বিজেপির তারকা বিধায়ক ও অভিনেতা হিরণ চট্টোপাধ্যায়ের দ্বিতীয় বিয়ে ঘিরে রাজ্য রাজনীতির পাশাপাশি সোশ্যাল মিডিয়ায় তুমুল শোরগোল। শহরের বাইরে নিভৃতে বিয়ে সেরে ফেললেও সেই বিয়ের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন তিনি। অভিযোগ, প্রথম স্ত্রী অনিন্দিতা চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে আইনি বিচ্ছেদ না করেই দ্বিতীয়বার বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন হিরণ।
এই বিয়েকে ‘বেআইনি’ বলে সংবাদমাধ্যমে সরব হন অনিন্দিতা চট্টোপাধ্যায়। তাঁর বক্তব্য প্রকাশ্যে আসার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই প্রথমবার মুখ খুললেন হিরণের নবপরিণীতা স্ত্রী ঋতিকা গিরি। স্পষ্ট ভাষায় তিনি দাবি করেন, “আমি পাঁচ বছর ধরে হিরণের সঙ্গে আছি। এই বিষয়টি প্রথম স্ত্রী অনিন্দিতা সবটাই জানতেন।”
ঋতিকার কথায়, তাঁদের সম্পর্ক বা বিয়ে কোনও গোপন বিষয় ছিল না। তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টও বরাবরই পাবলিক ছিল বলে দাবি করেন তিনি। পাশাপাশি অনিন্দিতার বক্তব্যে তাঁর বয়স সংক্রান্ত তথ্য ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন ঋতিকা।
এই মুহূর্তে তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত এবং শারীরিকভাবেও অসুস্থ বলে জানান। সম্প্রতি অস্ত্রোপচার হওয়ায় চিকিৎসকের পরামর্শে বিশ্রামে রয়েছেন বলেও জানান তিনি। সেই সঙ্গে আরও বলেন, হিরণ চট্টোপাধ্যায় ইতিমধ্যেই প্রথম পক্ষের স্ত্রীকে ডিভোর্সের আইনি নোটিস পাঠিয়েছেন।
একসঙ্গে থাকার সময়কাল নিয়েও অনিন্দিতার বক্তব্যকে ভুল বলে দাবি করেন ঋতিকা। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, হিরণ শুধুমাত্র ব্যক্তিগত কারণে এবং মেয়ের জন্মদিন উপলক্ষে নির্দিষ্ট সময় মেয়ের সঙ্গে ছিলেন, একসঙ্গে দাম্পত্য জীবনযাপনের প্রশ্নই ওঠে না।
বিয়ের প্রসঙ্গে ঋতিকা জানান, এটি কোনও জাঁকজমকপূর্ণ বা বিলাসবহুল অনুষ্ঠান ছিল না। মানসিক তৃপ্তি, বিশ্বাস ও পবিত্রতার ভিত্তিতে অগ্নিসাক্ষী রেখে কাশীধামে তাঁদের বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। কাশী বিশ্বনাথ ধাম ও বৃন্দাবনের মন্দির থেকে পাওয়া বিয়ের সামগ্রী ও সিঁদুরের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
সবশেষে বেআইনি বিয়ের অভিযোগ একেবারেই নাকচ করে দিয়ে ঋতিকা গিরি বলেন, “যদি কারও মনে হয় এই বিয়েটা বেআইনি, তাহলে আইনি পথে আসুন। আমি কোনও কিছু লুকোইনি।”
হিরণ চট্টোপাধ্যায়ের দ্বিতীয় দাম্পত্য জীবন নিয়ে এই পালটা বক্তব্যে বিতর্ক আরও তীব্র হল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক ও সামাজিক মহল।

Hello, I am BB. I have been working in blogging for more than four years.