বিয়ের আগে বাগদত্তাকে সরাতে চেয়েছিলেন সিয়া! তিন বার খুনের ছক, শেষমেশ পাহাড় থেকে ধাক্কা

মহারাষ্ট্রের পুণেতে ব্যবসায়ী পরিবারের তরুণ সদস্য কেতন বিশাল অগ্রবালের মৃত্যুকে ঘিরে সামনে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। প্রথমে ঘটনাটিকে দুর্ঘটনা বলে মনে হলেও তদন্তের অগ্রগতিতে পুলিশ দাবি করেছে, এটি পূর্বপরিকল্পিত খুন। এই ঘটনায় কেতনের বাগদত্তা সিয়া গয়াল এবং তাঁর সহকর্মী তথা প্রেমিক চেতন চৌধরিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আদালত দু’জনকেই ২৯ জুন পর্যন্ত পুলিশ হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে।

পুলিশের অভিযোগ, সিয়ার সঙ্গে চেতনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। কিন্তু এরই মধ্যে কেতনের সঙ্গে তাঁর বাগদান হয়ে যায় এবং আগামী নভেম্বরে তাঁদের বিয়ে হওয়ার কথা ছিল। তদন্তে উঠে এসেছে, সিয়া নাকি কেতনকে বিয়ে করতে চাইছিলেন না। সেই কারণেই চেতনকে সঙ্গে নিয়ে কেতনকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করেন তিনি।

পুলিশের দাবি, গত ১৮ জুন কেতনকে নিয়ে পুণের কাছে লোহাগড় দুর্গে ট্রেকিংয়ে গিয়েছিলেন সিয়া। আগে থেকেই সেখানে উপস্থিত ছিলেন চেতন। কেতন এবং সিয়া পাহাড়ে ওঠার সময় তাঁদের অদূর থেকে অনুসরণ করছিলেন তিনি। তদন্তকারীদের মতে, কেতন বিষয়টি বুঝতে না পারলেও সিয়া জানতেন যে চেতন তাঁদের পিছনেই রয়েছেন। পরে পাহাড়ের ধারে পৌঁছনোর পর চেতন সেখানে এসে উপস্থিত হন এবং পরিকল্পনা অনুযায়ী কেতনকে ধাক্কা দিয়ে প্রায় ৪৫০ ফুট গভীর খাদে ফেলে দেওয়া হয়।

তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, এই হত্যাকাণ্ডের আগে অন্তত দু’বার কেতনকে খুনের চেষ্টা করা হয়েছিল। কয়েক দিন আগেও সিয়া কেতনকে একই দুর্গে ট্রেকিংয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। সেই সময়ও তাঁকে খুনের পরিকল্পনা ছিল বলে সন্দেহ তদন্তকারীদের। তবে তখন অভিযুক্তরা সফল হতে পারেননি।

কেতনের পরিবার বিয়ের জন্য জোরকদমে প্রস্তুতি নিচ্ছিল। উদয়পুরে একটি প্রাসাদ ভাড়া করা হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে, যেখানে জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের আয়োজনের পরিকল্পনা ছিল। পাশাপাশি, জুন মাসের শুরুতে প্রি-ওয়েডিং ফটোশুটের জন্য ইন্দোনেশির বালিতে যাওয়ারও কথা ছিল কেতন ও সিয়ার। কিন্তু শেষ মুহূর্তে কেতনের পাসপোর্ট খুঁজে পাওয়া যায়নি এবং সেই সফর বাতিল হয়ে যায়।

তদন্তকারীদের দাবি, কেতন পাসপোর্ট হারাননি। বরং তাঁকে বালিতে যেতে বাধা দেওয়ার উদ্দেশ্যে সেটি লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। পুলিশ মনে করছে, বিদেশ সফর ভেস্তে দিয়ে লোহাগড় দুর্গে নিয়ে গিয়ে কেতনকে খুনের পরিকল্পনাই ছিল অভিযুক্তদের লক্ষ্য।

প্রথমে কেতনের মৃত্যু দুর্ঘটনা বলে মনে হলেও তদন্তকারীরা সিয়ার বয়ানে একাধিক অসঙ্গতি খুঁজে পান। এরপর তাঁর ফোন, কল রেকর্ড, সমাজমাধ্যমে যোগাযোগ এবং অন্যান্য গতিবিধি খতিয়ে দেখে চেতনের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়টি সামনে আসে। পরে দু’জনকে পৃথকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ হত্যার সম্ভাব্য ষড়যন্ত্র সম্পর্কে নিশ্চিত হয় বলে দাবি করেছে।

অন্যদিকে, চেতনের আইনজীবী আদালতে দাবি করেছেন, তাঁর মক্কেল নির্দোষ এবং তাঁকে মিথ্যা মামলায় জড়ানো হয়েছে। নিহত কেতনের পরিবার অবশ্য শুরু থেকেই ঘটনাটিকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করে আসছে এবং তাঁদের অভিযোগ, গোটা ঘটনাই পূর্বপরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের ফল।

শুধু হজম শক্তি বাড়িয়ে দেয় না, জোয়ান খেলে শরীরের অনেক সমস্যা নিবারণ হয় মুখরোচক বাদাম চিক্কি খেতে দারুন, বাড়িতেই তৈরী হবে, জানুন রেসিপি এইভাবে তেজপাতা পোড়ালে দুশ্চিন্তা কেটে যাবে 5 Best Night Creams ৪ মাসের শিশু ২৪০ কোটির মালিক