হিন্দু ধর্ম এবং জ্যোতিষশাস্ত্রে চন্দ্রগ্রহণ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মহাজাগতিক ঘটনা। বৈজ্ঞানিক দিকের পাশাপাশি ধর্মীয় বিশ্বাসেও চন্দ্রগ্রহণের বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে। সাধারণত বছরে চারটি গ্রহণ হয়—এর মধ্যে সূর্য ও চন্দ্রগ্রহণ মিলিয়ে বিভিন্ন সময়ে তা দেখা যায়। ২০২৬ সালেও তার ব্যতিক্রম নয়। তবে এই বছরে ভারত থেকে দৃশ্যমান চন্দ্রগ্রহণের সংখ্যা সীমিত, যার মধ্যে বছরের প্রথম চন্দ্রগ্রহণটি বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।
২০২৬ সালের প্রথম চন্দ্রগ্রহণ অনুষ্ঠিত হতে চলেছে ৩ মার্চ, অর্থাৎ হোলিকা দহন বা ন্যাড়পোড়ার ঠিক আগের দিন। এটি একটি পূর্ণিমা তিথির গ্রহণ হওয়ায় ধর্মীয় দিক থেকে এর গুরুত্ব আরও বেড়ে গেছে। ভারতীয় সময় অনুযায়ী, এই চন্দ্রগ্রহণ শুরু হবে দুপুর ৩টা ২০ মিনিটে এবং শেষ হবে সন্ধে ৬টা ৪৭ মিনিটে। মোট প্রায় ৩ ঘণ্টা ২৭ মিনিট ধরে চলবে এই গ্রহণ।
এই চন্দ্রগ্রহণের বিভিন্ন পর্যায় অনুযায়ী সময়সূচি নিম্নরূপ—
পেনুম্ব্রা পর্যায় শুরু: দুপুর ২টা ১৬ মিনিট
উম্ব্রা পর্যায় শুরু: দুপুর ৩টা ২১ মিনিট
উম্ব্রা পর্যায় শেষ: সন্ধে ৬টা ৪৬ মিনিট
পেনুম্ব্রা পর্যায় শেষ: সন্ধে ৭টা ৫২ মিনিট
যেহেতু এই চন্দ্রগ্রহণ ভারত থেকে দৃশ্যমান হবে, তাই ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী সূতক কালও পালন করা হবে। এই গ্রহণের সূতক শুরু হবে ৩ মার্চ সকাল ৬টা ২০ মিনিটে এবং চলবে সন্ধে ৬টা ৪৬ মিনিট পর্যন্ত। শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে সূতক সময় তুলনামূলক কম—তাঁদের জন্য সূতক ধরা হবে বিকেল ৩টা ২৮ মিনিট থেকে সন্ধে ৬টা ৪৬ মিনিট পর্যন্ত।
ভারতের সব জায়গা থেকে এই চন্দ্রগ্রহণ দেখা যাবে না। মূলত পশ্চিমবঙ্গের উত্তর-পূর্বাঞ্চল, পাশাপাশি অসম, মিজোরাম, নাগাল্যান্ড, মণিপুর ও অরুণাচল প্রদেশে এই গ্রহণ দৃশ্যমান হবে বলে জানানো হয়েছে।
জ্যোতিষ গণনা অনুযায়ী, এই চন্দ্রগ্রহণ ঘটবে ফাল্গুন মাসের পূর্ণিমা তিথিতে, পূর্বফাল্গুনী নক্ষত্রে এবং সিংহ রাশিতে। বিশ্বাস করা হয়, এই কারণে সিংহ রাশির জাতক-জাতিকা এবং পূর্বফাল্গুনী নক্ষত্রে জন্মগ্রহণকারীদের উপর গ্রহণের প্রভাব তুলনামূলক বেশি পড়তে পারে। জ্যোতিষ মতে, এই সময় তাঁদের বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত।
হিন্দু ধর্মে সূর্যগ্রহণ বা চন্দ্রগ্রহণের আগের সময়কালকে সূতক কাল বলা হয়। এই সময়কে অশুভ মনে করা হয়। সূতক চলাকালীন রান্না, খাওয়া, পুজো-পাঠ, শুভ কাজ এবং মন্দির দর্শন এড়িয়ে চলার রীতি রয়েছে। এই সময়ে মন্দিরের দরজাও বন্ধ রাখা হয়। তবে শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ ব্যক্তিরা সূতক সংক্রান্ত নিয়ম থেকে অব্যাহতি পান। মনে রাখা প্রয়োজন, সূতক পালনের নিয়ম ধর্মীয় বিশ্বাসভিত্তিক এবং অঞ্চলভেদে এর রীতিতে ভিন্নতা থাকতে পারে।
সব মিলিয়ে, ২০২৬ সালের প্রথম চন্দ্রগ্রহণ শুধু একটি জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক ঘটনাই নয়, বরং ধর্মীয় ও জ্যোতিষ দৃষ্টিকোণ থেকেও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

Hello, I am BB. I have been working in blogging for more than four years.