বলিউড তারকা ধর্মেন্দ্র আর নেই। ২৪ নভেম্বর সকালেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন ভারতীয় সিনেমার ‘হি-ম্যান’। কিছু দিন আগেই মুম্বইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছিলেন তিনি। বাড়িতে ধীরে ধীরে সুস্থ হচ্ছিলেন বলেই জানিয়েছিল পরিবার। কিন্তু হঠাৎই শনিবার সকালে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। জুহুর বাসভবনে অ্যাম্বুলেন্স ঢোকা–বেরোনোর দৃশ্যেই আঁচ পাওয়া যায় পরিস্থিতির ভয়াবহতা।
যদিও পরিবারের তরফে এখনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি আসেনি, তবুও মেয়ে এশা দেওল, স্ত্রী হেমা মালিনী, এবং পরিবারের ঘনিষ্ঠদের পবন হংস শ্মশানে দেখা যাওয়ার পরই খবরটি নিশ্চিত হয়ে যায়। শেষযাত্রায় হাজির হয়েছিলেন অমিতাভ বচ্চন, শাহরুখ খান, সলমন খান–সহ বলিউডের বহু তারকা।
এই শোকঘন মুহূর্তে পৌঁছেছিলেন কিংবদন্তি চিত্রনাট্যকার সেলিম খানও। ‘শোলে’–র লেখক, সলমন খানের বাবা এবং ধর্মেন্দ্রর বহু দশকের বন্ধু। ironical হলেও সত্যি—আজই সেলিম খান ৯০ বছরে পদার্পণ করেছেন। জন্মদিনের দিনই চলে গেলেন তাঁর সবথেকে কাছের বন্ধু। স্রষ্টার জন্মদিনেই সৃষ্টির মৃত্যু যেন।
ধর্মেন্দ্র ও সেলিম খানের বন্ধুত্বের কাহিনি বলিউডে কিংবদন্তি। পুরনো সাক্ষাৎকারে সেলিম বলেছিলেন, “আমরা একসঙ্গে লড়াই করেছি, জীবনের অনেক সংগ্রাম দেখেছি। আমাদের অভিজ্ঞতা, পরিশ্রম—সবই মিলেমিশে গেছে।”
১৯৮৮ সালে তাঁরা আবারও একসঙ্গে কাজ করেছিলেন সালমান–আরবাজ খান ও কাজল অভিনীত ‘পেয়ার কিয়া তো ডরना কেয়া’–র সেটে। সেখানকার নেপথ্য ভিডিওতে দুই দিগন্তের বন্ধুত্বের ঝলক দেখা যায়।
এ যেন বাস্তবের এক অভিনব ট্র্যাজেডি—‘শোলে’ ছবিতে জয় (অমিতাভ বচ্চন) আগে চলে গেলেও বাস্তবে সেই চিত্রনাট্য লেখা হলো উল্টোভাবে। প্রাণের বন্ধু অমিতাভকে একা রেখে চিরতরে বিদায় নিলেন ধর্মেন্দ্র। তাও আবার শোলে ছবির ৫০তম বর্ষে—বলিউডের ইতিহাসে যা এক অদ্ভুত কাকতালীয় ঘটনা হিসেবে থেকে যাবে।
ধর্মেন্দ্রর শেষ সিনেমা হতে চলেছিল ‘ইক্কিস’। অমিতাভের নাতি অগস্ত্য নন্দার সঙ্গে এই ছবিতে অভিনয় করেছেন তিনি। অগস্ত্য যেখানে অভিনয় করেছেন এক তরুণ সেনার ভূমিকায়, সেখানে ধর্মেন্দ্রকে দেখা যাওয়ার কথা ছিল এক অবসরপ্রাপ্ত কর্নেলের চরিত্রে। ট্রেলার ইতিমধ্যেই প্রশংসা কুড়িয়েছে। কিন্তু দর্শকেরা আর দেখতে পাবেন না তাঁর জীবদ্দশায় মুক্তি পাওয়া সেই শেষ কাজ।
ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে ধর্মেন্দ্র এক অনন্য অধ্যায়। আজ সেই অধ্যায় বন্ধ হলো—কিন্তু স্মৃতি, ছবি, সংলাপ আর কিংবদন্তী হয়ে তিনি থেকে গেলেন লক্ষ দর্শকের হৃদয়ে।
আরও পড়ুন
ধর্মেন্দ্রর মহানুভবতা আজও হৃদয়ে টোটা, ‘রকি অর রানি…’ শুটিংয়ের অজানা গল্প শোনালেন অভিনেতা
হি-ম্যানের বিদায়—আরেক যুগের শেষ। বলিউডের আকাশে যেন এক অপুরণীয় শূন্যতা।

Hello, I am BB. I have been working in blogging for more than four years.