বক্স অফিসে সাফল্যের মধ্যেই নতুন বিতর্কে জড়াল আদিত্য ধরের পরিচালিত ‘ধুরন্ধর’ ফ্র্যাঞ্চাইজির সাম্প্রতিক ছবি ‘ধুরন্ধর দ্য রিভেঞ্জ’। ছবিটি মুক্তির পর থেকেই ব্যবসায়িক সাফল্য পেতে শুরু করে। দেশজুড়ে বিপুল আয়ের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারেও ছবিটি দর্শকদের আগ্রহ কেড়েছে। তবে এই সাফল্যের মাঝেই সামাজিক মাধ্যমে ক্ষমা চেয়ে বক্তব্য রাখতে দেখা গেল অভিনেতা R. Madhavan-কে।
কী নিয়ে বিতর্ক
বিতর্কের সূত্রপাত ছবির একটি নির্দিষ্ট দৃশ্যকে কেন্দ্র করে। অভিযোগ ওঠে, সেই দৃশ্যে চরিত্রের অংশ হিসেবে সিগারেট খাওয়ার পর একটি পবিত্র ধর্মগ্রন্থের শ্লোক পাঠ করা হয়েছে। শিখ সম্প্রদায়ের কিছু সদস্যের দাবি, এভাবে ধর্মীয় শ্লোক ব্যবহারের ফলে তাঁদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লেগেছে।
এই অভিযোগের ভিত্তিতে শিখ সম্প্রদায়ের সদস্য গুরুজ্যোত সিং কির নামে একজন ব্যক্তি থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে বলা হয়, দৃশ্যটি ধর্মীয় মর্যাদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং তা সম্প্রদায়ের অনেকের কাছে আপত্তিকর মনে হয়েছে। অভিযোগে অভিনেতা মাধবনের পাশাপাশি ছবির প্রধান অভিনেতা Ranveer Singh এবং পরিচালক Aditya Dhar-এর নামও উল্লেখ করা হয়েছে।
মাধবনের বক্তব্য
বিতর্ক বাড়তে থাকায় সামাজিক মাধ্যমে একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করেন মাধবন। সেখানে তিনি বলেন, পুরো বিষয়টি মূলত ভুল বোঝাবুঝির ফল। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, যে দৃশ্যটি নিয়ে আলোচনা চলছে সেখানে শ্লোক উচ্চারণের আগে সিগারেট নিভিয়ে দেওয়া হয়েছিল।
অভিনেতার দাবি, পরিচালক বিশেষভাবে সতর্ক করেছিলেন যাতে সংলাপ বলার সময় তাঁর হাতে সিগারেট না থাকে এবং মুখ থেকে ধোঁয়াও না বেরোয়। কারণ সংশ্লিষ্ট ধর্মীয় বিষয়টি অত্যন্ত সম্মানের সঙ্গে দেখেই দৃশ্যটি তৈরি করা হয়েছিল। তিনি আরও বলেন, দৃশ্যে এমন কোনও মুহূর্ত নেই যেখানে শ্লোক পাঠের সময় ধূমপানের ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি সম্মান জানালেন অভিনেতা
ভিডিও বার্তায় মাধবন জানান, ছবির পুরো দলই বিভিন্ন ধর্ম ও সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল। কারও অনুভূতিতে আঘাত করা তাঁদের উদ্দেশ্য ছিল না। তিনি আরও উল্লেখ করেন, নিজের কাজের আগে বা গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে তিনি প্রার্থনা করতে যান এবং ধর্মীয় স্থানে গিয়ে আশীর্বাদ নেওয়াও তাঁর অভ্যাসের অংশ।
প্রতিবাদের ডাক
অভিযোগকারী পক্ষের তরফে সামাজিক মাধ্যমে একটি পোস্ট ও ভিডিও শেয়ার করা হয়। সেখানে শিখ সম্প্রদায়ের সদস্যদের শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ জানানোর আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি বলা হয়, দ্রুত ক্ষমা না চাইলে সংশ্লিষ্ট শিল্পীদের বিরুদ্ধে আরও বড় আন্দোলন হতে পারে।
এই ঘটনার ফলে ছবির সাফল্যের পাশাপাশি নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে—সিনেমায় ধর্মীয় উপাদান ব্যবহারের ক্ষেত্রে কতটা সংবেদনশীল হওয়া উচিত, তা নিয়ে। অনেকেই মনে করছেন, বড় বাজেটের ছবিতে এমন বিষয় ব্যবহারের আগে আরও সতর্কতা প্রয়োজন। অন্যদিকে, ছবির সমর্থকদের মতে, পুরো বিষয়টি ভুল ব্যাখ্যার কারণে বড় আকার নিয়েছে।
এখন কী হতে পারে
আইনি প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় বিষয়টি তদন্তের আওতায় আসতে পারে। পরিস্থিতি কীভাবে এগোয়, তা নির্ভর করবে তদন্তের ফলাফল এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর পরবর্তী পদক্ষেপের উপর। তবে ইতিমধ্যেই অভিনেতার ব্যাখ্যা প্রকাশ্যে আসায় বিতর্ক কিছুটা হলেও নতুন মোড় নিয়েছে।

Hello, I am BB. I have been working in blogging for more than four years.