২০২৬ সালের প্রথম সূর্যগ্রহণ ঘটতে চলেছে ১৭ ফেব্রুয়ারি। ভারতীয় সময় অনুযায়ী, এই সূর্যগ্রহণ শুরু হবে বিকেল ৩টা ২৬ মিনিটে এবং শেষ হবে সন্ধ্যা ৭টা ৫৭ মিনিটে। জ্যোতিষশাস্ত্র মতে, সূর্যগ্রহণের দিন গ্রহ-নক্ষত্রের বিশেষ অবস্থান মানুষের জীবনে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে।
পঞ্জিকা অনুসারে, ওই দিন সকাল ৯টা ০৫ মিনিটে চাঁদ শনির কুম্ভ রাশিতে প্রবেশ করবে। পরে রাত ৯টা ১৫ মিনিটে চাঁদ শতভিষা নক্ষত্রে গমন করবে। চন্দ্রের এই দ্বিগুণ গোচর এবং সূর্যগ্রহণের সংযোগ চারটি রাশির জীবনে অস্বস্তি, মানসিক চাপ ও আর্থিক টানাপোড়েন তৈরি করতে পারে।
মেষ রাশি
সূর্যগ্রহণের দিনে চন্দ্রের অবস্থান মেষ রাশির জাতক-জাতিকাদের জন্য চ্যালেঞ্জিং হতে পারে। মানসিক অস্থিরতা ও শারীরিক দুর্বলতা দেখা দিতে পারে। বিবাহিত জীবনে মতবিরোধ বাড়তে পারে এবং প্রেমের সম্পর্কে তিক্ততা আসতে পারে। আগে থেকে পরিকল্পিত কাজ বা প্রকল্পে বাধা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
কর্কট রাশি
চন্দ্রের দ্বিগুণ গোচর কর্কট রাশির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। শারীরিক শক্তি কমে যাওয়া, মানসিক উদ্বেগ এবং মায়ের স্বাস্থ্যের অবনতি নিয়ে চিন্তা বাড়তে পারে। আর্থিক বিষয়ে সতর্ক না থাকলে ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে। এই সময় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ভেবেচিন্তে নেওয়া জরুরি। ধ্যান বা আত্মনিয়ন্ত্রণ চর্চা উপকারী হতে পারে।
তুলা রাশি
তুলা রাশির জাতকদের জন্য এই সময়টা পরিশ্রমসাপেক্ষ হতে পারে। কর্মক্ষেত্রে চাপ বাড়বে এবং পারিবারিক দ্বন্দ্বের সম্ভাবনা থাকবে। অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা দেখা দিতে পারে, এমনকি ক্ষতিও হতে পারে। বড় বিনিয়োগ বা গুরুত্বপূর্ণ লেনদেন আপাতত স্থগিত রাখাই বুদ্ধিমানের কাজ।
কুম্ভ রাশি
কুম্ভ রাশির ক্ষেত্রে চন্দ্রের রাশি পরিবর্তন কিছু কঠিন পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। দাম্পত্য জীবনে তর্ক-বিতর্ক এড়ানো উচিত। পেটের সমস্যার সম্ভাবনা রয়েছে। আর্থিক উন্নতির সম্ভাবনা কম থাকায় বড় অঙ্কের টাকা ধার দেওয়া বা ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক হবে না। পাশাপাশি বাবা-মায়ের স্বাস্থ্যের দিকেও নজর রাখা প্রয়োজন।
উপসংহার
সূর্যগ্রহণ এবং চন্দ্রের গোচর জ্যোতিষশাস্ত্রে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এর এই মহাজাগতিক ঘটনাকে ঘিরে মেষ, কর্কট, তুলা ও কুম্ভ রাশির জাতকদের জন্য সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। মানসিক স্থিরতা, সংযম এবং বিবেচনার মাধ্যমে অনেক সমস্যাই এড়িয়ে চলা সম্ভব।