বলিউড শোকস্তব্ধ। প্রবীণ অভিনেতা ধর্মেন্দ্র আর নেই। ২৪ নভেম্বর, ৮৯ বছর বয়সে দীর্ঘ অসুস্থতার কাছে হার মানলেন ‘হি-ম্যান’। কিন্তু তিনি বিদায় নিলেও থেকে গেল তাঁর এক চিরসবুজ প্রেমকাহিনি—ড্রিম গার্ল হেমা মালিনীর সঙ্গে যা আজও বলিউডের ইতিহাসে অনন্য।
প্রথম দেখা—এক ছবির সেটেই বদলে গিয়েছিল সব
হেমা মালিনীর আত্মজীবনী ‘হেমা মালিনী: বিয়ন্ড দ্য ড্রিম গার্ল’-এ ধরা আছে তাঁদের প্রথম সাক্ষাতের মুহূর্ত। সাল ১৯৭০। ‘তু হাসিন ম্যায় জওয়ান’ ছবির শুটিং সেটে প্রথম দেখা দু’জনের। তারপর খুব অল্প সময়ের মধ্যেই প্রেমে জড়িয়ে পড়েন তাঁরা।
হেমা এক পুরনো সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন—“ধর্মেন্দ্রকে দেখে বুঝেছিলাম তিনিই সেই মানুষ, যার সঙ্গে জীবন কাটাতে চাই।”
তখন ধর্মেন্দ্র ছিলেন পরিবারের কর্তা
এই প্রেমের সমীকরণ এত সহজ ছিল না। যখন সম্পর্কের গভীরতা বাড়ছে, তখনই ধর্মেন্দ্র ছিলেন বিবাহিত এবং চার সন্তানের বাবা। তাঁর প্রথম স্ত্রী প্রকম্বর কৌর তখনও তাঁর জীবনে সম্পূর্ণভাবে উপস্থিত।
বলিউডের করিডোরে বহুদিন ধরেই শোনা যায়—প্রথম স্ত্রীকে ডিভোর্স না দিয়েই ১৯৮০ সালে হেমা মালিনীকে বিয়ে করেন ধর্মেন্দ্র। আরও শোনা যায়, নাকি দ্বিতীয় বিয়ের জন্য তিনি ধর্মান্তরিতও হয়েছিলেন।
তবে এই প্রসঙ্গে কখনও স্পষ্ট করে কিছু বলেননি অভিনেতা। প্রশ্ন উঠলে বরাবরই এড়িয়ে গেছেন তিনি।
হেমা–ধর্মেন্দ্র: ভাষার বাইরের প্রেম
বিবাহ নিয়ে নানা জল্পনা থাকলেও, সম্পর্কের গভীরতা কখনও অস্বীকার করা যায়নি। বহু বছর একসঙ্গে থেকেছেন তাঁরা। বলিউডের অন্যতম আইকনিক জুটি হিসেবে আজও তাঁদের নাম উচ্চারণ করা হয় শ্রদ্ধার সঙ্গে।
শেষ বয়সেও ছিলেন আলোচনার কেন্দ্রে
মৃত্যুর আগের কয়েক সপ্তাহ ধরেই চর্চায় ছিলেন ধর্মেন্দ্র তাঁর নতুন ছবি ‘একিস’-কে কেন্দ্র করে। ছবির ট্রেলারে বিগ বি–এর নাতি অগস্ত্য নন্দার সঙ্গে তাঁকে দেখা গিয়েছে। ছোট কিন্তু শক্তিশালী চরিত্রে আবারও ভক্তদের মন ছুঁয়েছিলেন তিনি।
ধর্মেন্দ্র আর নেই—রয়ে গেল এক অমলিন প্রেম
আজ ধর্মেন্দ্রের প্রয়াণে শোকস্তব্ধ বলিউড। হেমা মালিনীও ভেঙে পড়েছেন। কিন্তু তাঁদের প্রেমের গল্প, যা একসময় বিতর্ক, গুঞ্জন, প্রশংসা—সব কিছুরই কেন্দ্র ছিল, আজ কিংবদন্তির মর্যাদা পেয়েছে।
ধর্মেন্দ্র চলে গেলেন, কিন্তু বলিউডে তাঁর রেখে যাওয়া প্রেমকাহিনি—এখনও সমান আবেগে বলা হয়, বলা হবে আরও বহুদিন।
আরও পড়ুন
শেষবিদায় ধর্মেন্দ্রকে: শ্মশানে হেমার চোখ ছলছল, হাজির বলিউড তারকারা

Hello, I am BB. I have been working in blogging for more than four years.