বর্তমান প্রজন্মের জীবনযাত্রায় রাত জাগা যেন এক স্বাভাবিক অভ্যাস। সারাদিন ল্যাপটপে কাজ, তারপর গভীর রাত পর্যন্ত মোবাইল স্ক্রিনে সময় কাটানো— এ যেন নিত্যদিনের চিত্র। অনেকেই মাঝরাতে ঘুম না এলে আবার ফোন হাতে তুলে নেন। ফলে শরীরের স্বাভাবিক জৈব ঘড়ি বা বডি ক্লক সম্পূর্ণ বিঘ্নিত হয়। কিন্তু সব ঘুমের সমস্যাই কি ইনসমনিয়া?
বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘুমের অসুবিধা দীর্ঘদিন চলতে থাকলে তবেই তা ইনসমনিয়া হিসেবে ধরা হয়।
ইনসমনিয়া কত ধরনের?
ইনসমনিয়া মূলত দুই প্রকার—
১) শর্ট টার্ম বা স্বল্পমেয়াদি ইনসমনিয়া:**
এই সমস্যা সাধারণত তিন মাসের মধ্যে সেরে যায়। মানসিক চাপ, কাজের চাপ বা হঠাৎ জীবনযাত্রার পরিবর্তনের কারণে এমন হতে পারে।
২) ক্রনিক বা দীর্ঘস্থায়ী ইনসমনিয়া:
যদি টানা তিন মাস ধরে সপ্তাহে অন্তত তিন দিন ঘুমের সমস্যা থাকে, তবে সেটি ক্রনিক ইনসমনিয়া হিসেবে ধরা হয়। এ ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ জরুরি।
ইনসমনিয়ার প্রধান লক্ষণ
রাতের উপসর্গ:
ঘুম আসতে দীর্ঘ সময় লাগা
রাতে বারবার ঘুম ভেঙে যাওয়া
খুব ভোরে ঘুম ভেঙে গিয়ে আর ঘুম না আসা
সকালে উঠতে অত্যন্ত কষ্ট হওয়া
দিনের উপসর্গ:
সারাক্ষণ ঘুম ঘুম ভাব
অতিরিক্ত ক্লান্তি
মনোযোগের অভাব
ছোটখাটো বিষয় ভুলে যাওয়া
ঘন ঘন মেজাজ খিটখিটে হয়ে যাওয়া
এই লক্ষণগুলি দীর্ঘদিন থাকলে বিষয়টিকে হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়।
বাড়াবাড়ি হওয়ার আগে কী করবেন?
১) স্ক্রিন টাইম কমান
শুতে যাওয়ার অন্তত এক ঘণ্টা আগে টিভি, মোবাইল, ল্যাপটপ থেকে দূরে থাকুন। বৈদ্যুতিন পর্দার নীল আলো মস্তিষ্ককে সক্রিয় করে তোলে, ফলে ঘুম আসতে দেরি হয়।
২) ধ্যান ও শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম
প্রতিদিন নিয়ম করে ধ্যান ও গভীর শ্বাস-প্রশ্বাসের অনুশীলন মানসিক চাপ কমায়। এতে ঘুমের মানও উন্নত হয়।
৩) খাদ্যাভ্যাসে সতর্কতা
ক্যাফিন-সমৃদ্ধ খাবার যেমন কফি, চকোলেট— ঘুমের অন্তত ছয় ঘণ্টা আগে বন্ধ করুন। রাতে ভারী, তেল-মশলাযুক্ত খাবার এড়িয়ে হালকা খাবার খান।
৪) ঘুমের উপযোগী পরিবেশ তৈরি করুন
ঘরে শান্ত পরিবেশ রাখুন। মৃদু আলো, পরিষ্কার বিছানা ও হালকা সুগন্ধ ঘুম আনতে সাহায্য করে।
৫) দুশ্চিন্তা দূরে রাখুন
ঘুমোতে যাওয়ার আগে কাজের চিন্তা বা ব্যক্তিগত সমস্যাগুলি মাথায় না আনার চেষ্টা করুন। প্রয়োজনে ডায়েরিতে লিখে রাখুন, যাতে মন হালকা হয়।
ঘুম শরীর ও মনের সুস্থতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই দীর্ঘদিন ঘুমের সমস্যা থাকলে অবহেলা না করে প্রয়োজন হলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। সময়মতো ব্যবস্থা নিলে ইনসমনিয়ার মতো সমস্যা সহজেই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

Hello, I am BB. I have been working in blogging for more than four years.