ব্যস্ত শহুরে জীবনে সময় বাঁচানোর অন্যতম ভরসা হয়ে উঠেছে মাইক্রোওভেন। কম সময়ে খাবার গরম করা, গ্যাস ও পরিশ্রম বাঁচানো—সব মিলিয়ে আধুনিক রান্নাঘরে এর ব্যবহার দিন দিন বাড়ছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, মাইক্রোওভেন ব্যবহারে সামান্য অসচেতনতা ডেকে আনতে পারে গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি।
কীভাবে কাজ করে মাইক্রোওভেন?
মাইক্রোওভেন মূলত খাবারের ভেতরে থাকা জলের অণুগুলিকে কম্পিত করে তাপ উৎপন্ন করে। এর ফলে খাবার দ্রুত গরম হয়। কিন্তু এই প্রক্রিয়ায় যদি ভুল পাত্র বা অনুপযুক্ত উপাদান ব্যবহার করা হয়, তাহলে খাবারের সঙ্গে ক্ষতিকর রাসায়নিক মিশে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
প্লাস্টিক পাত্রে গরম করা কেন বিপজ্জনক?
চিকিৎসক ও পুষ্টিবিদদের মতে, সাধারণ প্লাস্টিকের পাত্র মাইক্রোওভেনে ব্যবহার করলে সেখান থেকে BPA ও Phthalates-এর মতো ক্ষতিকর রাসায়নিক নির্গত হতে পারে। এই উপাদানগুলি শরীরের হরমোনের স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট করতে সক্ষম। দীর্ঘদিন এর প্রভাব পড়লে বন্ধ্যাত্ব, থাইরয়েড সমস্যা এমনকি ক্যানসারের ঝুঁকিও বেড়ে যেতে পারে বলে বিভিন্ন গবেষণায় ইঙ্গিত মিলেছে।
কোন খাবার মাইক্রোওভেনে গরম করা উচিত নয়?
বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু খাবার মাইক্রোওভেনে গরম করা একেবারেই নিরাপদ নয়। যেমন—
ডিম: খোসাসহ ডিম গরম করলে ভেতরে চাপ তৈরি হয়ে বিস্ফোরণ ঘটতে পারে।
খোসাযুক্ত আলু: ভেতরে বাষ্প জমে ফেটে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।
সম্পূর্ণ বন্ধ প্যাকেটজাত খাবার: অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়ে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
এছাড়াও ধাতব পাত্র বা অ্যালুমিনিয়াম ফয়েল ব্যবহার করলে আগুন লাগার ঝুঁকি থাকে।
বারবার গরম করা খাবারের ক্ষতি
একই খাবার বারবার মাইক্রোওভেনে গরম করলে তার পুষ্টিগুণ অনেকটাই নষ্ট হয়ে যায়। বিশেষ করে ভাত, শাকসবজি ও প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবারে ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যায়। এতে খাদ্য বিষক্রিয়া ও হজমের সমস্যা দেখা দিতে পারে।
নিরাপদ ব্যবহারের জন্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ
পুষ্টিবিদ ও চিকিৎসকদের মতে, সঠিক নিয়ম মানলে মাইক্রোওভেন নিজে ক্ষতিকর নয়। নিরাপদ ব্যবহারের জন্য—
কেবল Microwave-safe কাচ বা সিরামিক পাত্র ব্যবহার করুন।
খাবার ঢেকে গরম করুন, যাতে তাপ সমানভাবে ছড়ায়।
মাঝপথে খাবার নেড়ে বা উল্টে নিন।
শিশুদের খাবার দেওয়ার আগে তাপমাত্রা ভালোভাবে পরীক্ষা করুন।
বিশেষজ্ঞদের কথায়, “মাইক্রোওভেন নয়, বরং আমাদের ভুল ব্যবহারই সমস্যার মূল কারণ।” তাই সচেতন থাকলে আধুনিক এই যন্ত্র ব্যবহার করেও সুস্থ থাকা সম্ভব।