জীবন-মৃত্যুর মতোই অমোঘ সত্য হল বিচ্ছেদ। সম্পর্কের ইতি মানেই শুধু একজন মানুষকে হারানো নয়, বরং নিজের চেনা জীবনযাত্রা, অভ্যাস, ভবিষ্যতের স্বপ্ন—সব কিছুরই একসঙ্গে ভেঙে পড়া। যে মানুষটির সঙ্গে দিনের শুরু থেকে রাতের শেষ পর্যন্ত কথা হতো, যার উপস্থিতি ছিল প্রতিটি মুহূর্তে—হঠাৎ একদিন সে নেই। এই শূন্যতা মেনে নেওয়া সহজ নয় কারও পক্ষেই।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিচ্ছেদ মানুষের মানসিক জগতে গভীর প্রভাব ফেলে। প্রতিদিনের রুটিন বদলে যায়, ছোট ছোট অভ্যাস হারিয়ে যায় অর্থহীনতায়। ঘুম থেকে ওঠা, খাওয়াদাওয়া, কাজ—সব কিছুতেই এসে পড়ে বিচ্ছেদের ছায়া। অনেকেই এই যন্ত্রণা ভুলতে নিজেকে ডুবিয়ে দেন বইয়ে, গানে কিংবা কাজে। কেউ আবার নিজেকে নতুন করে খুঁজে নিতে চান ব্যস্ততার মধ্যে। কিন্তু তাতেও যে পুরোপুরি কষ্ট মুছে যায়, তা নয়।
মনোবিদদের দাবি, বিচ্ছেদের ব্যথা ভুলতে নির্দিষ্ট কোনও সময়সীমা নেই। কেউ কয়েক মাসের মধ্যেই নিজেকে গুছিয়ে নিতে পারেন, আবার কেউ বছরের পর বছর প্রাক্তনের স্মৃতির হাতছানি থেকে বেরোতে পারেন না। এর পিছনে বড় ভূমিকা নেয় সম্পর্কের গভীরতা, আবেগের মাত্রা এবং বিচ্ছেদের কারণ।
বিশেষ করে যেসব সম্পর্ক ক্লোজার ছাড়াই শেষ হয়—যেখানে অনেক প্রশ্নের উত্তর মেলে না, অনেক কথা বলা বাকি থেকে যায়—সেসব ক্ষেত্রে যন্ত্রণা দীর্ঘস্থায়ী হয়। অমীমাংসিত দ্বন্দ্ব, একসঙ্গে দেখা ভবিষ্যতের স্বপ্ন এগিয়ে যাওয়ার পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, অনেক সময় যারা বিচ্ছেদ মানতে পারেন না, তাঁরা নিজের থেকেও সঙ্গীকে বেশি গুরুত্ব দেন। তবে এটিই একমাত্র কারণ নয়।
চিকিৎসকদের বক্তব্য, সময়ই এখানে সবচেয়ে বড় নিরাময়কারী। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে স্মৃতি ঝাপসা হয়, অনুভূতির ধার কমে আসে। ধীরে ধীরে মানুষ আবার স্বাভাবিক জীবনের ছন্দে ফিরতে শেখে। যদিও বাস্তব সত্য হল—প্রাক্তনের স্মৃতি পুরোপুরি কখনও মুছে যায় না। মনের এক কোণে তারা থেকে যায় আজীবন। কোনও এক মেঘলা বিকেলে, মন খারাপের রাতে কিংবা হঠাৎ কোনও গানের সুরে তারা উঁকি দেয়।
তবুও জীবন থেমে থাকে না। কারও বেশি সময় লাগে, কারও কম—কিন্তু একসময় সবাইকেই এগোতে হয় নিজের মতো করে। বিচ্ছেদ কষ্ট দেয় ঠিকই, তবে সেই কষ্টই অনেক সময় মানুষকে আরও পরিণত, আরও শক্ত করে তোলে—এমনটাই মত বিশেষজ্ঞদের।