শনিবার নদিয়া জেলায় একাধিক উন্নয়নমূলক কর্মসূচিতে অংশ নিতে আসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এই সফর ঘিরেই রাজ্য রাজনীতিতে উত্তেজনা চরমে। রানাঘাটে প্রায় ৩২০০ কোটি টাকার বিভিন্ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাস করার পাশাপাশি তাহেরপুরের মাঠে বিজেপির রাজনৈতিক সভাতেও ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। সফরের ঠিক আগের দিনই সোশ্যাল মিডিয়ায় রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসকে নিশানা করে কড়া বার্তা দেন তিনি।
শুক্রবার সন্ধ্যায় নিজের এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডলে প্রধানমন্ত্রী জানান, ২০ ডিসেম্বর সকাল ১১টা নাগাদ তিনি নদিয়ার রানাঘাটে জনসভায় যোগ দেবেন। সেখানে কেন্দ্রীয় সরকারের প্রায় ৩২০০ কোটি টাকার উন্নয়নমূলক প্রকল্পের সূচনা করা হবে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, কেন্দ্রের একাধিক জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের সুবিধা পশ্চিমবঙ্গের মানুষ পেলেও, রাজ্যে তৃণমূল কংগ্রেসের শাসনে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ দিন দিন বেড়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর অভিযোগ, পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূলের আমলে লুটপাট, দুর্নীতি ও ভীতির রাজনীতি সব সীমা অতিক্রম করেছে। তাঁর মতে, এই পরিস্থিতির মধ্যেই বিজেপি রাজ্যের সাধারণ মানুষের কাছে ভরসার জায়গা হয়ে উঠেছে। রাজ্যে প্রকল্পের নাম পরিবর্তন, ১০০ দিনের কাজের টাকা না পাওয়া এবং কেন্দ্রীয় প্রকল্প নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর অভিযোগে দীর্ঘদিন ধরেই তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে টানাপোড়েন চলছে। মোদীর পোস্ট থেকে স্পষ্ট, শনিবারের সভা থেকেই এই সব অভিযোগের জবাব দিতে প্রস্তুত বিজেপি নেতৃত্ব।
প্রধানমন্ত্রীর এই আক্রমণের পাল্টা দিতে দেরি করেনি তৃণমূল কংগ্রেসও। শাসক দলের তরফে সোশ্যাল মিডিয়ায় দাবি করা হয়, বাংলার বর্তমান আর্থিক ও প্রশাসনিক সমস্যার জন্য দায়ী কেন্দ্রীয় সরকারই। তৃণমূলের অভিযোগ, গত কয়েক বছরে কেন্দ্র জিএসটি ও প্রত্যক্ষ কর বাবদ বিপুল পরিমাণ অর্থ আদায় করলেও রাজ্যের প্রাপ্য টাকা ছাড় করা হয়নি। পাশাপাশি, মাতৃভাষার কারণে বাংলার মানুষকে বাংলাদেশি তকমা দিয়ে হেনস্থার অভিযোগও তুলে ধরা হয়।
স্বাভাবিক ভাবেই, মোদীর বঙ্গ সফরের আগেই তৃণমূল-বিজেপি তরজা নতুন মাত্রা পেয়েছে। বিশেষ করে মতুয়া অধ্যুষিত রানাঘাট লোকসভা কেন্দ্র থেকে প্রধানমন্ত্রী কী রাজনৈতিক বার্তা দেন, সেদিকেই নজর রাজ্য রাজনীতির। উল্লেখযোগ্যভাবে, ছয় বছর আগে নদিয়ায় সভা করতে এসে সিএএ পাশ করিয়ে উদ্বাস্তুদের নাগরিকত্ব দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন মোদী। এবারের সভায় সেই ইস্যুতে কোনও নতুন ঘোষণা বা রাজনৈতিক বার্তা আসে কি না, তা নিয়েও রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তুঙ্গে।
সব মিলিয়ে, উন্নয়ন প্রকল্পের ঘোষণা ও রাজনৈতিক বক্তব্য—দু’দিক থেকেই শনিবারের নদিয়া সফর যে রাজ্য রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য।