দুবাইয়ের আকাশছোঁয়া অট্টালিকা বুর্জ খলিফার ১৪১ তলায় অফিস, আর সেই অফিসের মালিক মাত্র ১৪ বছরের এক কিশোর। ভারতীয় বংশোদ্ভূত জৈনম জৈন এমন এক কৃতিত্ব অর্জন করেছে, যা বহু উদ্যোক্তার বহু বছরের স্বপ্ন। কৈশোরে পা দেওয়ার আগেই সে গড়ে তুলেছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক একটি স্টার্টআপ সংস্থা, যা বর্তমানে বিভিন্ন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানকে মার্কেটিং, গ্রাহক বৃদ্ধি এবং বিষয়বস্তু তৈরির ক্ষেত্রে স্বয়ংক্রিয় সহায়তা প্রদান করছে।
সংস্থার ওয়েবসাইটের দাবি অনুযায়ী, জৈনম দুবাইয়ের এআই-ভিত্তিক সংস্থাগুলির মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ প্রতিষ্ঠাতা। তবে এই সাফল্য যে রাতারাতি আসেনি, তা নিজেই স্পষ্ট করেছে জৈনম। তার কথায়, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে আসার অনেক আগেই সে এই প্রযুক্তি নিয়ে কাজ শুরু করেছিল। দীর্ঘ দিনের গবেষণা, নতুন পণ্য উন্নয়ন এবং নিরন্তর প্রচেষ্টার ফলেই আজ তার সংস্থা কার্যকর সমাধান দিতে সক্ষম হয়েছে।
জৈনমের শিকড় ভারতের পুণেতে। মাত্র পাঁচ বছর বয়সে পরিবারের সঙ্গে সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে চলে যায় সে। দুবাইয়েই তার বেড়ে ওঠা। খুব ছোটবেলা থেকেই ব্যবসা এবং প্রযুক্তির প্রতি তার আগ্রহ তৈরি হয়। জৈনম জানিয়েছে, মাত্র ছয় বছর বয়সেই উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছিল সে। সেই সময় বাবার সঙ্গে একটি ব্যবসায়িক বৈঠকে যোগ দেওয়ার সুযোগ হয়েছিল তার। ওই অভিজ্ঞতাই তাকে ব্যবসার জগৎ সম্পর্কে কৌতূহলী করে তোলে এবং ভবিষ্যতের পথ দেখায়।

প্রচলিত শিক্ষার পাশাপাশি ব্যবসার খুঁটিনাটি শেখার জন্য ছোটবেলা থেকেই বিভিন্ন উদ্যোগ নেয় জৈনম। ব্যবসায়িক সম্মেলনে অংশগ্রহণ, সফল উদ্যোক্তাদের সঙ্গে আলোচনা এবং বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা গ্রহণের মধ্য দিয়ে সে ধীরে ধীরে নিজের দক্ষতা বাড়াতে থাকে। মাত্র ১০ বছর বয়স থেকেই নিজের সামর্থ্য ও অভিজ্ঞতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ৫০ দিনের বিশেষ চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করা শুরু করে সে। এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে সে ৫০টি বই পড়ে এবং ৫০টি ব্যবসায়িক অনুষ্ঠানে অংশ নেয়। এমনকি বিভিন্ন উদ্যোক্তা ও পেশাজীবীদের সঙ্গে মতবিনিময়ের জন্য ভারত-সহ প্রায় ৬ হাজার কিলোমিটার ভ্রমণও করে।
শুধু ব্যবসা নয়, পড়াশোনাতেও অসাধারণ সাফল্য দেখিয়েছে জৈনম। মাত্র ১৩ বছর বয়সে ১০৫ দিনের মধ্যে ইন্টারন্যাশনাল জেনারেল সার্টিফিকেট অব সেকেন্ডারি এডুকেশন (আইজিসিএসই)-এর দশম শ্রেণির সম্পূর্ণ পাঠ্যক্রম শেষ করে সে। নিজের উদ্যোগকে আরও সময় দেওয়ার জন্যই দ্রুত গতিতে পড়াশোনা শেষ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল জৈনম।

তার মতে, কেবল শ্রেণিকক্ষের শিক্ষাই যথেষ্ট নয়; বাস্তব অভিজ্ঞতাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। ব্যবসা পরিচালনা, সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং নতুন চিন্তাভাবনাকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার ক্ষেত্রে ব্যবহারিক অভিজ্ঞতাই সবচেয়ে বড় শিক্ষক। জৈনম বিশ্বাস করে, একজন উদ্যোক্তার সাফল্যের ভিত গড়ে ওঠে নিয়মিত শেখা, পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং বাস্তব অভিজ্ঞতার মাধ্যমে।

অত্যন্ত অল্প বয়সেই জৈনম একাধিক ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জন করেছে। নিজস্ব স্টার্টআপ পরিচালনার পাশাপাশি সে ইতিমধ্যেই একটি টেডএক্স মঞ্চে বক্তৃতা দিয়েছে। তার নামে রয়েছে দুটি পেটেন্ট। শুধু তাই নয়, একটি বইও লিখে ফেলেছে সে। পাশাপাশি, তার ইউটিউব চ্যানেলের সাবস্ক্রাইবার সংখ্যা প্রায় দেড় লক্ষ।

জৈনমের ডিজিটাল যাত্রা শুরু হয়েছিল আরও ছোটবেলায়। মাত্র সাত বছর বয়সে বোনকে সঙ্গে নিয়ে একটি ইউটিউব চ্যানেল চালু করে সে। সেখানে বিজ্ঞানভিত্তিক বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার ভিডিও প্রকাশ করত। আশ্চর্যজনকভাবে, মাত্র তিন মাসের মধ্যেই চ্যানেলটি এক লক্ষেরও বেশি সাবস্ক্রাইবার অর্জন করে। এই জনপ্রিয়তাই পরবর্তী সময়ে তাকে সমাজমাধ্যমে পরিচিতি এনে দেয় এবং অনুপ্রেরণামূলক বক্তা হিসেবে নিজের পরিচয় গড়ে তোলার সুযোগ করে দেয়।
তবে এত অল্প বয়সে বিপুল সাফল্য অর্জনের পরেও থেমে থাকতে নারাজ জৈনম। বুর্জ খলিফার সুউচ্চ অফিস থেকে তার লক্ষ্য এখন একটি বিশ্বমানের প্রযুক্তি সংস্থা গড়ে তোলা, যা আন্তর্জাতিক স্তরে স্বীকৃতি পাবে। তার বিশ্বাস, সাফল্য অর্জনের ক্ষেত্রে বয়স কোনও বাধা নয়। বরং উদ্ভাবনী চিন্তাভাবনা, কঠোর পরিশ্রম, শৃঙ্খলা এবং শেখার আগ্রহই একজন উদ্যোক্তার প্রকৃত শক্তি।
জৈনমের গল্প প্রমাণ করে, সাফল্যের জন্য নির্দিষ্ট বয়সের অপেক্ষা করার প্রয়োজন নেই। স্বশিক্ষা, অধ্যবসায় এবং নতুন কিছু শেখার অদম্য ইচ্ছা থাকলে অল্প বয়সেও বড় স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেওয়া সম্ভব। তার মতে, বয়স কখনওই যোগ্যতার মাপকাঠি হতে পারে না; বরং নিরলস প্রচেষ্টা এবং শেখার মানসিকতাই মানুষকে এগিয়ে নিয়ে যায়।

Hello friends, Myself Biplab. I have been writing horoscopes since 2019. Since 2022, I have also been writing about entertainment, lifestyle, and trending news.