টলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিক আজ শুধু রুপোলি পর্দার তারকা নন, বাস্তব জীবনেও একজন সফল স্ত্রী ও দুই সন্তানের মা। স্বামী প্রযোজক নিসপাল সিংয়ের সঙ্গে তাঁর প্রেমের গল্প যেমন ধীরে ধীরে গড়ে উঠেছে, তেমনই পরিণত ও স্থির হয়েছে তাঁদের দাম্পত্য জীবন।
কোয়েল ও নিসপালের প্রথম আলাপ হয় বহু বছর আগে—১৯৯৯ সালে। তখন কোয়েলের বাবা, বর্ষীয়ান অভিনেতা রঞ্জিত মল্লিকের কাছে একটি ছবির প্রস্তাব নিয়ে গিয়েছিলেন নিসপাল। সেই সূত্রেই প্রথম দেখা। যদিও সেই সময় বিষয়টি নিছক পরিচয়েই সীমাবদ্ধ ছিল। প্রেমের রং লাগে অনেক পরে।
২০০৫ সালে নিসপাল কোয়েলকে একটি ছবির প্রস্তাব দেন—‘আই লাভ ইউ’। ছবিটি শেষ পর্যন্ত তৈরি না হলেও, এই সময় থেকেই তাঁদের বন্ধুত্ব আরও গভীর হয়। কাজের সূত্রে নিয়মিত যোগাযোগ, বোঝাপড়া এবং পারস্পরিক সম্মান থেকেই জন্ম নেয় ভালোবাসা। প্রায় সাত বছর একে অপরকে সময় দেওয়ার পর ২০১৩ সালে গাঁটছড়া বাঁধেন কোয়েল ও নিসপাল।
বিয়ের পর ধীরে ধীরে তাঁদের পরিবার বড় হয়। বর্তমানে তাঁরা দুই সন্তানের বাবা-মা—ছেলে কবীরের বয়স সাড়ে পাঁচ বছর, আর মেয়ে কাব্যার বয়স মাত্র এক বছর। সন্তানদের নিয়েই এখন কোয়েলের জীবনের বড় অংশ ঘুরে আবর্তিত।
কেরিয়ারের শুরুতে কোয়েলের নাম জড়িয়েছিল অভিনেতা জিতের সঙ্গে। একাধিক ছবিতে তাঁদের জুটি দর্শকমহলে দারুণ জনপ্রিয় হয়। শোনা যায়, ‘নাটের গুরু’ ছবির সময় জিত নাকি কোয়েলকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। পরে ‘সাত পাকে বাঁধা’ ছবির সময় কোয়েলও নাকি অনুভব করেছিলেন কিছুটা টান। তবে সেই সম্পর্ক কখনও বাস্তব রূপ পায়নি। পারিবারিক মতবিরোধ এবং পরিস্থিতির কারণে সেই অধ্যায় সেখানেই শেষ হয়।
বর্তমানে সংসার ও কাজ—দুটোই সমানভাবে সামলাচ্ছেন কোয়েল। ২০২৫ সালে পরপর দুটি ছবি মুক্তি পেয়েছে তাঁর। ভাইফোঁটার সময় মুক্তি পায় ‘স্বার্থপর’ এবং বড়দিনে প্রেক্ষাগৃহে আসে ‘এক খুনীর সন্ধানে মিতিন মাসি’। এটি জনপ্রিয় গোয়েন্দা চরিত্র মিতিন মাসিকে নিয়ে তৃতীয় কিস্তি। এই ছবিতে কোয়েলকে দেখা গেছে একেবারে অন্য রূপে। ছবিটি একই সময়ে মুক্তি পাওয়া দেব-মিঠুনের ‘প্রজাপতি ২’ এবং সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের ‘লহ গৌরাঙ্গের নাম রে’-র সঙ্গে বক্স অফিসে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে।
সব মিলিয়ে, প্রেম, পরিবার ও পেশাগত সাফল্যের সুন্দর ভারসাম্যেই এগোচ্ছে কোয়েল মল্লিকের জীবন। পর্দার বাইরেও তিনি যে এক সফল নারীর প্রতিচ্ছবি, তা বলাই বাহুল্য।

Hello, I am BB. I have been working in blogging for more than four years.