শেয়ার বাজারের সাম্প্রতিক অস্থিরতা ও ধারাবাহিক পতন বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ফের অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। ২০২৫ সালে প্রত্যাশিত রিটার্ন না পাওয়ার পর ২০২৬ সালের শুরুতেও বাজারে আশার আলো খুব একটা দেখা যাচ্ছে না। ফলে বহু বিনিয়োগকারী এখন ঝুঁকিপূর্ণ বাজার ছেড়ে নিশ্চিত ও স্থির রিটার্নের বিকল্প খুঁজছেন। এই প্রেক্ষাপটে পোস্ট অফিসের রিকারিং ডিপোজিট (আরডি) স্কিম আবারও সাধারণ মানুষের কাছে একটি নির্ভরযোগ্য সঞ্চয় মাধ্যম হিসেবে উঠে এসেছে।
বর্তমানে পোস্ট অফিস আরডি-তে বার্ষিক ৬.৭ শতাংশ হারে সুদ দেওয়া হচ্ছে, যা ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে কম্পাউন্ড হয়। এই স্কিমের সবচেয়ে বড় সুবিধা হল—এটি সম্পূর্ণ সরকারি গ্যারান্টির আওতায় পরিচালিত, ফলে বাজারের ওঠানামার কোনও প্রভাব পড়ে না।
পাঁচ বছরে কত টাকা পাওয়া যেতে পারে?
এই প্রকল্পটি বিশেষভাবে উপযোগী তাঁদের জন্য, যাঁরা ছোট অঙ্ক দিয়ে নিয়মিত সঞ্চয় করতে চান। পোস্ট অফিস আরডি অ্যাকাউন্ট খোলার জন্য প্রতি মাসে ন্যূনতম জমার পরিমাণ মাত্র ১০০ টাকা।
যদি কেউ প্রতি মাসে ১০,০০০ টাকা করে টানা পাঁচ বছর জমা করেন, তাহলে মোট জমার পরিমাণ দাঁড়াবে ৬ লক্ষ টাকা। মেয়াদ শেষে তিনি মোট পাবেন প্রায় ৭,০৯,৯০২ টাকা, যার মধ্যে ১,০৯,৯০২ টাকা সুদ বাবদ আয়।
সুদের হার ও সরকারের ভূমিকা
পোস্ট অফিস আরডি-র সুদের হার সরকার প্রতি তিন মাস অন্তর পর্যালোচনা করে। প্রয়োজনে হার সংশোধন করা হয়, যাতে এটি অন্যান্য সঞ্চয় প্রকল্পের সঙ্গে প্রতিযোগিতামূলক থাকে এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীরা উপকৃত হন।
ঋণ নেওয়ার সুবিধা
এই স্কিমের আরেকটি বড় সুবিধা হল ঋণ নেওয়ার সুযোগ। অ্যাকাউন্ট খোলার এক বছর পর জমাকারী তাঁর মোট জমা অর্থের সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত ঋণ নিতে পারেন। জরুরি আর্থিক প্রয়োজনে এটি বড় সহায়ক হতে পারে। তবে এই ঋণের সুদের হার সংশ্লিষ্ট আরডি সুদের হারের তুলনায় ২ শতাংশ বেশি।
কার জন্য সবচেয়ে উপযোগী
পোস্ট অফিস আরডি বিশেষভাবে উপকারী—
বেতনভোগী কর্মচারীদের জন্য
ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও স্বনির্ভর কর্মীদের জন্য
দৈনিক মজুরিতে কাজ করা মানুষের জন্য
এছাড়াও সন্তানের উচ্চশিক্ষা, বিবাহের খরচ, বাড়ি নির্মাণ কিংবা ভবিষ্যতের বড় কোনও আর্থিক লক্ষ্যের পরিকল্পনায় এই স্কিম অত্যন্ত কার্যকর। যাঁরা কম ঝুঁকির বিনিয়োগ পছন্দ করেন, তাঁদের জন্য এটি আদর্শ।
মেয়াদ বাড়ানোর সুবিধা
যদিও পোস্ট অফিস আরডি-র প্রাথমিক মেয়াদ পাঁচ বছর, তবে জমাকারীর ইচ্ছায় এটি আরও পাঁচ বছরের জন্য বাড়ানো যায়। ফলে দীর্ঘমেয়াদি সঞ্চয় বা অবসরকালীন তহবিল গঠনের ক্ষেত্রেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।
কীভাবে অ্যাকাউন্ট খুলবেন
পোস্ট অফিস আরডি অ্যাকাউন্ট খুলতে লাগবে—
আধার কার্ড
প্যান কার্ড
পাসপোর্ট সাইজের ছবি
প্রতি মাসে নির্দিষ্ট সময়ে টাকা জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক। দেরি হলে জরিমানার নিয়ম রয়েছে। বর্তমানে অনলাইন মাধ্যমেও এই স্কিম পরিচালনা করা যায়, যা ডিজিটাল পরিষেবায় অভ্যস্ত গ্রাহকদের জন্য বাড়তি সুবিধা।
উপসংহার
সরকারি গ্যারান্টিতে পরিচালিত পোস্ট অফিস আরডি স্কিম শৃঙ্খলাবদ্ধ সঞ্চয়ের অভ্যাস গড়ে তোলে এবং কোনও বাজারঝুঁকি ছাড়াই স্থিতিশীল রিটার্ন নিশ্চিত করে। অনিশ্চিত শেয়ার বাজারের সময়ে এটি হতে পারে ভবিষ্যৎ আর্থিক নিরাপত্তার এক বিশ্বস্ত সঙ্গী।