চুলের সৌন্দর্য বজায় রাখতে আমরা অনেকেই নিয়মিত শ্যাম্পু, তেল বা বিভিন্ন হেয়ার কেয়ার প্রোডাক্ট ব্যবহার করি। কিন্তু চুলের আসল শক্তি আসে শরীরের ভেতর থেকে। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও খনিজের ঘাটতি থাকলে চুল পড়া, রুক্ষতা কিংবা পাতলা হয়ে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দেয়। তাই চুলের যত্নে বাহ্যিক পরিচর্যার পাশাপাশি পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ অত্যন্ত জরুরি।
কোন ভিটামিন বা খনিজের অভাবে কী সমস্যা হয়?
বায়োটিন (Vitamin B7):
বায়োটিন চুলকে ঘন ও শক্ত করতে সাহায্য করে। এটি কেরাটিন উৎপাদন বাড়ায়, যা চুলের মূল গঠন উপাদান।
আয়রন:
আয়রনের অভাবে শরীরে হিমোগ্লোবিন কমে যায়। ফলে চুলের গোড়ায় অক্সিজেন ঠিকমতো পৌঁছায় না এবং চুল পড়া শুরু হয়।
ভিটামিন সি:
এই ভিটামিন আয়রন শোষণে সাহায্য করে এবং কোলাজেন তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। কোলাজেন কমে গেলে চুল পাতলা ও দুর্বল হয়ে যায়।
চুল ভালো রাখতে কোন খাবার খাবেন?
ডিম:
ডিমে রয়েছে প্রচুর প্রোটিন ও বায়োটিন। নিয়মিত ডিম খেলে চুলের গোড়া মজবুত হয় এবং চুল ঘন হয়।
মাছ:
ইলিশ, টুনা, পমফ্রেট, রুই বা কাতলার মতো মাছে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড ও প্রোটিন থাকে। এগুলি মাথার ত্বক আর্দ্র রাখে এবং চুল উজ্জ্বল করে।
পালংশাক:
পালংশাকে রয়েছে আয়রন, ফোলেট এবং ভিটামিন এ ও সি। এটি রক্ত সঞ্চালন বাড়িয়ে চুলের বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।
বাদাম ও বীজ:
কাঠবাদাম, ওয়ালনাট, তিসি ও কুমড়োর বীজে ভিটামিন ই, জ়িঙ্ক ও সেলেনিয়াম থাকে। এগুলি চুল পড়া কমাতে ও নতুন চুল গজাতে কার্যকর।
মিষ্টি আলু:
মিষ্টি আলুতে থাকা বিটা-ক্যারোটিন শরীরে ভিটামিন এ-তে রূপান্তরিত হয়। এটি মাথার ত্বকের প্রাকৃতিক তেল বজায় রেখে চুলকে রুক্ষ হওয়া থেকে রক্ষা করে।
শেষ কথা
ঘন, মজবুত ও স্বাস্থ্যকর চুল পেতে কেবল বাহ্যিক যত্ন যথেষ্ট নয়। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় সঠিক পুষ্টি যোগ করলেই চুলের সমস্যার অনেকটাই সমাধান সম্ভব। তাই আজ থেকেই খাবারের দিকে নজর দিন, চুল নিজেই তার সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনবে।