জ্যোতিষশাস্ত্র অনুযায়ী, সপ্তাহের প্রতিটি দিনের আলাদা আলাদা ধর্মীয় ও জ্যোতিষ গুরুত্ব রয়েছে। সোমবার দিনটি বিশেষভাবে ভগবান শিবের আরাধনার জন্য শুভ বলে মনে করা হয়। বিশ্বাস করা হয়, নিয়ম মেনে সোমবার ব্রত ও শিবপুজো করলে শুধু মানসিক শান্তিই নয়, ঘরে সুখ-সমৃদ্ধি ও আর্থিক উন্নতিও আসে। বিশেষত যাঁরা দীর্ঘদিন ধরে অর্থসংকটে ভুগছেন বা পরিশ্রমের তুলনায় ফল পাচ্ছেন না, তাঁদের জন্য সোমবারের কিছু শাস্ত্রসম্মত উপায় অত্যন্ত ফলদায়ক হতে পারে।
শিবের আরাধনায় খুলবে সমৃদ্ধির দ্বার
সোমবার ভগবান শিবকে সন্তুষ্ট করার জন্য বিশেষ কিছু সামগ্রী অর্পণ করা অত্যন্ত শুভ। এইদিন শিবলিঙ্গে চন্দন, বেলপাতা, ধুতুরা বা আকন্দের ফুল, দুধ ও গঙ্গাজল নিবেদন করুন। ইচ্ছা পূরণ ও অর্থপ্রাপ্তির পথে বাধা কাটাতে ১০৮ বার মহামৃত্যুঞ্জয় মন্ত্র জপ করার কথা বলা হয়।
এছাড়াও শিবকে গমের আটা দিয়ে তৈরি প্রসাদ অর্পণ করা শুভ ফল দেয়। সোমবার সন্ধ্যায় কালো তিল ও কাঁচা চাল একসঙ্গে মিশিয়ে ব্রাহ্মণকে দান করলে পিতৃদোষ থেকে মুক্তি মিলতে পারে। জ্যোতিষ মতে, অনেক সময় পিতৃদোষের কারণেই আর্থিক উন্নতি আটকে থাকে।
শিবের ভোগে দূর হবে অর্থহানি
যাঁরা বারবার টাকা হাতে এসেও ধরে রাখতে পারছেন না, তাঁদের জন্য সোমবারের ভোগ বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। দেশি ঘিয়ে আটা দিয়ে তৈরি ভোগ ভগবান শিবকে নিবেদন করলে অর্থহানির যোগ কাটে বলে বিশ্বাস।
যদি দীর্ঘদিন ধরে অর্থসংকট লেগেই থাকে, তবে সোমবার সন্ধ্যায় রুপোর নাগ-নাগিনের জোড়া দান করতে পারেন। পাশাপাশি, সোমবার মাছেদের আটার গোল্লা খাওয়ালে অর্থ সংক্রান্ত সমস্যা ধীরে ধীরে দূর হয় বলে শাস্ত্রে উল্লেখ রয়েছে।
আরও একটি বিশেষ উপায় হল—সোমবার ৫ জন কন্যাকে পায়েস খাইয়ে দক্ষিণা দেওয়া। এতে ঘরে মা লক্ষ্মীর স্থায়ী বাস হয় বলে বিশ্বাস।
সোমবার সাদা জিনিস দানের মাহাত্ম্য
চন্দ্রদেবের দিন হিসেবে সোমবারে সাদা রঙের জিনিস দান অত্যন্ত শুভ বলে ধরা হয়। দুধ, দই, সাদা কাপড় বা চিনি দান করলে সৌভাগ্য বৃদ্ধি পায়। এইদিন ভগবান শিবের শিব রক্ষা স্তোত্র পাঠ করলে আত্মবিশ্বাস বাড়ে এবং মানসিক স্থিরতা আসে।
এছাড়াও শিব তাণ্ডব স্তোত্র পাঠ করলে অর্থ সংক্রান্ত সমস্যা দূর হতে পারে। যাঁদের জন্মছকে চন্দ্র দুর্বল, তাঁরা সোমবার চন্দ্রদেবের স্তোত্র পাঠ করলে চন্দ্রমা শক্তিশালী হয় এবং তার প্রভাবে আয়ের পথ সুগম হয় বলে জ্যোতিষশাস্ত্রে বলা হয়েছে।
সোমবার নিয়ম মেনে এই উপায়গুলি পালন করলে ধীরে ধীরে আর্থিক উন্নতি, মানসিক শান্তি ও সংসারে সমৃদ্ধি আসতে পারে—এমনটাই বিশ্বাস জ্যোতিষ ও ধর্মীয় শাস্ত্রে।