বাংলার সংগীতপ্রেমীদের কাছে ২০২৫ সাল ছিল এক ঐতিহাসিক বছর। কারণ এই প্রথমবার ইন্ডিয়ান আইডলের ট্রফি এল বাংলায়। নিমতা পাইকপাড়ার মেয়ে মানসী ঘোষের হাত ধরে সেই গর্বের মুহূর্ত উপহার পেয়েছিল গোটা বাংলা। দমদমের এই কন্যা শুধু ট্রফিই জেতেননি, জিতে নিয়েছিলেন দেশের কোটি কোটি মানুষের ভালোবাসা।
ইন্ডিয়ান আইডল জয়ের পর কেটে গিয়েছে বেশ কিছুটা সময়। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে—এখন কী করছেন মানসী ঘোষ? উত্তরটা এক কথায়—গানেই ডুবে আছেন।
২০২৫ সালের পুজোর মরশুমেই মানসী একটি নামী গয়নার ব্র্যান্ডের বিজ্ঞাপনের জন্য গান রেকর্ড করেন। সেই গানেই তাঁর সঙ্গে কণ্ঠ মিলিয়েছেন বাংলা রকের আইকন রূপম ইসলাম। এর পাশাপাশি একাধিক মিউজিক অ্যালবামেও কাজ করেছেন তিনি। লাইভ শো তো রয়েছেই। বর্তমানে ‘ম্যাজিক মানসী’ নামে একটি ট্যুরে রয়েছেন তিনি, যেখানে বাংলার বিভিন্ন প্রান্তের পাশাপাশি ভোপাল ও ত্রিপুরাতেও পারফর্ম করে ফেলেছেন।
চলতি বছরের ২৬ জানুয়ারি প্রজাতন্ত্র দিবসে রাজভবনেও পারফর্ম করেন মানসী। রাজ্যপালের সঙ্গে ছবি পোস্ট করে সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি লেখেন, রাজভবনের ‘লোক ভবনে’ আমন্ত্রিত হওয়া এবং রাজ্যপালের কাছ থেকে স্বীকৃতি পাওয়া তাঁর কাছে এক অসাধারণ অভিজ্ঞতা।
মানসীর সংগীতযাত্রা শুরু হয়েছিল খুব ছোট বয়সেই। মাত্র ৪ বছর বয়সে গান শেখা শুরু করেন তিনি। উত্তর চব্বিশ পরগনার নিমতা পাইকপাড়াতেই তাঁর বেড়ে ওঠা। গানের প্রাথমিক শিক্ষাও পেয়েছেন মায়ের কাছ থেকে। আজ সেই মেয়েকেই চেনে দেশের প্রায় প্রতিটা মানুষ।
২০২৫ সালের ইন্ডিয়ান আইডলে শুরু থেকেই জনপ্রিয়তার শীর্ষে ছিলেন মানসী ঘোষ। প্রতিযোগিতার শেষে তাঁর ঝুলিতে আসে ট্রফির সঙ্গে ২৫ লক্ষ টাকা নগদ পুরস্কার। সেই অর্থ কীভাবে ব্যবহার করবেন, তা নিয়েও স্পষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর। এক সাক্ষাৎকারে মানসী জানিয়েছিলেন, এই টাকা তিনি নিজের গানের ভবিষ্যৎ গড়তেই খরচ করতে চান। অরিজিনাল মিউজিক তৈরি, গান সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় সব কাজে এই অর্থ বিনিয়োগ করবেন বলেই জানান তিনি।
উল্লেখ্য, ইন্ডিয়ান আইডলের আগে ২০২২ সালে সুপার সিঙ্গারে অংশ নিয়েছিলেন মানসী। সেবার ফাইনালে পৌঁছলেও চ্যাম্পিয়ন হতে পারেননি, হয়েছিলেন দ্বিতীয়। তবে সেই অভিজ্ঞতাই তাঁকে আরও দৃঢ় করে, যার ফল মিলেছে ইন্ডিয়ান আইডলের মঞ্চে।
আজ মানসী ঘোষ শুধু একটি নাম নয়, বরং বাংলার সংগীত জগতের এক উজ্জ্বল মুখ। ইন্ডিয়ান আইডলের মুকুট জয়ের পরও থেমে নেই তাঁর পথচলা—গানের সুরেই নিজের ভবিষ্যৎ লিখে চলেছেন নিমতা পাইকপাড়ার এই কন্যা।

Hello, I am BB. I have been working in blogging for more than four years.