দেশে রান্নার গ্যাসের চাহিদা ও সরবরাহ পরিস্থিতি সামাল দিতে কেন্দ্রীয় সরকার নতুন একটি নির্দেশিকা জারি করেছে। এই নির্দেশ অনুযায়ী, যেসব এলাকায় ইতিমধ্যে পাইপযুক্ত প্রাকৃতিক গ্যাস বা পিএনজি সরবরাহের পরিকাঠামো তৈরি হয়েছে, সেইসব এলাকার বাসিন্দাদের ধীরে ধীরে এলপিজি সংযোগ ছেড়ে পিএনজি ব্যবস্থায় যেতে বলা হচ্ছে।
সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, সংশ্লিষ্ট গ্রাহকদের বাড়িতে ইতিমধ্যেই নোটিশ পাঠানো শুরু হয়েছে। রেজিস্টার্ড বা স্পিড পোস্টের মাধ্যমে এই নোটিশ ২৪ মার্চ থেকে পাঠানো হচ্ছে বলে জানা গেছে। নোটিশ পাওয়ার পর তিন মাসের মধ্যে গ্রাহককে পিএনজি সংযোগের জন্য আবেদন করতে হবে। যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন না করা হয়, তাহলে ওই ঠিকানায় এলপিজি সিলিন্ডারের রিফিল সরবরাহ বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
কোন আইনের অধীনে জারি হয়েছে নির্দেশ
সরকারের এই সিদ্ধান্ত ‘প্রাকৃতিক গ্যাস এবং পেট্রোলিয়াম পণ্য বিতরণ আদেশ, ২০২৬’ নামে একটি নির্দেশিকার মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়েছে। এটি অত্যাবশ্যকীয় পণ্য আইনের আওতায় জারি করা হয়েছে, যার উদ্দেশ্য দেশের জ্বালানি ব্যবস্থাকে আরও সুসংগঠিত করা এবং সরবরাহের ওপর চাপ কমানো।
কিছু ক্ষেত্রে ছাড়ের ব্যবস্থাও রয়েছে
তবে এই নিয়মে একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যতিক্রম রাখা হয়েছে। যদি গ্যাস বিতরণকারী সংস্থা মনে করে যে নির্দিষ্ট কোনও এলাকায় প্রযুক্তিগত কারণে পিএনজি সংযোগ দেওয়া সম্ভব নয়, তাহলে তারা গ্রাহককে একটি অনাপত্তি শংসাপত্র দিতে পারে। সেই ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট গ্রাহকের এলপিজি সরবরাহ বন্ধ করা হবে না।
গ্যাস ঘাটতি নিয়ে আতঙ্ক ঠেকাতে নজরদারি
বর্তমান পরিস্থিতিতে গ্যাসের সম্ভাব্য ঘাটতি নিয়ে যাতে বাজারে আতঙ্ক না ছড়ায় বা কালোবাজারি না বাড়ে, সেই কারণেই রাজ্য সরকারগুলিকে নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রের তরফে এই বিষয়ে পৃথকভাবে রাজ্যগুলিকে সতর্কবার্তাও পাঠানো হয়েছে।
এলপিজি বুকিংয়ের সময়সীমাতেও পরিবর্তনের খবর
সম্প্রতি এলপিজি বুকিংয়ের নিয়ম নিয়েও নতুন তথ্য সামনে এসেছে। জানা গেছে, ডবল সিলিন্ডার ব্যবহারকারী গ্রাহকদের ক্ষেত্রে বুকিংয়ের ব্যবধান বাড়ানো হয়েছে। যাঁরা উজ্জ্বলা প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত নন, তাঁদের জন্য ডবল সিলিন্ডার বুক করার সময়সীমা ৩৫ দিন করা হয়েছে। তবে সিঙ্গল সিলিন্ডার ব্যবহারকারীদের ক্ষেত্রে আগের মতোই ২৫ দিন ব্যবধান রাখা হয়েছে।
অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী উজ্জ্বলা যোজনার আওতায় থাকা গ্রাহকদের জন্য ৫ কেজি সিলিন্ডারের বুকিং ব্যবস্থায় তেমন পরিবর্তন হয়নি। শহরে ৫ কেজির সিলিন্ডার বুক করার পর দ্বিতীয়টি বুক করা যাবে ৯ দিন পরে, আর গ্রামীণ এলাকায় এই সময়সীমা ১৬ দিন। আবার ১০ কেজির সিলিন্ডারের ক্ষেত্রে শহরে ১৮ দিন এবং গ্রামে ৩২ দিন পর পরবর্তী বুকিং করা যাবে।
দেশে এলপিজির চাহিদা ও আমদানির বাস্তব চিত্র
ভারতে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ এলপিজি ব্যবহার হয়। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দৈনিক প্রায় ৯৩ হাজার ৫০০ টন এলপিজির প্রয়োজন পড়ে। এর মধ্যে প্রায় ৮০ হাজার ৪০০ টন গ্যাসই ব্যবহার হয় গৃহস্থালির কাজে।
এই বিশাল চাহিদা মেটাতে ভারতের উল্লেখযোগ্য অংশের এলপিজি বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। মোট চাহিদার প্রায় ৬০ শতাংশই আমদানির ওপর নির্ভরশীল। আবার এই আমদানির বেশিরভাগ অংশ আসে পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলি থেকে।
আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রভাব
বর্তমানে পশ্চিম এশিয়ার ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং হরমুজ প্রণালী ঘিরে উত্তেজনার কারণে গ্যাস আমদানির ওপর চাপ তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ফলে ভবিষ্যতে সরবরাহ ব্যবস্থাকে স্থিতিশীল রাখতে বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে পিএনজি ব্যবহারে জোর দেওয়া হচ্ছে।
একটি পরিবারের গ্যাস ব্যবহারের হিসাব
সমীক্ষা অনুযায়ী, ভারতে সাধারণত ৩ থেকে ৪ জন সদস্যের একটি পরিবারের ক্ষেত্রে ১৪.২ কেজির একটি এলপিজি সিলিন্ডার প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ দিন পর্যন্ত ব্যবহার করা যায়। তাই বুকিংয়ের সময়সীমা পরিবর্তনের সিদ্ধান্তও এই ব্যবহার পরিসংখ্যান বিবেচনা করেই নেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, দেশের জ্বালানি ব্যবস্থাকে আরও পরিকল্পিত ও দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীল করতে সরকার ধাপে ধাপে পিএনজি ব্যবস্থার দিকে গ্রাহকদের উৎসাহিত করছে। তবে বাস্তবে এই নিয়ম কীভাবে কার্যকর হবে, তা অনেকটাই নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট এলাকার অবকাঠামো এবং গ্রাহকদের সাড়া দেওয়ার ওপর।

Hello, I am BB. I have been working in blogging for more than four years.