বলিউডে বয়স যেন আজ আর কোনও বাধা নয়। মলাইকা আরোরার ফিটনেস, কাজল বা করিশ্মা কপূরের গ্রেস, সুস্মিতা সেন ও ঐশ্বর্য রাই বচ্চনের অনবদ্য সৌন্দর্য—সবাই প্রমাণ করেছেন, ৫০ পেরোলেই যৌবন শেষ হয়ে যায় না। এই তালিকায় সাম্প্রতিক সংযোজন অভিনেত্রী চিত্রাঙ্গদা সিংহ। আগামী অগস্টে ৫০ পেরিয়ে ৫১ বছরে পা দিতে চলেছেন তিনি। কিন্তু তাঁর চেহারা দেখে সে কথা বিশ্বাস করা কঠিন। মুখে নেই বয়সের ছাপ, চোখের পাশে বলিরেখা প্রায় অদৃশ্য, ত্বক টানটান ও উজ্জ্বল।
সম্প্রতি এক পডকাস্টে অভিনেত্রী নিজেই ফাঁস করেছেন তাঁর সৌন্দর্য ও সুস্থতার রহস্য। চিত্রাঙ্গদার মতে, দিনের শুরুটা যেমন হয়, তার প্রভাব পড়ে গোটা শরীর ও ত্বকের উপর। তাই তিনি ভীষণ গুরুত্ব দেন তাঁর সকালের রুটিনে।
চিত্রাঙ্গদা সিংহের সকালের রুটিন
১. ঘুম থেকে উঠে গরম জল
দিনের শুরুতেই চিত্রাঙ্গদা খান প্রায় এক কফি মগ ভর্তি গরম জল। তাঁর মতে, খালি পেটে গরম জল শরীরকে ভিতর থেকে পরিষ্কার করতে সাহায্য করে।
২. জিরে-জোয়ান-লেবুর বিশেষ পানীয়
গরম জল খাওয়ার কিছুক্ষণ পর তিনি খান এক বিশেষ ‘চা’। যদিও এতে চা-পাতা নেই। সারা রাত জিরে ও জোয়ান ভিজিয়ে রেখে সকালে তা ফুটিয়ে নেন। এরপর তাতে লেবুর রস মিশিয়ে পান করেন তিনি। এই পানীয় হজমের জন্য অত্যন্ত উপকারী বলে মনে করেন অভিনেত্রী।
৩. প্রাক্-প্রাতরাশ ফল
সকালের নাশতার আগে চিত্রাঙ্গদার পাতে থাকে ফল। সাধারণত একটি গোটা কিউয়ি ও এক বাটি পেঁপে খান তিনি। এটিই তাঁর প্রাক্-প্রাতরাশ মেনু।
চিত্রাঙ্গদার বিশ্বাস, ভাল ত্বকের মূল চাবিকাঠি হল ভাল হজমশক্তি ও সুস্থ পেট। তাই বাইরে থেকে যত্ন নেওয়ার পাশাপাশি শরীরকে ভিতর থেকে ঠিক রাখাকেই তিনি বেশি গুরুত্ব দেন।
কেন এই অভ্যাসগুলি এত উপকারী?
খালি পেটে গরম জল অন্ত্র পরিষ্কার করতে সাহায্য করে এবং শরীরকে আর্দ্র রাখে। ফলে ত্বক ভালো থাকে এবং ওজন কমাতেও সহায়ক হয়।
জিরে, জোয়ান ও লেবু হজমে সহায়ক এনজাইম ক্ষরণ বাড়ায়, গ্যাস ও অম্বল কমাতে সাহায্য করে।
কিউয়িতে থাকা ভিটামিন সি কোলাজেন তৈরিতে সাহায্য করে, ব্রণ কমায় এবং ত্বককে উজ্জ্বল রাখে।
পেঁপের অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট ত্বকের তারুণ্য বজায় রাখতে সাহায্য করে এবং রোদে হওয়া ক্ষতি প্রতিরোধ করে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, কোনও ম্যাজিক ট্রিটমেন্ট নয়—নিয়মিত স্বাস্থ্যকর অভ্যাসই চিত্রাঙ্গদা সিংহের সৌন্দর্যের আসল রহস্য। তাঁর এই সহজ রুটিন যে অনেকের কাছেই অনুপ্রেরণা হতে পারে, তা বলাই বাহুল্য।