আইআইটি কানপুর—এই নাম শুনলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে মোটা বেতনের চাকরি, বহুজাতিক সংস্থা আর কর্পোরেট সাফল্যের ছবি। কিন্তু অঙ্কুশ সচদেবা সেই চেনা পথে হাঁটেননি। কম্পিউটার সায়েন্সে পড়াশোনা করলেও তাঁর স্বপ্ন ছিল আলাদা—নিজের মতো করে কিছু গড়ার, নতুন কিছু বানানোর। আর সেই স্বপ্নের পথেই বারবার হোঁচট খেয়েছেন তিনি।
অঙ্কুশের উদ্যোক্তা জীবনের শুরুটা মোটেই মসৃণ ছিল না। একের পর এক স্টার্টআপ আইডিয়া নিয়ে কাজ করেছেন—কখনও পড়াশোনার অ্যাপ, কখনও লোকাল সার্ভিস প্ল্যাটফর্ম। কিন্তু ফলাফল একটাই—ব্যর্থতা। একবার নয়, টানা ১৭ বার ব্যর্থ হন তিনি। অনেকেই তখন তাঁকে থামতে বলেছিলেন, কেউ কেউ ঠাট্টাও করেছেন। কিন্তু অঙ্কুশের বিশ্বাস ছিল একটাই—ব্যর্থতা মানেই শেষ নয়, বরং শেখার সুযোগ।
২০১৫ সালে এসে জীবনের মোড় ঘুরে যায়। আইআইটি কানপুরেরই বন্ধু ফরিদ আহসান ও ভানু সিংয়ের সঙ্গে আলোচনা করতে গিয়ে অঙ্কুশ একটি বড় বাস্তব সমস্যা চিহ্নিত করেন। তখন ভারতে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে ইন্টারনেট, গ্রাম থেকে শহর—সব জায়গায়। কিন্তু ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলির বেশিরভাগই ইংরেজিভাষী, শহুরে মানুষের জন্য তৈরি। দেশের কোটি কোটি মানুষ অনলাইনে এলেও নিজেদের ভাষায় কথা বলার জায়গা পাচ্ছিলেন না।
এই শূন্যস্থান থেকেই জন্ম নেয় ShareChat। এটি শুধু অনুবাদ করা কোনও সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাপ নয়, বরং ভারতীয়দের জন্য ভারতীয় ভাষায় তৈরি একটি নিজস্ব ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। শুরু হয় হিন্দি দিয়ে, পরে ধীরে ধীরে বাংলা, পাঞ্জাবি, গুজরাটি, মালয়ালম-সহ মোট ১৫টি ভারতীয় ভাষায় ছড়িয়ে পড়ে ShareChat।
এই প্ল্যাটফর্মে জায়গা পান সাধারণ মানুষ। পাঞ্জাবের এক কৃষক তাঁর জীবনের গল্প বলেন, মধ্যপ্রদেশের এক গৃহবধূ রান্নার ভিডিও শেয়ার করেন, অসমের এক কবি খুঁজে পান তাঁর পাঠক। ShareChat ধীরে ধীরে একটি অ্যাপের গণ্ডি পেরিয়ে হয়ে ওঠে একটি ডিজিটাল কমিউনিটি। ২০২১ সালের মধ্যে এর সক্রিয় ব্যবহারকারীর সংখ্যা ছাড়িয়ে যায় ১৬ কোটি।
সাফল্যের সঙ্গে সঙ্গে ব্যবসায়িক মূল্যও দ্রুত বাড়তে থাকে। ২০২২ সালে ShareChat-এর ভ্যালুয়েশন পৌঁছয় প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকায়। এখানেই থেমে থাকেননি অঙ্কুশ। TikTok ভারতে নিষিদ্ধ হওয়ার পর তিনি চালু করেন শর্ট ভিডিও অ্যাপ Moj, যা অল্প সময়েই বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করে।
এই সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে অঙ্কুশ সচদেবা জায়গা পান Hurun India Under-35 তালিকায়। কিন্তু তাঁর গল্প শুধু স্টার্টআপ সাফল্যের নয়—এটি এক অনমনীয় মানসিকতার গল্প। যেখানে সবাই থামতে বলে, সেখান থেকেই এগিয়ে যাওয়ার সাহসের গল্প।
অঙ্কুশ সচদেবার যাত্রা মনে করিয়ে দেয়—সাফল্য একদিনে আসে না। তা আসে বারবার পড়ে গিয়ে আবার উঠে দাঁড়ানোর ক্ষমতা থেকে। ১৭ বার ব্যর্থ হয়েও না থামার মানসিকতা থেকেই জন্ম নিতে পারে ৪০ হাজার কোটির সাম্রাজ্য।

Hello friends, Myself Biplab. I have been writing horoscopes since 2019. Since 2022, I have also been writing about entertainment, lifestyle, and trending news.