Astrology: শুভ যাত্রায় পিছু ডাকা: কুসংস্কার, জ্যোতিষ না কি মনস্তত্ত্ব?

শুভ কাজে বা গুরুত্বপূর্ণ যাত্রার সময় পিছু থেকে ডাকা অশুভ—এই বিশ্বাস বাঙালি সমাজে বহুকাল ধরেই প্রচলিত। ছোটবেলা থেকে বড়দের মুখে শোনা এই ধারণা অনেকের মনে এতটাই গেঁথে যায় যে, কেউ হঠাৎ পিছন থেকে ডাকলেই অনেকে থমকে যান, আবার কেউ জল খেয়ে বা কিছুক্ষণ বসে থেকে নতুন করে বেরোনোর চেষ্টা করেন। প্রশ্ন হল, এই বিশ্বাসের উৎস কোথায়, এবং এর বাস্তব ভিত্তি আদৌ কতটা?

ভারতীয় সমাজে যাত্রা ও কাজের সূচনাকে বরাবরই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়। কোনও শুভ কাজের শুরু যদি বাধাগ্রস্ত হয়, তা হলে তার প্রভাব নাকি পুরো কাজের উপর পড়ে—এই ধারণাই এই বিশ্বাসের মূল ভিত্তি। তাই যাত্রার আগে হাঁচি, হঠাৎ বাধা বা পিছু থেকে ডাকা—এসবকে অশুভ লক্ষণ হিসেবে ধরা হয়।

জ্যোতিষশাস্ত্রের ব্যাখ্যায় বলা হয়, কোনও ব্যক্তি যখন যাত্রা শুরু করেন, তখন তাঁর মন একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্যের দিকে স্থির থাকে। সেই সময় পিছু থেকে ডাকা মানে সেই মনঃসংযোগে ছেদ পড়া। জ্যোতিষ মতে, এই মানসিক বিচ্যুতি গ্রহগত শক্তির ভারসাম্যে প্রভাব ফেলতে পারে। এর ফল হিসেবে কাজে দেরি, বিঘ্ন বা অপ্রত্যাশিত সমস্যার সম্ভাবনা তৈরি হয় বলে মনে করা হয়।

বিশেষ করে বিবাহ, পরীক্ষা, নতুন কাজের সূচনা বা ধর্মীয় অনুষ্ঠানের মতো শুভ মুহূর্তে এই বিশ্বাস আরও দৃঢ় হয়। শাস্ত্র অনুযায়ী, নির্দিষ্ট শুভ লগ্নে যাত্রা শুরু করাই সাফল্যের অন্যতম চাবিকাঠি। সেই সময়ে যদি পিছু ডাকা হয়, তা হলে সেই শুভত্ব নষ্ট হতে পারে—এমনটাই বিশ্বাস।

তবে জ্যোতিষশাস্ত্রও বিষয়টিকে পুরোপুরি কঠোরভাবে দেখে না। বাস্তব জীবনে প্রয়োজনে কাউকে ডাকতেই হতে পারে, তা অস্বীকার করার উপায় নেই। সেই ক্ষেত্রে ভয় না পেয়ে কিছুক্ষণ থেমে দাঁড়িয়ে আবার নতুন করে যাত্রা শুরু করার পরামর্শ দেন অনেক জ্যোতিষী। কেউ কেউ জল পান করা বা কয়েক মুহূর্ত বসে থাকার কথাও বলেন, যাতে মানসিক স্থিতি ফিরে আসে।

বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিচার করলে, পিছু ডাকা ও দুর্ঘটনার মধ্যে কোনও সরাসরি সম্পর্ক নেই। বিজ্ঞান বলছে, অঘটন ঘটে মানুষের অসতর্কতা, পরিবেশগত কারণ বা পরিস্থিতিগত ভুলের জন্য। তবে মনস্তত্ত্ব এখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। কেউ যদি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন যে পিছু ডাকা অশুভ, তা হলে সেই বিশ্বাস থেকেই তাঁর মনে ভয় ও অস্থিরতা জন্ম নিতে পারে। এই মানসিক চাপই পরবর্তীতে ভুল সিদ্ধান্ত বা অসাবধানতার কারণ হতে পারে।

আসলে এই ধরনের বিশ্বাসের গভীরে একটি সূক্ষ্ম শিক্ষা লুকিয়ে আছে—যাত্রার আগে শান্ত থাকা, মনোযোগ বজায় রাখা এবং তাড়াহুড়ো না করা। তাই একে পুরোপুরি কুসংস্কার বলে উড়িয়ে দেওয়া যেমন ঠিক নয়, তেমনই অন্ধভাবে ভয় পাওয়াও অপ্রয়োজনীয়।

সব মিলিয়ে বলা যায়, শুভ কাজে বেরোনোর সময় পিছু ডাকা নিয়ে জ্যোতিষশাস্ত্র একটি সতর্কতামূলক দৃষ্টিভঙ্গি দেয়, যা মূলত মানুষের মনোসংযোগ ও মানসিক স্থিতির সঙ্গে যুক্ত। বিশ্বাস করুন বা না করুন, শান্ত থাকা ও সচেতন থাকাই যে কোনও যাত্রার সবচেয়ে বড় সুরক্ষা।

শুধু হজম শক্তি বাড়িয়ে দেয় না, জোয়ান খেলে শরীরের অনেক সমস্যা নিবারণ হয় মুখরোচক বাদাম চিক্কি খেতে দারুন, বাড়িতেই তৈরী হবে, জানুন রেসিপি এইভাবে তেজপাতা পোড়ালে দুশ্চিন্তা কেটে যাবে 5 Best Night Creams ৪ মাসের শিশু ২৪০ কোটির মালিক