বর্ষার দাপটে কার্যত বিপর্যস্ত দেশের দুই প্রধান মহানগর দিল্লি ও মুম্বই। টানা ভারী বৃষ্টির জেরে দিল্লির বিস্তীর্ণ এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। বিভিন্ন রাস্তায় হাঁটু থেকে গোড়ালি সমান জল জমে যাওয়ায় যান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। অফিসযাত্রী, পথচারী এবং সাধারণ মানুষকে চরম ভোগান্তির মুখে পড়তে হচ্ছে। আবহাওয়া দফতর আগামী ২৪ ঘণ্টায় দিল্লি ও সংলগ্ন এলাকায় ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে। একই সঙ্গে মুম্বই ও পার্শ্ববর্তী জেলাগুলিতেও অতিভারী বৃষ্টি এবং হড়পা বানের সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
দিল্লিতে গত কয়েক দিনের টানা বর্ষণে শহরের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। বুরারী, সদর বাজার, সঙ্গমবিহার এবং মেহরৌলি-বদরপুর রোডে জল জমে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা কার্যত স্তব্ধ হয়ে গিয়েছে। রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় গাছ উপড়ে পড়ার ঘটনাও ঘটেছে। সবচেয়ে মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে রোহিণী এলাকায়, যেখানে টানা বৃষ্টির জেরে একটি পাঁচতলা বাড়ি ধসে পড়ে তিন জনের মৃত্যু হয়েছে।
বৃষ্টিপাতের পরিসংখ্যানও উদ্বেগজনক। গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি ১০৩ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড হয়েছে ময়ূরবিহারে। এছাড়া দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় ৯০ মিলিমিটার, লোধী রোডে ৮০.২ মিলিমিটার, সফদরজংয়ে ৭২.৬ মিলিমিটার এবং পালমে ৬৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। এই বিপুল বৃষ্টির জেরে শহরের নিকাশি ব্যবস্থা চাপের মুখে পড়েছে এবং বহু রাস্তায় জল জমে যানজট আরও তীব্র হয়েছে।
শুধু দিল্লিই নয়, এর প্রভাব পড়েছে সংলগ্ন এলাকাগুলিতেও। উত্তরপ্রদেশের গাজিয়াবাদ, নয়ডা ও মেরঠ এবং হরিয়ানার গুরুগ্রামেও প্রবল বৃষ্টি হচ্ছে। দিল্লি-নয়ডা এক্সপ্রেসওয়ে এবং দিল্লি-মেরঠ এক্সপ্রেসওয়ের বিভিন্ন অংশে জল জমে যান চলাচল প্রায় থমকে গিয়েছে। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ১০ জুলাই পর্যন্ত দিল্লি, হরিয়ানা, চণ্ডীগড় এবং পশ্চিম উত্তরপ্রদেশে ভারী বৃষ্টির পরিস্থিতি বজায় থাকতে পারে।
অন্যদিকে, আর্থিক রাজধানী মুম্বইতেও বৃষ্টির দাপট অব্যাহত রয়েছে। আগামী কয়েক দিন শহর ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির সম্ভাবনার কথা জানিয়ে সতর্কতা জারি করেছে আবহাওয়া দফতর। প্রবল বর্ষণের কারণে শহরের একাধিক এলাকায় হড়পা বানের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। নিচু এলাকাগুলিতে জলস্তর দ্রুত বাড়তে থাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
মুম্বইয়ের টানা বৃষ্টির প্রভাব পড়েছে পরিবহণ ব্যবস্থাতেও। রেললাইনে জল জমে যাওয়ায় একাধিক রুটে ট্রেন পরিষেবা বাতিল বা বিলম্বিত হচ্ছে। বিমান পরিষেবাও ব্যাহত হয়েছে। শুধু মুম্বই নয়, মহারাষ্ট্রের পালঘর, ঠাণে এবং রায়গড় জেলাতেও অতিভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস জারি করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই রাজ্যে বৃষ্টিজনিত বিভিন্ন ঘটনায় ১৩ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে।
আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী ২৪ ঘণ্টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকলে জলাবদ্ধতা, যানজট এবং আকস্মিক বন্যার পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। তাই প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে অপ্রয়োজনে বাইরে না বেরোনোর এবং স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশিকা মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

Hello friends, Myself Biplab. I have been writing horoscopes since 2019. Since 2022, I have also been writing about entertainment, lifestyle, and trending news.