বিয়ে মানুষের জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত। সুখী দাম্পত্য জীবনের জন্য স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া, সম্মান এবং মানসিক সামঞ্জস্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। কিন্তু অনেক সময় দেখা যায়, দু’জন মানুষের স্বভাব বা মানসিকতা একেবারেই না মেলায় সম্পর্কের মধ্যে সমস্যা তৈরি হয়।
জ্যোতিষশাস্ত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ শাখা হল সংখ্যাতত্ত্ব। এই শাস্ত্র অনুযায়ী, মানুষের জন্মতারিখের সংখ্যার যোগফল থেকে একটি মূলাঙ্ক নির্ধারিত হয়। সেই মূলাঙ্কের উপর ভিত্তি করেই ব্যক্তির স্বভাব, মানসিকতা এবং সম্পর্কের ধরণ সম্পর্কে কিছু ধারণা পাওয়া যায়।
সংখ্যাতত্ত্বের মতে, কিছু নির্দিষ্ট মূলাঙ্কের মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখা বা দাম্পত্য জীবন টিকিয়ে রাখা অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়তে পারে। কারণ তাঁদের স্বভাব অনেকটাই আলাদা, কখনও মুডি, কখনও অতিরিক্ত রাগী বা একাকীত্বপ্রিয় হয়ে থাকেন। ফলে সঙ্গীর সঙ্গে মানিয়ে চলা সবসময় সহজ হয় না।
চলুন জেনে নেওয়া যাক সেই মূলাঙ্কগুলো সম্পর্কে।
মূলাঙ্ক ৪
যাঁদের জন্ম যে কোনও মাসের ৪, ১৩, ২২ বা ৩১ তারিখে, তাঁদের মূলাঙ্ক ৪। সংখ্যাতত্ত্ব অনুযায়ী এই সংখ্যার অধিপতি গ্রহ হল রাহু।
রাহুর প্রভাবে এই মূলাঙ্কের মানুষের জীবনে এবং মানসিক অবস্থায় হঠাৎ হঠাৎ পরিবর্তন দেখা যায়। কখনও তারা অত্যন্ত উদ্যমী, আবার কখনও সম্পূর্ণ উদাসীন হয়ে পড়েন। জীবনে স্থিরতার অভাব থাকায় তাঁদের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক বজায় রাখা অনেক সময় সঙ্গীর জন্য কঠিন হয়ে ওঠে।
মূলাঙ্ক ৭
যাঁদের জন্ম ৭, ১৬ বা ২৫ তারিখে, তাঁদের মূলাঙ্ক ৭। এই সংখ্যার অধিপতি গ্রহ হল কেতু।
এই মূলাঙ্কের মানুষ সাধারণত একাকীত্ব পছন্দ করেন। তাঁরা সংবেদনশীল এবং আধ্যাত্মিক বিষয়ে গভীর আগ্রহী হন। সংসার বা সামাজিক জীবনের চেয়ে ব্যক্তিগত চিন্তা-ভাবনা এবং নিভৃত জীবন তাঁদের বেশি টানে। ফলে অনেক সময় হঠাৎ করেই সম্পর্ক বা বিবাহের প্রতি আগ্রহ কমে যেতে পারে, যা দাম্পত্য জীবনে দূরত্ব তৈরি করতে পারে।
মূলাঙ্ক ৯
যাঁদের জন্ম ৯, ১৮ বা ২৭ তারিখে, তাঁদের মূলাঙ্ক ৯। এই সংখ্যার অধিপতি গ্রহ হল মঙ্গল।
সংখ্যাতত্ত্ব অনুযায়ী, এই মূলাঙ্কের মানুষের মধ্যে শক্তি, আবেগ এবং নেতৃত্বের গুণ বেশি থাকে। তবে একই সঙ্গে তাঁদের মধ্যে রাগ এবং আগ্রাসী স্বভাবও বেশি দেখা যায়। অনেক সময় এই তীব্র রাগ দাম্পত্য জীবনে অশান্তির কারণ হয়ে উঠতে পারে।
কিছু মূলাঙ্কের মধ্যে সামঞ্জস্য কম
সংখ্যাতত্ত্ব অনুযায়ী, কিছু মূলাঙ্কের মানুষের মধ্যে স্বভাবগত পার্থক্যের কারণে সম্পর্ক টিকিয়ে রাখা তুলনামূলক কঠিন হতে পারে। যেমন—
১ ও ৬
২ ও ৯
৩ ও ৪
৫ ও ২
৭ ও ৮
৯ ও ১
এই জুটিগুলোর ক্ষেত্রে মতের অমিল বা স্বভাবের পার্থক্য বেশি হতে পারে বলে মনে করা হয়।
শেষ কথা
তবে মনে রাখতে হবে, সংখ্যাতত্ত্ব কেবল একটি প্রচলিত ধারণা বা দৃষ্টিভঙ্গি মাত্র। প্রত্যেক মানুষের ব্যক্তিত্ব আলাদা এবং সময়ের সঙ্গে মানুষের আচরণও বদলে যেতে পারে।
সুখী দাম্পত্য জীবনের আসল ভিত্তি হলো পারস্পরিক বোঝাপড়া, সম্মান, ধৈর্য এবং বিশ্বাস। এই গুণগুলো থাকলে যে কোনও সম্পর্কই সুন্দরভাবে এগিয়ে যেতে পারে।

Hello friends, Myself Biplab. I have been writing horoscopes since 2019. Since 2022, I have also been writing about entertainment, lifestyle, and trending news.