে গড়াবে—এমন নিশ্চয়তা নেই।
ভিনগ্রহীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ?
সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর দাবি হল, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে মানুষের সঙ্গে ভিনগ্রহীদের সম্ভাব্য সাক্ষাৎ। UFO ও ভিনগ্রহী প্রসঙ্গ বহু বছর ধরেই বিতর্কিত। এই প্রসঙ্গে প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট Barack Obama এক সাক্ষাৎকারে রসিকতার সুরে মন্তব্য করেছিলেন যে, ভিনগ্রহীদের নিয়ে নানা তথ্য থাকলেও তিনি নিজে তাদের দেখেননি।
অন্যদিকে, Donald Trump UFO সংক্রান্ত গোপন নথি প্রকাশের নির্দেশ দেওয়ার কথা বলেছিলেন বলে সংবাদমাধ্যমে দাবি ওঠে। ফলে ভিনগ্রহী নিয়ে কৌতূহল আরও তুঙ্গে ওঠে।
কতটা বিশ্বাসযোগ্য?
উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, বাবা ভাঙ্গার অধিকাংশ ভবিষ্যদ্বাণীই লিখিত আকারে সংরক্ষিত ছিল না। তাঁর মৃত্যুর পর নানা ব্যাখ্যা ও প্রচারের মাধ্যমে এগুলি ছড়িয়ে পড়ে। ফলে কোনটি প্রকৃত ভবিষ্যদ্বাণী, আর কোনটি পরবর্তী সংযোজন—তা নিয়ে যথেষ্ট বিতর্ক রয়েছে।
২০২৬ সত্যিই কি ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়, বিশ্বযুদ্ধ বা ভিনগ্রহীর সাক্ষাৎ নিয়ে আসবে? নাকি এগুলি কেবলই কল্পনা ও ব্যাখ্যার ফল? সময়ই তার উত্তর দেবে। তবে বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতি এবং প্রাকৃতিক অস্থিরতার প্রেক্ষিতে এই ভবিষ্যদ্বাণীগুলি যে মানুষের কৌতূহল ও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে, তা বলাই বাহুল্য।

Hello, I am BB. I have been working in blogging for more than four years.