সংখ্যাতত্ত্ব বা নিউমেরোলজি অনুযায়ী মানুষের জন্মতারিখ তার স্বভাব, ভাগ্য এবং জীবনের নানা ঘটনার উপর বিশেষ প্রভাব ফেলে। এই প্রাচীন গণনা পদ্ধতি বলছে, কিছু নির্দিষ্ট মূলাঙ্কের মানুষ জীবনে দ্রুত উন্নতি ও সাফল্য অর্জন করলেও সেই সাফল্যের সঙ্গে সঙ্গে তাদের জীবনে বাড়তে পারে এক ধরনের অদৃশ্য বাধা—যাকে বলা হয় ‘গুপ্ত শত্রু’।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সব মানুষের ক্ষেত্রে এমনটা ঘটে না। তবে মূলাঙ্ক ১, ৬, ৮ এবং ৯-এর জাতকদের ক্ষেত্রে এই প্রবণতা তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। এই চারটি মূলাঙ্কের মানুষেরা সাধারণত প্রতিভা, নেতৃত্বগুণ বা কর্মক্ষমতার জন্য দ্রুতই সাফল্যের শিখরে পৌঁছতে পারেন। কিন্তু সেই সাফল্যই অনেক সময় আশেপাশের মানুষের মধ্যে ঈর্ষা বা প্রতিদ্বন্দ্বিতার মনোভাব তৈরি করে।
সংখ্যাতত্ত্বে মূলাঙ্ক নির্ধারণ করা হয় জন্মতারিখের উপর ভিত্তি করে। যাঁদের জন্ম মাসের ১, ১০, ১৯ বা ২৮ তারিখে, তাঁদের মূলাঙ্ক ১ ধরা হয়। আবার ৬, ১৫ বা ২৪ তারিখে জন্মানো ব্যক্তিদের মূলাঙ্ক ৬। একইভাবে ৮, ১৭ বা ২৬ তারিখে জন্ম নেওয়া মানুষের মূলাঙ্ক ৮ এবং ৯, ১৮ বা ২৭ তারিখে জন্মানো ব্যক্তিদের মূলাঙ্ক ৯ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
এই চারটি মূলাঙ্কের মানুষের স্বভাবগত বৈশিষ্ট্যই অনেক সময় তাদের সাফল্যের পাশাপাশি বিরোধিতার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। মূলাঙ্ক ১-এর জাতকরা সাধারণত জন্মগত নেতা। সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা ও আত্মবিশ্বাসের জন্য তারা সহজেই অন্যদের নেতৃত্ব দিতে পারেন। কিন্তু এই নেতৃত্বগুণই অনেক সময় অন্যদের মধ্যে হীনমন্যতা বা ঈর্ষার জন্ম দেয়।
অন্যদিকে মূলাঙ্ক ৬-এর মানুষদের জীবনযাত্রা প্রায়ই আর্থিক স্বাচ্ছন্দ্য ও সৌন্দর্যবোধে ভরপুর হয়। তারা সাধারণত বিলাসিতা ও আরামপ্রিয় জীবনযাপনের দিকে ঝোঁকেন। ফলে তাদের উন্নতি ও সমৃদ্ধি অনেকের চোখে পড়ে এবং সেখান থেকেই জন্ম নিতে পারে গোপন প্রতিদ্বন্দ্বিতা।
মূলাঙ্ক ৮-এর জাতকরা কঠোর পরিশ্রমী এবং অত্যন্ত দৃঢ় মানসিকতার অধিকারী হন। তারা লক্ষ্য স্থির করে কাজ করতে জানেন এবং প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও হার মানতে চান না। এই অদম্য মনোবল ও সাফল্যের ধারাবাহিকতা অনেক সময় অন্যদের বিরূপ মনোভাবের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
আর মূলাঙ্ক ৯-এর মানুষদের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল সাহস এবং নেতৃত্বের ক্ষমতা। তারা সাধারণত শক্তিশালী ব্যক্তিত্বের অধিকারী হন এবং নিজেদের দক্ষতার মাধ্যমে সমাজে বা কর্মক্ষেত্রে একটি বিশেষ অবস্থান তৈরি করতে পারেন। এই উত্থান অনেক সময় অন্যদের কাছে অস্বস্তিকর হয়ে ওঠে এবং সেখান থেকেই জন্ম নিতে পারে গোপন বিরোধিতা।
গুপ্ত শত্রুরা সাধারণত সরাসরি বিরোধিতায় না গিয়ে আড়াল থেকে সমস্যা তৈরি করার চেষ্টা করে। কখনও তারা অপপ্রচার চালায়, আবার কখনও পরিকল্পনা ভেস্তে দেওয়ার চেষ্টা করে। অনেক ক্ষেত্রে খুব কাছের মানুষ বা বিশ্বাসভাজন সেজেও কেউ কেউ পেছন থেকে আঘাত করতে পারে। ফলে সাফল্যের পথে এগিয়ে চলা মানুষটি মানসিক চাপের মুখে পড়তে পারেন।
সংখ্যাতত্ত্ব ও আধ্যাত্মিক মত অনুযায়ী, এই ধরনের নেতিবাচক প্রভাব থেকে মুক্তি পেতে নিয়মিত প্রার্থনা বা ধর্মীয় অনুশীলন সহায়ক হতে পারে। অনেকেই বিশ্বাস করেন, ভক্তিভরে হনুমান চালিশা পাঠ করলে মানসিক শক্তি বৃদ্ধি পায় এবং নেতিবাচক শক্তির প্রভাব কমে।
তবে শুধু আধ্যাত্মিক উপায়েই নয়, বাস্তব জীবনের কিছু সতর্কতাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষজ্ঞদের মতে, নিজের গুরুত্বপূর্ণ পরিকল্পনা বা কৌশল কাজ সম্পূর্ণ হওয়ার আগে কারও সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া উচিত নয়। খুব সহজে কাউকে বিশ্বাস করা বা অতি প্রচারও অনেক সময় সমস্যার কারণ হতে পারে।
সবশেষে বলা যায়, সাফল্যের সঙ্গে প্রতিযোগিতা এবং বিরোধিতা আসা অস্বাভাবিক নয়। বরং এটিই জীবনের স্বাভাবিক অংশ। তাই ভয় না পেয়ে সচেতন থাকা এবং নিজের লক্ষ্যপথে দৃঢ়ভাবে এগিয়ে যাওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।

Hello, I am BB. I have been working in blogging for more than four years.