সনাতন ধর্ম ও তন্ত্রশাস্ত্রে বর্ণিত দশমহাবিদ্যার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রূপ হলেন মা ভুবনেশ্বরী। তিনি চতুর্থ মহাবিদ্যা এবং সমগ্র ব্রহ্মাণ্ডের অধিষ্ঠাত্রী শক্তি। শক্তিবাদের দর্শনে তাঁকে ‘সগুণ ব্রহ্ম’ বলা হয়—যিনি রূপ ও গুণের মাধ্যমে সৃষ্টিকে ধারণ করে রেখেছেন। ‘ভুবনেশ্বরী’ নামের মধ্যেই লুকিয়ে আছে তাঁর মহিমা—ভুবন অর্থাৎ এই সমগ্র জগৎ, যার ঈশ্বরী তিনিই।
শক্তিবাদ অনুযায়ী, সৃষ্টির আদিতে যখন কিছুই ছিল না, তখন আদ্যাশক্তি ভুবনেশ্বরী রূপে আবির্ভূত হয়ে ব্রহ্মাণ্ডের কাঠামো নির্মাণ করেন। তাঁর রক্তিম বর্ণ উদীয়মান সূর্যের প্রতীক, যা সৃষ্টির সূচনা ও জীবনীশক্তির নির্দেশক। মাথায় চন্দ্র ধারণ করার মাধ্যমে তিনি মানসিক স্থিতি, কোমলতা ও সৌম্যভাবের প্রকাশ ঘটান। তিনি কেবল স্রষ্ট্রী নন, সমস্ত জীবের পালনকর্ত্রীও।
মা ভুবনেশ্বরীর আরাধনা জাগতিক সুখ ও আধ্যাত্মিক উন্নতি—উভয়ই প্রদান করে বলে বিশ্বাস। শাস্ত্রমতে, ব্রহ্মমুহূর্তে বা সূর্যোদয়ের সময় লাল বা গোলাপি বস্ত্র পরিধান করে তাঁর পুজো করা সর্বাধিক শুভ। ভুবনেশ্বরী যন্ত্র স্থাপন করে তাতে চন্দন ও কুঙ্কুম অর্পণ করলে সাধনায় দ্রুত ফল লাভ হয়। নৈবেদ্য হিসেবে পঞ্চামৃত, লাল ফল ও মিষ্টান্ন নিবেদন করা হয়।
তাঁর মূল মন্ত্র ‘হ্রীং’—যা মায়া বীজ নামেও পরিচিত। এই একাক্ষরী মন্ত্র ভক্তির সঙ্গে জপ করলে মন শান্ত হয় এবং অন্তর্নিহিত শক্তির বিকাশ ঘটে। যেহেতু দেবী সৌম্য স্বভাবের, তাই তাঁর পুজোর সময় ক্রোধ ও অস্থিরতা বর্জন করে সত্ত্বগুণ বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি।
জ্যোতিষশাস্ত্র অনুযায়ী, দেবী ভুবনেশ্বরীর সঙ্গে চন্দ্রগ্রহের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। যাঁদের কুণ্ডলীতে চন্দ্র দুর্বল, যাঁরা মানসিক চাপ, উদ্বেগ বা অবসাদে ভোগেন—তাঁদের জন্য এই দেবীর উপাসনা বিশেষ ফলদায়ক। চতুর্থ মহাবিদ্যা হওয়ায় তিনি সুখ, সম্পত্তি, গৃহ ও যানবাহনের কারক। তাঁর কৃপায় মানসিক শক্তি বৃদ্ধি পায়, সামাজিক মর্যাদা ও আকর্ষণ শক্তি উন্নত হয়।
জীবনে বারবার বাধা, পারিবারিক অশান্তি বা অন্তরের শূন্যতায় যাঁরা ভুগছেন, মা ভুবনেশ্বরীর উপাসনা তাঁদের জীবনে আলো এনে দেয়। তিনি কেবল ঐশ্বর্যদাত্রী নন—তিনি পরম আনন্দ ও মোক্ষের পথপ্রদর্শক। তাঁর আরাধনা মানুষকে ধনবান করার পাশাপাশি হৃদয়বানও করে তোলে।
(Disclaimer: এখানে দেওয়া তথ্য জ্যোতিষশাস্ত্রের সাধারণ বিশ্বাস ও তথ্যের উপর ভিত্তি করে লেখা। সংবাদ ভবন এটি নিশ্চিৎ করে না।)

Hello, I am Biplab Baroi. I have been working in blogging for more than four years. I began my journey in the digital media industry in 2021.
Along with covering daily news and current events, I write articles on tech news, smartphones, and astrology. My work is created strictly for educational purposes use only.