ঋতু পরিবর্তনের সময় শিশুরা জ্বর, সর্দি-কাশি, বমি বা পেট খারাপের মতো সমস্যায় ভোগে—এটা খুবই পরিচিত ছবি। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এগুলি সাধারণ ভাইরাল সংক্রমণের কারণে হয় এবং কিছুদিনের মধ্যেই সেরে যায়। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, কিছু কিছু লক্ষণ একেবারেই অবহেলা করা উচিত নয়। বিশেষ করে যদি শিশুর ঘন ঘন জ্বর আসে, তার সঙ্গে খিঁচুনি, বমি, তীব্র মাথাব্যথা বা নিস্তেজ হয়ে পড়ার লক্ষণ দেখা যায়, তবে তা মারাত্মক রোগের ইঙ্গিত হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন পরিস্থিতিতে মেনিনজাইটিস নামের একটি গুরুতর রোগের আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। মেনিনজাইটিস হল মস্তিষ্ক ও স্নায়ুর আবরণে সংক্রমণ। এটি ভাইরাস বা ব্যাক্টেরিয়ার কারণে হতে পারে। এর মধ্যে মেনিনগোকক্কাল ব্যাক্টেরিয়া দ্বারা সৃষ্ট মেনিনজাইটিস সবচেয়ে ভয়ানক, যা দ্রুত শরীরে ছড়িয়ে পড়তে পারে।
মেডিসিনের চিকিৎসক অরুণাংশু তালুকদার জানাচ্ছেন, এই রোগ যে কোনও বয়সে হতে পারে, তবে শিশুরাই সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়। বিশেষ করে যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, তাদের ঝুঁকি আরও বেশি। শুরুতে সাধারণ জ্বরের মতো মনে হলেও, ধীরে ধীরে রোগের উপসর্গ ভয়াবহ আকার নিতে পারে।
মেনিনজাইটিসে কোন কোন লক্ষণ দেখা যায়?
মেনিনজাইটিসে আক্রান্ত শিশুর মধ্যে সাধারণত যেসব লক্ষণ দেখা যায়, সেগুলি হল—
ঘন ঘন ও উচ্চ জ্বর
প্রচণ্ড মাথাব্যথা
বারবার বমি হওয়া
খিঁচুনি হওয়া বা শরীর শক্ত হয়ে যাওয়া
ঘাড় শক্ত হয়ে যাওয়া
শিশু নিস্তেজ বা অচেতন হয়ে পড়া
এছাড়াও কিছু বিশেষ লক্ষণ রয়েছে, যেগুলি দেখলে বাবা-মায়েদের এক মুহূর্ত দেরি না করে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত।
বাবা-মায়েরা কখন সতর্ক হবেন?
চিকিৎসকদের মতে, নিচের লক্ষণগুলি দেখা দিলে তা অত্যন্ত বিপজ্জনক হতে পারে—
শিশুর মাথার তালু ফুলে ওঠা ও ঘাড় শক্ত হয়ে যাওয়া
জ্বরের সঙ্গে ভয়ানক খিঁচুনি ও শ্বাসকষ্ট
পেশিতে টান ধরে শরীর শক্ত হয়ে যাওয়া
তীব্র মাথাব্যথার সঙ্গে লাগাতার বমি
আলোতে চোখে কষ্ট হওয়া এবং ত্বকে লালচে র্যাশ বা ফুসকুড়ি বেরোনো
কিছু ক্ষেত্রে এই সংক্রমণ শ্বাসনালিতেও ছড়িয়ে যেতে পারে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।
চিকিৎসা ও পরীক্ষা কেন জরুরি?
মেনিনজাইটিস এমন একটি রোগ, যেখানে চটজলদি চিকিৎসা শুরু করা অত্যন্ত জরুরি। কোন বয়সে কোন ভাইরাস বা ব্যাক্টেরিয়া দায়ী—তা বুঝে চিকিৎসকেরা ওষুধ নির্ধারণ করেন। রোগ নির্ণয়ের জন্য সাধারণত—
এমআরআই বা সিটি স্ক্যান
লাম্বার পাংচার
রক্ত পরীক্ষা
করানো হয়।
চিকিৎসকেরা বলছেন, সময়মতো চিকিৎসা শুরু না হলে এই রোগ প্রাণঘাতীও হতে পারে। তাই বাবা-মায়েদের দায়িত্ব হল শিশুর আচরণ ও শারীরিক পরিবর্তন ভালো করে লক্ষ্য রাখা এবং সন্দেহ হলেই দেরি না করে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়া।
সতর্কতা ও সচেতনতা—এই দু’টিই মেনিনজাইটিসের মতো মারাত্মক রোগ থেকে শিশুকে রক্ষা করার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার।