পেটের সমস্যা যেন আজকাল বাঙালির নিত্যসঙ্গী। গ্যাস, অম্বল, ডায়েরিয়া— একটার পর একটা সমস্যা লেগেই থাকে। বাইরে খাওয়া, অনিয়মিত জীবনযাপন আর মানসিক চাপ মিলিয়ে হজমের গোলমাল বাড়ছে হু হু করে। বহু মানুষ নিয়মিত ওষুধ খেয়েও স্থায়ী সমাধান পাচ্ছেন না। ঠিক এই জায়গাতেই ভরসা হয়ে উঠতে পারে এক প্রাচীন গেঁজানো পানীয়— কাঞ্জি।
পুষ্টিবিদদের মতে, পেট ভাল রাখতে হলে প্রোবায়োটিক অত্যন্ত জরুরি। দই বা ঘোল অনেকের ক্ষেত্রেই সমস্যা বাড়িয়ে দেয়। তাই উত্তর ভারতের বহু রাজ্যে— পঞ্জাব, উত্তরপ্রদেশ, রাজস্থানে— বছরের বিশেষ সময়ে কাঞ্জি পান করার রীতি রয়েছে। গেঁজিয়ে তৈরি হওয়ায় কাঞ্জিতে প্রাকৃতিক প্রোবায়োটিক থাকে, যা অন্ত্রের স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে সাহায্য করে। পাশাপাশি শরীরের ভেতর থেকে টক্সিন দূর করে, লিভারের কার্যক্ষমতা বাড়ায় এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী করে।
বিশেষ করে আমলকি ও আদা দিয়ে তৈরি কাঞ্জি পেটের রোগ সারাতে খুবই কার্যকর। আমলকি ভিটামিন C-এ ভরপুর, যা লিভার পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে। আদা ও কাঁচা হলুদ হজমশক্তি বাড়ায়, প্রদাহ কমায়। সর্ষের দানা গেঁজন প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে এবং কাঞ্জিকে প্রোবায়োটিক শক্তি দেয়।
আমলকি-আদার কাঞ্জি তৈরির পদ্ধতি
কাচের বড় জারে ঈষদুষ্ণ জল নিয়ে তাতে আমলকি, কাঁচা হলুদ ও আদার টুকরো দিন। নুন মিশিয়ে সর্ষের দানা বেটে জলে দিন। সব ভাল করে নেড়ে জারের মুখ পাতলা কাপড়ে ঢেকে ২-৩ দিন রেখে দিন। দিনে একবার নেড়ে নিতে হবে। তিন দিন পর পানীয়টি ছেঁকে নিলেই তৈরি কাঞ্জি।
এই কাঞ্জি সপ্তাহে ২-৩ দিন খেলে হজমের সমস্যা কমে, গ্যাস-অম্বল নিয়ন্ত্রণে আসে এবং লিভার সুস্থ থাকে। ওষুধের পাশাপাশি এই প্রাকৃতিক পানীয় নিয়মিত খেলে শরীর ভিতর থেকে ভাল হয়ে ওঠে।

Hello friends, Myself Biplab. I have been writing horoscopes since 2019. Since 2022, I have also been writing about entertainment, lifestyle, and trending news.