হিন্দু ধর্মে গৃহস্থ বাড়িতে সকাল ও সন্ধ্যায় প্রদীপ জ্বালানো এক প্রাচীন ও পবিত্র রীতি। এই প্রদীপ শুধু ঘর আলোকিত করে না, বরং ইতিবাচক শক্তি, শান্তি ও সমৃদ্ধির প্রতীক হিসেবেও বিবেচিত হয়। সাধারণত মাটির প্রদীপই বেশি ব্যবহৃত হয়, তবে শাস্ত্রে এমন এক বিশেষ প্রদীপের উল্লেখ রয়েছে, যা নিয়ম মেনে জ্বালাতে পারলে সৌভাগ্য খুব সহজেই ধরা দেয়—তা হল গমের আটা দিয়ে তৈরি প্রদীপ।
শাস্ত্র মতে, গমের সঙ্গে মা অন্নপূর্ণার আশীর্বাদ জড়িত। তাই আটার তৈরি প্রদীপ জ্বালানোকে অত্যন্ত শুভ বলা হয়। প্রতিদিন নিষ্ঠার সঙ্গে এই প্রদীপ জ্বালালে জীবনের নানা সমস্যা ধীরে ধীরে দূর হতে শুরু করে।
মনের ইচ্ছে পূরণ
গমের আটার সঙ্গে জল মিশিয়ে মণ্ড তৈরি করে যদি পঞ্চ প্রদীপ জ্বালানো যায়, তবে মনের গভীর ইচ্ছা পূরণ হয় বলে বিশ্বাস। এই প্রদীপ পরপর পাঁচটি মঙ্গলবার পঞ্চমুখী হনুমান মন্দিরে জ্বালাতে হয়। বিশ্বাস করা হয়, এতে হনুমানের কৃপায় মনস্কামনা পূর্ণ হয়।
গ্রহ শান্তি
যাঁদের কুষ্ঠিতে গ্রহদোষ রয়েছে, তাঁদের জন্য আটার প্রদীপ বিশেষ উপকারী। প্রতি সপ্তাহের মঙ্গলবার ও শনিবার হনুমান মন্দিরে এই প্রদীপ জ্বালালে গ্রহদোষ প্রশমিত হয়। বিশেষত মঙ্গল গ্রহকে শান্ত করতে প্রতিদিন আটার প্রদীপে চামেলির তেল দিয়ে প্রদীপ জ্বালানোর বিধান রয়েছে।
আর্থিক সমৃদ্ধি
আর্থিক টানাপোড়েন দূর করতে আটার সঙ্গে সামান্য হলুদ গুঁড়ো মিশিয়ে প্রদীপ তৈরি করা হয়। এই প্রদীপ সরষের তেল দিয়ে সকাল ও সন্ধ্যায় জ্বালালে অর্থকষ্ট দূর হয় এবং জীবনে নতুন আয়ের পথ খুলে যায় বলে বিশ্বাস।
বিয়েতে বাধা দূরীকরণ
বিয়েতে বারবার বাধা এলে হলুদ মেশানো আটার প্রদীপ ঘি দিয়ে জ্বালানো শুভ। শর্ত একটাই—ঘি শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রদীপ নিভতে দেওয়া যাবে না। শাস্ত্র মতে, এতে বিবাহের সমস্ত প্রতিবন্ধকতা কেটে যায়।
ঋণমুক্তি
ঋণের বোঝায় জর্জরিত হলে প্রতিদিন তুলসী মঞ্চে আটার প্রদীপ জ্বালানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। নিষ্ঠা ও বিশ্বাসের সঙ্গে এই কাজ করলে ধীরে ধীরে ঋণমুক্তির পথ প্রশস্ত হয় বলে মনে করা হয়।
সব মিলিয়ে, আটার তৈরি প্রদীপ শুধু ধর্মীয় আচার নয়, বরং বিশ্বাস, নিষ্ঠা ও ইতিবাচক মানসিকতার প্রতীক। নিয়ম মেনে ও শ্রদ্ধার সঙ্গে এই প্রদীপ জ্বালাতে পারলে জীবনে শান্তি, সমৃদ্ধি ও সৌভাগ্যের আগমন ঘটে—এমনটাই বিশ্বাস শাস্ত্রের।

Hello, I am BB. I have been working in blogging for more than four years.