ঝাড়খণ্ডের পশ্চিম সিংভূম জেলার সরকারি সদর হাসপাতালে ভয়াবহ অবহেলার কারণে পাঁচজন থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত শিশুর শরীরে এইচআইভি ভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে—এমন ঘটনা সামনে আসতেই তোলপাড় রাজ্যজুড়ে। মুখ্যমন্ত্রী থেকে হাইকোর্ট—সবাই নড়েচড়ে বসেছেন। কিন্তু ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর অভিযোগ আরও গভীর। তাদের প্রশ্ন—“মাত্র দুই লাখ টাকায় কি শিশুর জীবনরক্ষার মূল্য মিটে যায়?”
ঘটনার সূচনা হয় সরকারি রক্তব্যাংক থেকে। নিয়মিত রক্ত সঞ্চালনের প্রয়োজন হয় থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত শিশুদের। কিন্তু সেই জীবনরক্ষাকারী রক্তই পাঁচটি শিশুর জীবনে যুক্ত করল মৃত্যুভয়ের নতুন অধ্যায়। সরকারি হাসপাতালের অবহেলার ফলেই তারা এখন আজীবনের লড়াই—এইচআইভি—বয়ে বেড়াতে বাধ্য।
বাড়িওয়ালার অসহিষ্ণুতায় সাত বছরের শিশুর ঘরছাড়া
শশাঙ্ক (পরিবর্তিত নাম), মাত্র সাত বছর বয়স। থ্যালাসেমিয়ার কারণে মাসে দু’বার রক্ত নিতে হয়। তার পরিবার চাইবাসায় ভাড়া থাকত মূলত ছেলের চিকিৎসার সুবিধার জন্য। কিন্তু যখন জানা গেল শশাঙ্ক এইচআইভি পজিটিভ, তখনই বাড়িওয়ালা নির্বিকারভাবে জানিয়ে দিলেন—“এই বাড়িতে থাকা যাবে না।”
শশাঙ্কের বাবা দশরথ বলেন, “আমি অনেক বুঝিয়েছি। বলেছি রোগ কীভাবে হয়েছে। কিন্তু তিনি শুনতেই চাননি। শেষে বাধ্য হয়ে ২৭ কিলোমিটার দূরের গ্রামে ফিরে আসতে হয়েছে।”
গ্রামে ফিরে এসে শুরু হয়েছে নতুন লড়াই। উন্নত চিকিৎসা, ভালো স্কুল, যোগাযোগ—সবচেয়ে জরুরি সুবিধাগুলো এখন তাদের নাগালের বাইরে। দশরথের পরিবার মূলত ধান চাষের ওপর নির্ভরশীল। দৈনিক আয়ের সীমাবদ্ধতার ভেতর থেকে শিশুর ভবিষ্যৎ নিয়ে রাতের ঘুম হারাম হয়ে গেছে বাবার।
তার ক্ষোভ, “একটা ভুল রক্ত দেওয়ার অপরাধ কি দুই লাখ টাকায় মাপা যায়? যদি বড়লোক বা মন্ত্রীর বাচ্চা হতো—ক্ষতিপূরণ কত দিত?”
৪০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে রক্ত আনতে যেতেন সুনীতা
আরেক শিশু দিব্যা (পরিবর্তিত নাম)—থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত, বয়স মাত্র সাত। দিব্যার মা সুনীতা মেয়েকে মাসে দু’বার ৪০ কিলোমিটার দূরে সদর হাসপাতালে নিয়ে যেতেন রক্ত সঞ্চালনের জন্য। সবকিছুই চলছিল নিয়মমাফিক—কিন্তু সেপ্টেম্বরের একটি দিনই বদলে দিল সবকিছু।
সেদিন দিব্যার প্রতি স্বাস্থ্যকর্মীদের আচরণ হঠাৎই বদলে যায়। ডাক্তাররা গ্লাভস পরে তাকে স্পর্শ করছেন, নার্সরা দূরে থাকছেন। তখনই সুনীতার মনে সন্দেহ জাগে।
“আমি ভাবতে লাগলাম—ওদের আচরণ এমন কেন? কিছু তো হয়েছে,”—কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন তিনি।
পরবর্তীতে এক স্বাস্থ্যকর্মী তাকে জানান—ভুল রক্ত দেওয়া হয়েছে, যার ফলে দিব্যার শরীরে ঢুকে গেছে এইচআইভি ভাইরাস। মা হিসেবে সেই মুহূর্তের অসহায়তা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না।
সুনীতা এরপর নিজের দুই ছেলে-মেয়েকে আলাদা করে পাঠিয়ে দেন পরিবারের সুরক্ষার জন্য। এখন তার কাছে একমাত্র লক্ষ্য—দিব্যার চিকিৎসা এবং নিরাপদ ভবিষ্যৎ।
মায়ের একমাত্র ভরসা এখন অসুস্থ শ্রেয়া
ঝিকপানির গ্রামের খড়ের ছাদের মাটির ঘরে থাকে ছয় বছরের শ্রেয়া (পরিবর্তিত নাম) ও তার মা শ্রদ্ধা। স্বামী মারা যাওয়ার পরে মেয়েই তার জীবনের কেন্দ্রবিন্দু। শ্রেয়াও থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত। প্রতি মাসে দুইবার ২৫ কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে রক্ত নিতে হয়।
হঠাৎ একদিন জানতে পারলেন—মেয়ের শরীরে ঢুকে গেছে এইচআইভি। রোগ সম্পর্কে ধারণা নেই, কিন্তু ভয় আর অনিশ্চয়তায় কেঁপে ওঠেন শ্রদ্ধা। সরকারি ক্ষতিপূরণ হিসাবে দুই লাখ টাকার চেক হাতে এসেছে, তবে সেই টাকায় কি চিকিৎসা, ভরণপোষণ, শিক্ষা—সব চলবে?
শ্রদ্ধার প্রশ্ন, “আমি কী করে মেয়ের চিকিৎসা চালাব? হাসপাতালের ভুলে এমন ভয়াবহ রোগের বোঝা কি আমাদের বইতে হবে সারাজীবন?”
পরিবার না জানিয়ে কেন এত বড় ঘটনা ঢাকা পড়ে থাকল?
আশ্চর্যের বিষয়—এই পাঁচ শিশুর মা–বাবা কেউই প্রথমে বিষয়টি জানতেন না। শুধু ডাক্তার ও নার্সের সন্দেহজনক আচরণের কারণেই সন্দেহের সূচনা।
এক পর্যায়ে স্থানীয় সাংবাদিকরা তথ্য জানতে শুরু করলে জেলা প্রশাসন নড়েচড়ে বসে। দশরথের সঙ্গে যোগাযোগ করতেই ঘটনাটি বাইরে আসে। তারপরেই হাইকোর্ট হস্তক্ষেপ করে।
সরকারি আশ্বাস—কিন্তু সন্তুষ্ট নয় কোনো পরিবার
জেলা ম্যাজিস্ট্রেট চন্দন কুমার সমস্ত পরিবারকে আশ্বাস দিয়েছেন—
সরকারি গাড়ির ব্যবস্থা থাকবে
রেশন, আবাসন, শৌচালয়—সব প্রকল্পের সুবিধা দেওয়া হবে
মুখ্যমন্ত্রীর তহবিল থেকে দুই লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ
তবু পরিবারগুলোর ক্ষোভ রয়ে গেছে। তারা বলছে—থ্যালাসেমিয়া ও এইচআইভি, দুটোই আজীবন চিকিৎসা ও ব্যয়সাপেক্ষ। সরকারি সূত্রের ক্ষতিপূরণ মোটেও যথেষ্ট নয়।
দাতাদের রক্ত কোথা থেকে এল? বড় প্রশ্ন তদন্তে
জেলা ম্যাজিস্ট্রেট জানান, ২০২৩–২০২৫ সালের মধ্যে মোট ২৫৯ জন দাতা রক্তদান করেছেন। তাদের মধ্যে ৪৪ জনের তালিকা এখন প্রশাসনের নজরে, এবং চারজন দাতা নিশ্চিতভাবেই এইচআইভি পজিটিভ ছিলেন।
এমন পরিস্থিতিতে দুটি প্রশ্ন উঠে আসে—
1. এই রক্ত ব্যাংক কি নিয়মমাফিক সব পরীক্ষা করেছে?
2. লাইসেন্সবিহীন ব্লাড ব্যাংক কীভাবে চালু ছিল?
স্থানীয় সূত্র জানাচ্ছে—ঝাড়খণ্ডের অন্তত ৯টি ব্লাড ব্যাংকের লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হলেও সেগুলো চালু রয়েছে। হাইকোর্ট এই বিষয়ে রাজ্য সরকারকে তিরস্কার করেছে।
প্রি-কিট ব্যবহার ছিল বিপদের মূল?
স্বাস্থ্য সচিব ডা. নেহা অরোরার দাবি—অনেক ব্লাড ব্যাংকে এখনো প্রি-কিট ব্যবহার করা হয়, যার কারণে ‘উইন্ডো পিরিয়ড’ বড় থাকে এবং এইচআইভি শনাক্তকরণ দেরিতে হয়। অর্থাৎ সংক্রমিত রক্ত সহজেই ফসকে যেতে পারে।
এলিসা বা এনএটি মতো আধুনিক টেস্টে অ্যান্টিজেন দ্রুত ধরা পড়ে। তাই এখন প্রি-কিট ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে।
থ্যালাসেমিয়া চিকিৎসার অবকাঠামো ভঙ্গুর
অ্যাক্টিভিস্ট অতুল গেরার তথ্য আরও উদ্বেগ বাড়ায়—
ঝাড়খণ্ডে ৫,০০০-এরও বেশি থ্যালাসেমিয়া রোগী
কিন্তু মোট হেমাটোলজিস্ট মাত্র একজন
কমপ্লায়েন্স ও নজরদারির অভাবে লাইসেন্স নবায়ন হচ্ছে না
রক্তের গুণমান নিয়ন্ত্রণে বড় ত্রুটি রয়ে গেছে
তার মতে, চাইবাসার ঘটনা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়—এটি বৃহত্তর প্রশাসনিক ব্যর্থতার প্রতিচ্ছবি।
পরিবারের আক্ষেপ—“আমাদের সন্তানদের জীবন কি এতই সস্তা?”
একজন বাবা, একজন মা—তাদের কণ্ঠে একই প্রশ্ন—
“সরকারি হাসপাতালের ভুলে আমাদের সন্তানদের আজীবন রোগে ভুগতে হবে—এর দায় কার?”
দশরথের দৃঢ় বক্তব্য—
“সরকার যদি সাহায্য করতে চায়, তাহলে বড় হাসপাতালে চিকিৎসার ব্যবস্থা করুক। ক্ষতিপূরণ দিক এক কোটি টাকা।”
কারণ তাদের মতে—এই ক্ষতি শুধু আর্থিক নয়, এটি এক ভয়াবহ মানসিক আঘাত, সামাজিক বৈষম্য এবং সারাজীবনের যন্ত্রণা।
সামনে কী?
ঝাড়খণ্ড হাইকোর্ট ইতিমধ্যেই স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। অবহেলার অভিযোগে সিভিল সার্জন, এইচআইভি ইউনিটের দায়িত্বে থাকা চিকিৎসক ও টেকনিশিয়ানকে বরখাস্ত করা হয়েছে। কিন্তু তদন্তের শেষ না হওয়া পর্যন্ত পরিবারগুলো আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছে—
এই ভুল কি আর কারও শিশুর জীবন কেড়ে নেবে?
এই ঘটনা শুধু প্রশাসনিক ব্যর্থতার চিত্র নয়—এটি সামাজিক বৈষম্যের নির্মম বাস্তবতাও তুলে ধরে। যেখানে একটি ভুল রক্তব্যাগ পাঁচটি শিশুর ভবিষ্যৎ অন্ধকার করে দিতে পারে।
FAQ
১. ঘটনাটি কোথায় ঘটেছে?
ঝাড়খণ্ডের পশ্চিম সিংভূম জেলার সদর হাসপাতালে।
২. কতজন শিশু এইচআইভি আক্রান্ত হয়েছে?
মোট পাঁচজন থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত শিশু।
৩. তারা কীভাবে আক্রান্ত হয়েছে?
সরকারি ব্লাড ব্যাংক থেকে সংক্রমিত রক্ত সঞ্চালনের মাধ্যমে।
৪. আক্রান্ত শিশুদের বয়স কত?
সবার বয়স আট বছরের কম।
৫. শিশুদের কি আগে থেকেই কোনো রোগ ছিল?
হ্যাঁ, তারা সবাই থ্যালাসেমিয়া রোগে আক্রান্ত ছিল।
৬. কোন কর্মকর্তা ঘটনাটি নিশ্চিত করেছেন?
জেলা ম্যাজিস্ট্রেট চন্দন কুমার।
৭. কোন হাসপাতালের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে?
চাইবাসা সদর হাসপাতালের।
৮. ঘটনার পর কারা বরখাস্ত হয়েছে?
সিভিল সার্জন, এইচআইভি ইউনিটের চিকিৎসক এবং সংশ্লিষ্ট টেকনিশিয়ান।
৯. মুখ্যমন্ত্রী কী ঘোষণা করেছেন?
প্রতি পরিবারকে দুই লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ।
১০. শশাঙ্ক কে?
এইচআইভি আক্রান্ত পাঁচ শিশুর একজন (নাম পরিবর্তিত)।
১১. শশাঙ্কের পরিবার কেন ঘর ছাড়তে বাধ্য হয়েছে?
বাড়িওয়ালা এইচআইভি আক্রান্ত শিশুকে রাখতে চাননি।
১২. তাদের গ্রাম কত দূরে?
চাইবাসা থেকে প্রায় ২৭ কিলোমিটার দূরে।
১৩. শশাঙ্কের মাসে কয়বার রক্ত লাগে?
মাসে দুইবার।
১৪. দিব্যা কে?
এইচআইভি আক্রান্ত আরেক শিশু (নাম পরিবর্তিত)।
১৫. দিব্যার মা কেন সন্দেহ করেছিলেন?
চিকিৎসক ও নার্সদের আচরণ হঠাৎ বদলে গিয়েছিল।
১৬. চিকিৎসকরা কীভাবে আচরণ করছিলেন?
গ্লাভস পরে দূরত্ব বজায় রেখে।
১৭. দিব্যার পরিবার কত দূর থেকে আসে?
৪০ কিলোমিটার দূর থেকে।
১৮. শ্রেয়া কে?
তৃতীয় আক্রান্ত শিশু (নাম পরিবর্তিত)।
১৯. শ্রেয়া কোথায় থাকে?
ঝিকপানি ব্লকের একটি গ্রামে।
২০. শ্রেয়ার মা কী কাজ করেন?
গৃহিণী; স্বামী মারা গেছেন, মেয়ের একমাত্র ভরসা তিনিই।
২১. থ্যালাসেমিয়া কী?
জন্মগত রক্তশূন্যতার রোগ; নিয়মিত রক্ত লাগে।
২২. এইচআইভি কীভাবে ছড়ায়?
সংক্রমিত রক্ত, অনিরাপদ যৌনসঙ্গ, সুচের মাধ্যমে।
২৩. শিশুদের বাবা-মা কি এইচআইভি পজিটিভ?
না, তাদের টেস্ট নেগেটিভ এসেছে।
২৪. তাহলে শিশুর সংক্রমণের একমাত্র উৎস কী?
সংক্রমিত রক্ত সঞ্চালন।
২৫. প্রথম কার মাধ্যমে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে?
স্থানীয় গণমাধ্যমের মাধ্যমে।
২৬. হাইকোর্ট কী করেছে?
সু-মোটো তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে।
২৭. পরিবারগুলো কী ধরনের সহযোগিতা পাচ্ছে?
রেশন, আবাসন, শৌচালয়, সরকারি গাড়ি ইত্যাদির আশ্বাস।
28. পরিবারগুলো কি ক্ষতিপূরণে সন্তুষ্ট?
না, তারা আরও বেশি ক্ষতিপূরণ দাবি করছে।
29. দশরথ কত ক্ষতিপূরণ চান?
এক কোটি টাকা।
30. কেন তিনি বেশি ক্ষতিপূরণ চান?
কারণ এটি জীবনভর ব্যয়বহুল চিকিৎসার লড়াই।
31. কতজন রক্তদাতা চিহ্নিত হয়েছে?
২৫৯ জনের মধ্যে ৪৪ জনকে প্রাথমিকভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
32. কতজন দাতা এইচআইভি পজিটিভ ছিলেন?
চারজন।
33. রক্ত পরীক্ষায় কোন ত্রুটি ছিল?
প্রি-টেস্টিং কিট ব্যবহারে সংক্রমণ ধরা পড়েনি।
34. এলিসা টেস্ট কী?
অ্যান্টিজেন শনাক্তকারী উন্নত রক্ত পরীক্ষা।
35. এনএটি টেস্ট কী?
আরও উন্নত টেস্ট যা দ্রুত ভাইরাস শনাক্ত করে।
36. প্রি-কিট ব্যবহার এখন কেন নিষিদ্ধ?
কারণ এতে অনেক সংক্রমণ ধরা পড়ে না।
37. কতটি ব্লাড ব্যাংকের লাইসেন্স মেয়াদোত্তীর্ণ ছিল?
চাইবাসাসহ অন্তত ৯টি।
38. লাইসেন্স নবায়নে সমস্যা কেন হয়েছিল?
কমপ্লায়েন্সের অভাব ও প্রশাসনিক অনিয়ম।
39. থ্যালাসেমিয়া রোগী ঝাড়খণ্ডে কতজন?
৫,০০০ এরও বেশি।
40. রাজ্যে হেমাটোলজিস্ট কয়জন?
মাত্র একজন।
41. রক্তের গুণমান নিয়ন্ত্রণে কী সমস্যা?
যথাযথ নিয়ম মানা হয়নি, যন্ত্রপাতির অভাব, অবহেলা।
42. প্রথম শিশুর সংক্রমণ নিশ্চিত হয় কবে?
১৮–২০ অক্টোবরের মধ্যে।
43. তখন কী হয়?
ম্যাজিস্ট্রেট ও নেতারা পরিবারগুলোর সঙ্গে দেখা করেন।
44. পরিবারকে কোন কোন সরকারি প্রকল্পের সুবিধা দেওয়া হবে?
আবাসন, রেশন, শৌচালয়, মোবাইল সহায়তা, চিকিৎসা যান।
45. বাড়িওয়ালা কেন ভাড়া ছাড়তে বলেছিল?
এইচআইভি সম্পর্কে ভুল ধারণা ও আতঙ্কের কারণে।
46. পরিবারটি কোথায় ফিরে গেছে?
স্বামীর গ্রামের বাড়িতে।
47. এতে শিশুর শিক্ষায় কী ক্ষতি হয়েছে?
ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের পড়া বন্ধ।
48. সংক্রমিত শিশুদের এখন কী করা হচ্ছে?
এইচআইভি চিকিৎসা শুরু হয়েছে।
49. এইচআইভি কি আজীবন চিকিৎসা দরকার?
হ্যাঁ, নিয়মিত ওষুধ নিতে হয়।
50. সরকার কি চিকিৎসার খরচ দেবে?
আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, তবে পরিবার মহাখুশি নয়।
51. সুনীতার অন্য সন্তানরা কোথায় আছে?
বাপের বাড়িতে।
52. কেন আলাদা রাখা হয়েছে?
মায়ের ভুল ধারণা থেকেই, যদিও ভাইবোনে ছড়ায় না।
53. নার্সেরা কেন দূরে থাকছিলেন?
সংক্রমণ নিয়ে ভয় বা ভুল ধারণার কারণে।
54. হাসপাতাল কি আগেই জানত?
আচরণ দেখে অনুমান করা যায় তারা বিষয়টি লুকাচ্ছিল।
55. স্বাস্থ্য টেকনিশিয়ান কী দোষে অভিযুক্ত?
রক্ত পরীক্ষার সঠিক নিয়ম অনুসরণ না করা।
56. রক্তব্যাংকের লাইসেন্স কেন জরুরি?
মান নিয়ন্ত্রণ, পরীক্ষার গুণমান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে।
57. লাইসেন্স ছাড়া কাজ করা কি আইনত অপরাধ?
হ্যাঁ, মারাত্মক অপরাধ।
58. হাইকোর্ট রাজ্যকে কী জানতে চেয়েছে?
লাইসেন্স ছাড়া ব্লাড ব্যাংক চলছিল কেন?
59. রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী কী বলছেন?
লাইসেন্স রিনিউয়ালের দায়িত্ব কেন্দ্রের।
60. সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দাবি কী?
রাজ্যই সুপারিশপত্র পাঠায়নি।
61. প্রশাসনিক ব্যর্থতা কি স্বীকার করা হয়েছে?
আধিকারিকভাবে নয়, তবে অবহেলা স্পষ্ট।
62. আক্রান্ত পরিবারের প্রধান চাহিদা কী?
বড় হাসপাতালে স্থায়ী চিকিৎসা।
63. তারা কি আইনি লড়াই করবে?
অনেকে হাইকোর্টের তদন্তের দিকে তাকিয়ে আছে।
64. রক্ত কি একই দাতা থেকে এসেছিল?
এখনো নিশ্চিত নয়, তদন্ত চলছে।
65. কত শিশুর রক্ত একই দিনে দেওয়া হয়েছিল?
স্পষ্ট নয়—তদন্তাধীন।
66. জেলা প্রশাসন কী ফোন নম্বর দিয়েছে?
পরিবারদের সরাসরি যোগাযোগের জন্য।
67. দূর থেকে হাসপাতাল যেতে কী সমস্যা?
অর্থ, যাতায়াত, সময় ও স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ে।
68. থ্যালাসেমিয়া শিশুর মাসে রক্ত ক’বার লাগে?
১–২ বার।
69. রক্ত নেওয়ার আগে কী পরীক্ষা করা উচিত?
এইচআইভি, হেপাটাইটিস বি/সি, ম্যালেরিয়া, সিফিলিস।
70. কোন পরীক্ষা হয়নি বলে সন্দেহ?
এইচআইভির সঠিক স্ক্রিনিং।
71. আক্রান্ত শিশুদের কি স্কুলে যাওয়া চালিয়ে যেতে পারবে?
হ্যাঁ, এইচআইভি ছোঁয়াচে নয়।
72. কিন্তু কি সামাজিক বৈষম্য হবে?
সম্ভাবনা অত্যন্ত বেশি।
73. বাড়িওয়ালার আচরণ কি আইনত বৈষম্য?
হ্যাঁ, মানবাধিকার লঙ্ঘন।
74. পুলিশ কি কিছু करेगा?
এখনো এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ জানা যায়নি।
75. নতুন রক্তব্যাংক কি তৈরি হবে?
পরিকল্পনা চলছে।
76. ভবিষ্যতে এ ধরনের ভুল ঠেকাতে কী দরকার?
উন্নত টেস্টিং এবং কড়া নজরদারি।
77. হেমাটোলজিস্টের সংখ্যাবৃদ্ধি কি জরুরি?
অত্যন্ত জরুরি।
78. এইচআইভি আক্রান্ত শিশু কি দীর্ঘ জীবন পেতে পারে?
নিয়মিত চিকিৎসায় পারে।
79. কি বিশেষ খাদ্য দরকার?
সুষম খাবার, পরিষ্কার পানি, পুষ্টিকর ডায়েট।
80. কি আলাদা বাসনপত্র দরকার?
না।
81. ছুঁয়ে বা খেললে কি এইচআইভি ছড়ায়?
না।
82. স্কুল কর্তৃপক্ষ কি জানবে?
আইনীভাবে গোপনীয় তথ্য—শেয়ার করতে বাধ্য নয়।
83. কারা এই ঘটনার বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলছেন?
অ্যাক্টিভিস্ট, সাংবাদিক, পরিবার, স্থানীয় সংগঠনগুলো।
84. কেন্দ্র কি তদন্ত করবে?
সম্ভাবনা আছে, রাজ্য চাইলে।
85. ক্ষতিপূরণ কি পরে বাড়তে পারে?
হাইকোর্ট চাইলে বাড়াতে পারে।
86. শিশুদের কি বিশেষ স্বাস্থ্য কার্ড দেওয়া হবে?
সম্ভব, তবে এখনো ঘোষণা হয়নি।
87. রক্ত পরীক্ষা কি নিয়মিত হয়?
হতে হয়, কিন্তু অবহেলায় হয়নি।
88. সরকারি হাসপাতালগুলোর কি পর্যাপ্ত স্টাফ আছে?
অনেক জায়গাতেই নেই।
89. রক্তদাতার তথ্য কি সঠিকভাবে সংরক্ষিত ছিল?
তদন্তে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
90. এই ঘটনার রাজনৈতিক প্রভাব কী?
সরকার–বিরোধী তীব্র সমালোচনা।
91. পরিবারগুলো কি একে অপরের সাথে যোগাযোগ রাখে?
হ্যাঁ, আদানপ্রদান হচ্ছে।
92. তারা কি যৌথ মামলা করবে?
সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাবে না।
93. সরকার কি মানসিক পরামর্শ দেবে?
এখনো ঘোষণা হয়নি।
94. শিশুর ভবিষ্যৎ কি ঝুঁকিতে?
চিকিৎসা না পেলে—হ্যাঁ।
95. চিকিৎসার খরচ কত?
আজীবন লাখ লাখ টাকা।
96. শিশুদের কি সুরক্ষা ভাতা দেওয়া হবে?
এখনো স্পষ্ট নয়।
97. নার্সদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা?
তদন্ত চলছে—অবহেলার ভিত্তিতে ব্যবস্থা হতে পারে।
98. ইচ্ছাকৃত লুকোচুরি কি প্রমাণিত?
এখনো নয়—তদন্তাধীন।
99. পরিবারগুলো এখন কোন প্রধান সমস্যায়?
চিকিৎসা, যাতায়াত, সামাজিক বৈষম্য, মানসিক চাপ।
100. এই ঘটনা ভবিষ্যতে কী বার্তা দিচ্ছে?
রক্তব্যাংক নজরদারি ও স্বাস্থ্যব্যবস্থায় সংস্কারের জরুরি প্রয়োজন।
#HIVScandal
#JharkhandHealthCrisis
#BloodBankNegligence

Hello, I am Biplab Baroi. I have been working in blogging for more than four years. I began my journey in the digital media industry in 2021.
Along with covering daily news and current events, I write articles on tech news, smartphones, and astrology. My work is created strictly for educational purposes use only.