আদা ও চালের জলে তৈরি ঘরোয়া হেয়ার স্প্রে: রুক্ষতা কমাবে, বাড়াবে ঘন চুল

শীতের শুরুতেই ত্বকের মতো চুলেও শুষ্কতা দেখা দেয়। রুক্ষ চুল, ডগা ফাটা, উজ্জ্বলতা হারিয়ে যাওয়া—এসব সমস্যা শীতকালে আরও বাড়ে। তবে ঘরেই থাকা দুটি সহজ উপকরণ দিয়ে তৈরি করা যায় এমন এক বিশেষ হেয়ার স্প্রে, যা নিয়মিত ব্যবহার করলে চুল পায় নতুন প্রাণ। আদা ও চালের জলের সমন্বয়ে তৈরি এই স্প্রে শুধু চুলকে নরমই করে না, গোড়াকে শক্ত করেও চুলের ঘনত্ব বাড়াতে সাহায্য করে।

চালের জলের উপকারিতা
চুলের যত্নে চালের জল ব্যবহারের প্রচলন বহু পুরনো।
যদিও সব গুণ বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত নয়, তবুও চর্চার অভিজ্ঞতা বলে—চালের জলে থাকা স্টার্চ, ভিটামিন, ইনোসাইটল, খনিজ পদার্থ ইত্যাদি চুলের রুক্ষতা অনেকটাই কমায়। এতে থাকে আয়রন, ম্যাগনেশিয়াম, পটাশিয়ামসহ কিছু অ্যামাইনো অ্যাসিড, যা চুলকে নরম ও মসৃণ করে।
অনেকে চাল ভিজিয়ে রেখে তার জল ব্যবহার করেন। এই জলে ফার্মেন্টেশন হওয়ার কারণে ভালো ব্যাকটেরিয়া সৃষ্টি হয়, যা মাথার ত্বককে সুস্থ রাখতে সহায়তা করে। ফার্মেন্টেড চালের জল সামান্য অ্যাসিডিক হয়—এটি স্ক্যাল্পের পিএইচ ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়ক।

আদার শক্তি
আদায় রয়েছে জিঞ্জেরল ও শোগল নামের দুটি সক্রিয় উপাদান। এগুলি রক্তনালিকে হালকা প্রসারিত করে মাথার ত্বকে রক্তসঞ্চালন বাড়ায়। ফলে চুলের গোড়ায় বেশি পুষ্টি পৌঁছায় এবং ফলিকল শক্ত হয়। এই কারণেই আদাভিত্তিক হেয়ার ট্রিটমেন্ট চুল পড়া কমাতে অনেক সময় কার্যকর হয়।

স্প্রে তৈরির পদ্ধতি
স্প্রে তৈরি করা খুব সহজ—
১. চাল ধুয়ে নেওয়ার পর যে জল পাওয়া যায়, সেটি আলাদা করে রাখুন।
২. এর মধ্যে সামান্য তাজা আদা থেঁতো করে মিশিয়ে দিন।
৩. মিশ্রণটি ছেঁকে একটি পরিষ্কার স্প্রে বোতলে ভরে নিন।
ইচ্ছা হলে চালের জল কয়েক ঘণ্টা রেখে ফার্মেন্ট করে নিয়ে ব্যবহার করলে আরও ভালো ফল মিলতে পারে।

ব্যবহার করার নিয়ম
১. প্রথমে শ্যাম্পু করে চুল ধুয়ে নিন।
২. তোয়ালে দিয়ে জল ঝরিয়ে নিন বা প্রাকৃতিকভাবে শুকাতে দিন।
৩. এবার স্প্রে চুলের গোড়া ও স্ক্যাল্পে ছড়িয়ে ২–৩ মিনিট হালকা মাসাজ করুন।
৪. ইচ্ছে হলে গরম জলে ভেজানো তোয়ালে মাথায় জড়িয়ে রাখুন। এতে ভাপ লাগার ফলে রক্তসঞ্চালন আরও বাড়ে এবং স্ক্যাল্প পরিষ্কার হয়।
৫. শেষে আবার শ্যাম্পু করে সাধারন মতো কন্ডিশনার ব্যবহার করুন।
৬. সপ্তাহে ১–২ দিন ব্যবহার করলেই ভালো ফল পাওয়া যায়।

আরও পড়ুন
রান্না, রূপচর্চা থেকে জীবনের উন্নতি—হলুদের নানা ব্যবহারে বিশ্বাস ও টোটকা

সতর্কতা
এটি সম্পূর্ণ ঘরোয়া উপায় এবং সাধারণত সবার জন্য নিরাপদ হলেও
– ব্যবহারের আগে অবশ্যই প্যাচ টেস্ট করা জরুরি।
– মাথার একটি ছোট অংশে মিশ্রণ লাগিয়ে আধ ঘণ্টা অপেক্ষা করুন।
– যদি চুলকানি, জ্বালা বা লালচে ভাব দেখা না দেয়, তবে ব্যবহার করা নিরাপদ।
– কারও চুল অত্যধিক পড়ে গেলে বা স্ক্যাল্পে কোনও রোগের উপসর্গ দেখা দিলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

আরও পড়ুন
আর্থিক স্বস্তি থেকে উন্নতির আশা—হিন্দু আচার অনুযায়ী মান্য বিশ্বাস

শুধু হজম শক্তি বাড়িয়ে দেয় না, জোয়ান খেলে শরীরের অনেক সমস্যা নিবারণ হয় মুখরোচক বাদাম চিক্কি খেতে দারুন, বাড়িতেই তৈরী হবে, জানুন রেসিপি এইভাবে তেজপাতা পোড়ালে দুশ্চিন্তা কেটে যাবে 5 Best Night Creams ৪ মাসের শিশু ২৪০ কোটির মালিক