হিন্দু ধর্মে একাদশী তিথির গুরুত্ব অপরিসীম। বছরে মোট ২৪টি একাদশী পালিত হলেও, তার মধ্যে ভীম একাদশী বা নির্জলা একাদশীকে সবচেয়ে কঠোর ও তাৎপর্যপূর্ণ ব্রত বলে মনে করা হয়। এই দিনে জল পর্যন্ত গ্রহণ না করে উপবাস পালন করা হয় বলেই একে নির্জলা একাদশী বলা হয়। বিশ্বাস করা হয়, এই একটি ব্রত পালন করলেই বছরের সব একাদশীর পুণ্য লাভ করা সম্ভব।
কেন এই একাদশীর নাম ভীম একাদশী?
পৌরাণিক কাহিনি অনুসারে, মহাভারতের কুন্তীপুত্র ভীম ছিলেন প্রবল ভোজনরসিক। দীর্ঘক্ষণ না খেয়ে থাকা তাঁর পক্ষে প্রায় অসম্ভব ছিল। নিয়মিত একাদশী ব্রত পালন করতে না পারায় তিনি ব্যথিত হলে, মহর্ষী বেদব্যাস তাঁকে নির্জলা একাদশী পালনের উপদেশ দেন। ব্যাসদেব বলেন, এই একটি কঠোর ব্রত পালন করলে একসঙ্গে ২৪টি একাদশীর ফল লাভ করা যায়। ভীম সেই উপদেশ মেনে পরিবারসহ এই ব্রত পালন করেন। সেই থেকেই এই একাদশী ভীম একাদশী নামে পরিচিত হয়ে ওঠে।
ভীম একাদশী ২০২৬: দিনক্ষণ
বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পঞ্জিকা অনুযায়ী, ২০২৬ সালে ভীম একাদশী পড়ছে
২৯ জানুয়ারি ২০২৬, বৃহস্পতিবার।
বাংলা তারিখ অনুযায়ী দিনটি হলো ১৫ মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ।
ভীম একাদশী ২০২৬: তিথির সময়সূচি
পঞ্জিকা অনুসারে,
একাদশী তিথি শুরু: ২৮ জানুয়ারি ২০২৬, বিকেল ৪টা ৩৫ মিনিটে
একাদশী তিথি শেষ: ২৯ জানুয়ারি ২০২৬, দুপুর ১টা ৫৫ মিনিটে
উদয়া তিথি অনুযায়ী ২৯ জানুয়ারি, বৃহস্পতিবার ভীম একাদশী ব্রত পালন করা হবে।
ভীম একাদশীর উপবাস ও পূজার নিয়ম
এই দিনে ভক্তরা ভোরে স্নান সেরে শুদ্ধ মনে ভগবান বিষ্ণুর আরাধনা করেন। নির্জলা একাদশীতে জল, ফল বা খাদ্য কিছুই গ্রহণ করা হয় না। তবে শারীরিকভাবে অক্ষম ব্যক্তিরা ফলাহার বা জল গ্রহণ করতে পারেন। দিনে বিষ্ণু সহস্রনাম পাঠ, একাদশী মাহাত্ম্য শ্রবণ এবং রাত্রে জাগরণ অত্যন্ত শুভ বলে মনে করা হয়। পরদিন দ্বাদশীতে পারণ করে ব্রত সম্পন্ন করা হয়।
ভীম একাদশীর মাহাত্ম্য
শাস্ত্র মতে, এই ব্রত পালনে সমস্ত পাপ ক্ষয় হয় এবং ভক্তের জীবনে সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি আসে। সংসারিক বন্ধন থেকে মুক্তি ও বিষ্ণু কৃপা লাভের জন্য ভীম একাদশী অত্যন্ত ফলদায়ী বলে বিশ্বাস করা হয়।

Hello friends, Myself Biplab. I have been writing horoscopes since 2019. Since 2022, I have also been writing about entertainment, lifestyle, and trending news.