উৎসবের মরসুম শেষে অনেকেই নতুন করে সুস্থ জীবনযাত্রার পথে ফিরে আসার চেষ্টা করছেন। গত কয়েক মাসের অনিয়ম, অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস ও মিষ্টির বাড়তি আকর্ষণে ওজন বেড়ে যাওয়াই স্বাভাবিক। সামনে আবার বড়দিন, নববর্ষের মতো উৎসবের ভিড়—এমন সময়ে সঠিক খাদ্যাভ্যাসে ফেরাটা শুধু জরুরি নয়, বরং আত্মবিশ্বাসী দেখাতেও সহায়ক। কিন্তু সমস্যা হল, ওজন কমানোর চেষ্টা শুরু করলেও অনেকেই মিষ্টির প্রতি আকর্ষণ কাটিয়ে উঠতে পারেন না।
পুষ্টিবিদদের মতে, সুস্থ অভ্যাসে ফিরতে না পারলে খাবারকেই স্বাস্থ্যকর করার চেষ্টা করতে হবে। অর্থাৎ, মিষ্টির ইচ্ছা থাকলে সেই মিষ্টিটিকেই স্বাস্থ্যকর করে নিতে হবে। ঠিক এই জায়গাতেই দই-মাখানার পুডিং এক চমৎকার বিকল্প হয়ে উঠতে পারে। প্রোটিনসমৃদ্ধ মাখানা, উপকারী প্রোবায়োটিক টকদই, বাদামের পুষ্টিগুণ আর প্রাকৃতিক মিষ্টিদ্রব্য মধুর সমন্বয়ে তৈরি এই পুডিং শরীরকে দেয় প্রয়োজনীয় পুষ্টি এবং মেটায় মিষ্টির লোভ, তাও ওজন না বাড়িয়ে।
কেন দই-মাখানার পুডিং স্বাস্থ্যকর?
মাখানা বা পদ্মবীজ:
কম ক্যালোরি ও সমৃদ্ধ প্রোটিন-ফাইবারের উৎস। যা পেট ভরায়, হজমশক্তি বাড়ায় ও ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
কম ক্যালোরি ও সমৃদ্ধ প্রোটিন-ফাইবারের উৎস। যা পেট ভরায়, হজমশক্তি বাড়ায় ও ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
টকদই:
পেটের জন্য ভালো প্রোবায়োটিক, যা হজমে সহায়তা করে ও শরীরের প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। পাশাপাশি ক্যালসিয়াম, প্রোটিন ও ভিটামিনের ভালো উৎস।
কাঠবাদাম:
হৃদ্স্বাস্থ্য ভালো রাখে, শরীরকে দেয় ভালো ফ্যাট এবং শক্তি।
মধু ও এলাচ:
প্রাকৃতিক মিষ্টি ও সুগন্ধ দানকারী উপাদান, যেগুলো মিষ্টিকে স্বাস্থ্যকর রাখে।
রেসিপি: কীভাবে বানাবেন দই-মাখানার পুডিং?
উপকরণঃ
২ কাপ মাখানা
দেড় টেবিল চামচ মধু
১ কাপ ঝরানো টকদই
১/২ কাপ ভেজানো ও কাটা কাঠবাদাম
১/২ চা চামচ এলাচগুঁড়ো
এক চিমটে গোলমরিচ
খানিকটা কেশর ঈষদুষ্ণ জলে ভিজিয়ে রাখা
প্রণালীঃ
১. মাখানা হালকা আঁচে শুকনো কড়াইয়ে ভেজে নিন, তবে লালচে না হওয়ায় খেয়াল রাখবেন।
২. কেশর গুঁড়িয়ে ঈষদুষ্ণ জলে ২০ মিনিট ভিজিয়ে রাখুন।
৩. ব্লেন্ডারে মাখানা, দই, কেশরভেজা জল, কাঠবাদাম, এলাচগুঁড়ো, মধু ও গোলমরিচ একসঙ্গে দিয়ে মসৃণ করে বেটে নিন।
৪. মিশ্রণটি দু’টি কাপে ঢেলে উপরে সামান্য কেশর ও বাদাম ছড়িয়ে ফ্রিজে রেখে দিন।
৫. মিষ্টি খাওয়ার ইচ্ছা হলে ঠান্ডা করে পরিবেশন করুন।
শীতের টুইস্ট: কমলালেবুর স্বাদ
শীতকালে চাইলে কমলালেবুর টাটকা স্বাদও যোগ করা যায়। কমলালেবুর খোসায় পুডিং পরিবেশন করলে শুধু সৌন্দর্যই নয়, স্বাদেও যোগ হয় নতুন মাত্রা। উপরে ছড়িয়ে দিতে পারেন কমলালেবুর শাঁস—দেখতেও আকর্ষণীয়, খেতেও দারুণ।
শেষ কথা
মিষ্টি খাওয়ার ইচ্ছা দমন না করে যদি সেই ইচ্ছাকে স্বাস্থ্যকর উপায়ে পূরণ করা যায়, তাহলে ওজন কমানোর যাত্রা অনেক সহজ হয়ে যায়। দই-মাখানার এই পুডিং ঠিক সেই ধরনের একটি বিকল্প—যেখানে পুষ্টি, স্বাদ এবং স্বাস্থ্য একসঙ্গে মিশে যায়। দিনে একবার, সঠিক সময়ে এটি খেলে মিষ্টির চাহিদা পূরণ হবে, আর ওজনও থাকবে নিয়ন্ত্রণে।
আরও পড়ুন,
মাথাজোড়া টাক নয়, চুল ফেরাবে সঠিক খাদ্যাভ্যাস: অ্যালোপেসিয়া রোধে ৫ উপকারী খাবার
আপনার স্বাস্থ্যকর শীতের ডায়েট প্ল্যানে তাই এই পুডিংটি রাখতেই পারেন।
