বহু যুগ ধরেই ভারতীয় উপমহাদেশে চুলের যত্নে ঘরোয়া উপাদানের ব্যবহার চলে আসছে। আধুনিক কসমেটিক প্রোডাক্টের ভিড়েও যে উপাদানটি আজও সমানভাবে জনপ্রিয়, তা হল হেনা। প্রাকৃতিক গুণে ভরপুর এই উপাদানটি শুধু চুলে রং করার জন্য নয়, বরং চুল ও মাথার ত্বকের সার্বিক স্বাস্থ্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
বর্তমান সময়ে কেমিক্যাল হেয়ার প্রোডাক্টের কারণে চুল পড়া, রুক্ষতা, খুশকি ও স্ক্যাল্পের নানা সমস্যা বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে অনেকেই আবার প্রাকৃতিক বিকল্প হিসেবে হেনার দিকে ঝুঁকছেন। হেনার অন্যতম বড় উপকারিতা হল এটি চুলের গোড়া মজবুত করে। নিয়মিত হেনা ব্যবহার করলে চুল পড়া ধীরে ধীরে কমে আসে এবং নতুন চুল গজাতে সহায়তা করে।
হেনার মধ্যে থাকা প্রাকৃতিক কুলিং প্রপার্টি মাথার ত্বককে ঠান্ডা রাখে। অতিরিক্ত গরম, মানসিক চাপ বা ঘামের কারণে স্ক্যাল্পে যে সমস্যাগুলি দেখা দেয়, সেগুলি কমাতে হেনা কার্যকর। বিশেষ করে গ্রীষ্মকালে হেনা ব্যবহার করলে মাথার ত্বকে আরাম পাওয়া যায়।
আরও পড়ুন:কম বয়সেই চুল পেকে সাদা? ঘরোয়া উপায়েই ফিরুক কালো চুলের জেল্লা
খুশকি দূর করতেও হেনার ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। মাথার ত্বকে জমে থাকা ব্যাকটেরিয়া ও ফাঙ্গাস দূর করতে হেনা সাহায্য করে। ফলে খুশকি, চুলকানি ও স্ক্যাল্পের জ্বালাভাব ধীরে ধীরে কমে যায়। যাদের স্ক্যাল্প খুব তৈলাক্ত বা সেনসিটিভ, তাদের জন্য হেনা একটি নিরাপদ ও প্রাকৃতিক সমাধান হিসেবে বিবেচিত হয়।
হেনা প্রাকৃতিক কন্ডিশনার হিসেবেও দারুণ কাজ করে। এটি চুলকে নরম, মসৃণ ও উজ্জ্বল করে তোলে। নিয়মিত ব্যবহারে চুলের রুক্ষতা কমে যায় এবং স্প্লিট এন্ডসের সমস্যাও অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে থাকে। পাশাপাশি হেনা চুলের কিউটিকল স্তরকে সুরক্ষা দেয়, যার ফলে চুল ভাঙার প্রবণতা কম হয়।
চুলে রং করার ক্ষেত্রেও হেনা একটি স্বাস্থ্যকর বিকল্প। কেমিক্যাল ডাই যেখানে চুলের ক্ষতি করে, সেখানে হেনা চুলে প্রাকৃতিক লালচে-বাদামি আভা এনে দেয়। এটি চুলের স্বাভাবিক রংকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে এবং দীর্ঘদিন ব্যবহার করলেও চুলের ক্ষতি হয় না।
সব মিলিয়ে বলা যায়, হেনা চুলের জন্য একটি সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক ও বহুমুখী উপাদান। সঠিকভাবে ও নিয়মিত ব্যবহার করলে হেনা চুলকে সুস্থ, সুন্দর ও প্রাণবন্ত রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।